শেয়ার বাজার

প্রতিবেশী দেশে ইসলামবিদ্বেষ ঠেকাতে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান শাহবাজের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রতিবেশী দেশে ইসলামবিদ্বেষ ঠেকাতে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান শাহবাজের

পাকিস্তানের আশপাশের অঞ্চলে ইসলামবিদ্বেষের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা রোধে কার্যকর বৈশ্বিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সাধারণ পরিষদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই জোরালো তাগিদ দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই আলোচনার বিষয়বস্তু গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকে শাহবাজ শরিফ বিশেষ করে পাকিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইসলামোফোবিয়ার বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এই ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা বিশ্ব শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে এবং তা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে জাতিসংঘ সম্প্রতি ১৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক ইসলামোফোবিয়া প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে।

বৈঠকটিতে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়েও খোলামেলা আলোচনা করেন দুই নেতা। ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং তাদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবির প্রতি পাকিস্তান সবসময় দৃঢ় সমর্থন জানিয়ে আসছে বলে পুনর্ব্যক্ত করেন শাহবাজ। এছাড়া বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে যেকোনো ধরনের আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনীতি ও সংলাপের পথ বেছে নেওয়ার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মধ্যে ওই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় পাকিস্তান তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক শান্তি বজায় রাখা এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। অন্যদিকে, জাতিসংঘে পাকিস্তানের গঠনমূলক ভূমিকা এবং আঞ্চলিক সংঘাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেশটির অবদানের কথা উল্লেখ করে পাকিস্তানের প্রশংসা করেন বিদায়ী মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

জন্মদিন পালনের আয়োজন করে কেক-মোটরসাইকেল ফেলে পালাল নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতাকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জন্মদিন পালনের আয়োজন করে কেক-মোটরসাইকেল ফেলে পালাল নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতাকর্মীরা

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সম্প্রতি উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের দক্ষিণ দড়িকান্দি জোড়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। বড়কান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে একটি ফাঁকা সড়কে এই কেক কাটার আয়োজন করা হয়েছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আয়োজক ও সেখানে জড়ো হওয়া ব্যক্তিরা দ্রুত পালিয়ে যান, ফলে কেক কাটার আগেই পুরো অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়।

পুলিশ সূত্র জানায়, ওই স্থানে প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন নেতাকর্মী জড়ো হয়ে কেক কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। জাজিরা থানা পুলিশের একটি নিয়মিত টহল দল সেখানে পৌঁছালে বিশৃঙ্খলা এড়াতে ও নিজেদের রক্ষায় তারা পালিয়ে যাওয়ার পথ বেছে নেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাউকে আটক করতে না পারলেও পড়ে থাকা বিভিন্ন আলামত জব্দ করে। এই আকস্মিক অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের তৎপরতা সাময়িকভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন।

ঘটনাস্থল তল্লাশি করে পুলিশ একটি আস্ত কেক এবং পাঁচটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে জব্দকৃত মোটরসাইকেলগুলোর প্রকৃত মালিক কে কিংবা ঘটনার সময় কারা সেগুলো ব্যবহার করছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া যানগুলোর রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে মালিকদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে নড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ জানান, কেক কাটার প্রস্তুতির খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে একটি কেক ও পাঁচটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। এই পুরো ঘটনার বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং জড়িতদের ধরতে পুলিশ সজাগ রয়েছে।


চুরির অভিযোগে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা বাবা, মুখে রুটি তুলে দিচ্ছিল ছোট্ট মেয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চুরির অভিযোগে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা বাবা, মুখে রুটি তুলে দিচ্ছিল ছোট্ট মেয়ে

বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় চুরির মিথ্যা অভিযোগে এক বাবাকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার চরম অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, অসহায় ওই বাবার মুখ দিয়ে খাওয়ার মতো পরিস্থিতি না থাকায় তাঁর ছোট্ট শিশু মেয়েটি পরম যত্নে নিজ হাতে মুখে রুটি তুলে খাওয়াচ্ছে। এমন মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে সাধারণ মানুষ হতবাক ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি উজিরপুর এলাকায় দিনমজুর ওই ব্যক্তিকে কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়ায় না গিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা চুরির অপবাদ দেন। এরপর তাকে একটি গাছের বা ঘরের খুঁটির সঙ্গে প্রকাশ্য দিবালোকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। বিচারের নামে এই ধরনের অমানবিক নির্যাতন চালানোর সময় উৎসুক জনতা ভিড় করলেও কেউ তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেননি। বরং এই দৃশ্য ভিডিও করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সেই দৃশ্যটি দেখে বিবেকবান মানুষের হৃদয়ে গভীর রক্তক্ষরণ হয়েছে, যেখানে একজন অবুঝ শিশু তার নির্যাতিত বাবার মুখে খাবার তুলে দিচ্ছে। অপরাধ প্রমাণ হওয়ার আগেই প্রকাশ্য রাজপথে এভাবে একজন মানুষকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে হেনস্তা করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এমন বর্বরোচিত আচরণ করার অধিকার কারো নেই বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন নাগরিকরা।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে বলে জানা গেছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে এবং ঘটনার নেপথ্যে থাকা দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই অমানবিক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।


আতঙ্কে কয়েক হাজার মানুষ
দোয়ারাবাজারে সুরমার গ্রাসে মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে ইদনপুর-আজমপুর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬ মে, ২০২৬

দোয়ারাবাজারে সুরমার গ্রাসে মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে ইদনপুর-আজমপুর

মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী

​সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা নদীর দক্ষিণ পাড়ে শুরু হয়েছে প্রকৃতির ভয়াবহ তাণ্ডব। রাক্ষুসী সুরমার করাল গ্রাসে মানচিত্র থেকে ক্রমশ বিলীন হতে চলেছে ইদনপুর ও আজমপুর সহ কয়েকটি গ্রাম। প্রতিদিন নদীর পেটে যাচ্ছে ফসলি জমি, ভিটেমাটি আর স্মৃতিবিজড়িত ঘরবাড়ি।

একদিকে সুরমার ভাঙন, অন্যদিকে নোয়াগাঁও খালের তীব্র ভাঙন— এই দুইয়ের সাঁড়াশি আক্রমণে এখন দিশেহারা কয়েক হাজার মানুষ। আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায় নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর।

​সরেজমিনে দেখা যায়, সুরমা নদীর পাড়জুড়ে শুধু দীর্ঘশ্বাস। চোখের পলকেই নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের সারা জীবনের সম্বল। আবাদি জমি নদী গিলে ফেলায় প্রান্তিক কৃষকরা এখন ভূমিহীন হওয়ার পথে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা আসার আগেই ভাঙন তীব্র হয়, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান আজও মেলেনি।

​ইদনপুর গ্রামের মাস্টার নজির উদ্দিন ভাঙনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে বলেন, 'আমাদের চোখের সামনে দুটি গ্রাম ছোট হয়ে আসছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ইদনপুর ও আজমপুর গ্রামের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। '

​একই আর্তনাদ শোনা গেল আজমপুর গ্রামের সিরাজ মিয়ার কণ্ঠে। তিনি বলেন, 'নদী তো শুধু মাটি নেয় না, আমাদের স্বপ্নগুলোও নিয়ে যাচ্ছে। বাড়িঘর সরিয়ে নেওয়ার মতো জায়গাও এখন আর অবশিষ্ট নেই।'

​শুধু সুরমা নদী নয়, মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে নোয়াগাঁও খালের ভাঙন। এই খালের ভাঙনে ইদনপুরসহ দক্ষিণ পাড়ের বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে রয়েছেন। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে ড্রেজার দিয়ে এই খালে মাটি ভরাট করা এবং সুরমা নদীর পাড় রক্ষায় পরিকল্পিত ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি।

​ইদনপুরের বাসিন্দা এখলাছুর রহমান রাজু ক্ষোভ ও আর্তি নিয়ে জানান নোয়াগাঁও খালের ভাঙন আমাদের আরও বেশি অসহায় করে তুলেছে। নদী আর খালের মাঝখানে আমরা যেন এক চিলতে দ্বীপে বন্দি হয়ে আছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।' 

​এলাকাবাসী তাদের এই মানবিক বিপর্যয় থেকে বাঁচতে ছাতক-দোয়ারাবাজার আসনের সংসদ সদস্য ও জননেতা কলিমউদ্দিন আহমেদ মিলনের দ্রুত সুদৃষ্টি ও ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একইসাথে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) সাদ্দাম হোসেন জানান,

​'আমরা ভাঙনের তীব্রতা সম্পর্কে অবগত আছি। ইদনপুর ও আজমপুর এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি এবং নদী ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। বরাদ্দ ও নির্দেশনা পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।'

​তবে সরকারি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে দ্রুত কাজ শুরু না হলে, নদীপাড়ের এই প্রাচীন জনপদগুলো কেবল ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নেবে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। দোয়ারাবাজারের এই বিপন্ন মানুষের এখন একটাই চাওয়া— ভিটেমাটি আঁকড়ে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা।