জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একুশতম অধিবেশনে অংশ নিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরের অংশ হিসেবে তিনি নিউইয়র্কে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বিন আবদুল্লাহ আল সৌদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। জাতিসংঘ সদরদপ্তরের নির্ধারিত দ্বিপক্ষীয় কক্ষে সম্প্রতি এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। দুই দেশের শীর্ষপর্যায়ের এই সাক্ষাতে ঢাকা ও রিয়াদের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এ কে এম নাজমুল হক এই বৈঠকের সার্বিক বিষয়বস্তু গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে বাংলাদেশ এবং সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো প্রসারিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং যৌথ উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অংশীদারিত্ব জোরালো করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন। এছাড়া পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও দুই দেশের প্রতিনিধিরা খোলামেলা মতবিনিময় করেছেন।
আলোচনাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সৌদি বিনিয়োগ এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিভিন্ন সম্ভাব্য দিক তুলে ধরেন। জবাবে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যকার অংশীদারিত্বের সম্পর্ক আগামী দিনে আরও উঁচুতলায় নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। রিয়াদ ও ঢাকার পারস্পরিক সম্প্রীতি ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে বলে বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবের এই যোগাযোগ ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বৈঠকের শেষাংশে উভয় দেশের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়।








