শেয়ার বাজার

পাকিস্তান থেকে জাহাজে এবার যা যা এসেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৪

পাকিস্তান থেকে জাহাজে এবার যা যা এসেছে

দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তান থেকে সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে কনটেইনারবাহী জাহাজ ‘এমভি ইউয়ান জিয়াং ফা ঝং’। এবার জাহাজটিতে চিনি, আখের গুড়, ডলোমাইট, সোডা অ্যাশ, থ্রি-পিস, খেজুর ছাড়াও নানান ধরনের পণ্য এসেছে।

এসব পণ্যের ৮৬ শতাংশই পাকিস্তান থেকে এসেছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিশোধিত চিনি ও খনিজ পদার্থ ডলোমাইট।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে কনটেইনারবাহী জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। গত ১১ ডিসেম্বর পাকিস্তানের করাচি বন্দর থেকে ৮১১ টিইইউস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একক) কনটেইনার নিয়ে জাহাজটি রওনা দেয়।

এই জাহাজটিই সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়ে প্রথমে পাকিস্তান এবং পরে ৩৭০টিইইউস কনটেইনার নিয়ে গত ১১ নভেম্বর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে। সেসময় জাহাজটির বিভিন্ন কনটেইনারে সোডা অ্যাশ, ডলোমাইট চুনাপাথর, ম্যাগনেশিয়াম ভাঙা কাচ, কাঁচামাল কাপড়, রং, গাড়ির যন্ত্রাংশ, পেঁয়াজ, আলু, খেজুর, জিপসাম, পুরোনো লোহার টুকরা, মার্বেল ব্লক, কপার ওয়্যার, রেজিন এবং মাদক হুইস্কি, ভদকা ও ওয়াইন ছিল। ১২ নভেম্বর জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দর ত্যাগ করে। ওইসময় তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বেশ শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। ফের সেই একই জাহাজ করাচি থেকে চট্টগ্রামে এসেছে দ্বিগুণেরও বেশি পণ্য নিয়ে। যদিও এর আগে পাকিস্তান থেকে চট্টগ্রামে পণ্য আনা-নেওয়া হতো তৃতীয় কোনো বন্দরের মাধ্যমে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাহাজটি কনটেইনার খালাস ও খালি কনটেইনার লোড করার জন্য বন্দরের এনসিটি জেটিতে দুদিন অবস্থান করবে। কাজ শেষে যাওয়ার পথে চট্টগ্রাম থেকে ইন্দোনেশিয়ার বন্দরের জন্য ৪০০ টিইইউ’স (২০ ফুট দীর্ঘ হিসাবে) এবং মালয়েশিয়ার বন্দরের জন্য ৬০০ টিইইউ’স খালি কনটেইনার নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

জাহাজটিতে এবার আরব আমিরাত ও পাকিস্তান থেকে আনা হয়েছে ৮১১ একক কনটেইনার পণ্য। যা জাহাজটির প্রথম ট্রিপের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। এর মধ্যে ৬৭৮ একক কনটেইনার পণ্যই এসেছে পাকিস্তান থেকে। দেশটি থেকে এবার সবচেয়ে বেশি এসেছে পরিশোধিত চিনি ও খনিজ পদার্থ ডলোমাইট।

পাকিস্তান থেকে এবার ২৮৫ কনটেইনারে ১ লাখ ৪৮ হাজার ২০০ ব্যাগ চিনি আনা হয়েছে। যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৭ হাজার টন।

কাঁচশিল্পে ব্যবহারের জন্য চিনির পর পাকিস্তান থেকে সবচেয়ে বেশি আনা হয়েছে ডলোমাইট। এবার ১৭১ কনটেইনারে ডলোমাইট আমদানি হয়েছে। এই কাঁচামাল এনেছে নাসির ফ্লোট গ্লাস ও আকিজ গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ। পাকিস্তান থেকে আমদানি হওয়া আরেকটি পণ্য হলো সোডা অ্যাশ। এই পণ্য আমদানি হয়েছে ১৩৮ কনটেইনারে। শিল্পে ব্যবহারের এই কাঁচামাল এনেছে নাসির ফ্লোট গ্লাসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

এছাড়া শতভাগ রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাগুলো এনেছে কাপড়ের রোল। মোট ৪৬টি কনটেইনারে রয়েছে কাপড়ের রোল। আলু আমদানি হয়েছে ১৮ একক কনটেইনারে। এছাড়া জয়পুরহাটের পিঅ্যান্ডপি ট্রেডিং ২০ কনটেইনারে আখের গুড় এনেছে। এসব পণ্যের পাশাপাশি পুরোনো লোহার টুকরা, রেজিন, থ্রি-পিস ইত্যাদি পণ্য আমদানি হয়েছে।

পাকিস্তান ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আনা হয়েছে খাদ্যপণ্য, খেজুর, লুব অয়েল, যন্ত্রাংশ ইত্যাদি। পাকিস্তানের পাশাপাশি আমিরাত থেকেও ১০ কনটেইনার চিনি আমদানি হয়েছে।

‘এমভি ইউয়ান জিয়াং ফা ঝং’ জাহাজটির স্থানীয় প্রতিনিধি কর্ণফুলী লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রিজেনসি লাইনস লিমিটেড এই সংস্থার বাংলাদেশে স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে যুক্ত হয়েছে। দুবাই ভিত্তিক কনটেইনার জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা ফিডার লাইনস ডিএমসিসি দুবাই-করাচি-চট্টগ্রাম-মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়া-ভারত-দুবাই রুটে ‘এমভি ইউয়ান জিয়াং ফা ঝং’ জাহাজটি চালু করেছে।

কর্ণফুলী লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক আনিস উদ দৌলা বলেন, জাহাজটিতে প্রথমবারের তুলনায় এবার দ্বিগুণ কনটেইনার এসেছে। সরাসরি জাহাজটি আসায় সময় কয়েকদিন কম লাগছে। এতে ব্যবসায়ীদের খরচ সাশ্রয় হচ্ছে।

শিপিং এজেন্ট, বন্দর ব্যবহারকারী ও আমদানিকারকদের মতে, দুবাই-করাচি-চট্টগ্রাম রুটে সরাসরি কনটেইনার জাহাজ চালু হওয়ায় মেরিটাইমে গুরুত্বপূর্ণ দুই বিবেচ্য বিষয় ‘ভাড়া’ ও ‘সময়’ সাশ্রয় হচ্ছে। পাকিস্তান থেকে এত দিন শ্রীলঙ্কা বা সিঙ্গাপুর হয়ে চট্টগ্রামে পণ্য আমদানি হতো। তাতে এসব কনটেইনার একবার এসব বন্দরে নামানো হতো। আবার চট্টগ্রামমুখী জাহাজে তুলে দেওয়া হতো। এতে সময় লাগতো বেশি। এখন সরাসরি জাহাজসেবা চালুর কারণে ১০ দিনে পণ্য হাতে পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

নতুন ইতিহাস সৃষ্টির পরপরই বড় পতনে সোনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯ ডিসেম্বর, ২০২৩

নতুন ইতিহাস সৃষ্টির পরপরই বড় পতনে সোনা

বার্তাবেলা: বিশ্ববাজারে প্রথমবারের মতো এক আউন্স সোনার দাম দুই হাজার ১০০ ডলার স্পর্শ করে সপ্তাহে। সোনার দামে নতুন ইতিহাস সৃষ্টির পর অবশ্য সেই দাম ধরে রাখতে পারেনি এ ধাতুটি। রেকর্ড সৃষ্টির পর বড় পতনের মধ্যে পড়েছে সোনা। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ধাতুটির দাম প্রায় ৭০ ডলার কমেছে।

বিশ্ববাজারের মতো দেশের বাজারেও সোনার দামে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা গেছে। ফলে দেশের বাজারেও সোনার দামে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। অবশ্য কয়েক দফা দাম বাড়ার পর গত সপ্তাহে দেশের বাজারে সোনার দাম কিছুটা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। তবে, বিশ্ববাজারে যে হারে দাম কমেছে দেশের বাজারে দাম কমার হার সেই তুলনায় কম।

বিশ্ববাজারের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহের লেনদেন শুরু হওয়ার আগে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ২ হাজার ৭১ দশমিক ৯৭ ডলার। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস ৪ ডিসেম্বর লেনদেন শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রতি আউন্স সোনার দাম রেকর্ড ২ হাজার ১২৪ দশমিক ৭৩ ডলারে ওঠে। সোনার এত দাম আর আগে বিশ্ববাসী দেখেনি।

অবশ্য এ রেকর্ড দাম হওয়ার পরপরই পতনের মধ্যে পড়ে সোনা। ওই দিনই প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে ২ হাজার ২১ ডলারে চলে আসে। অর্থাৎ একদিনেই সোনার দাম ১০০ ডলারের ওপর কমে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। একদিনের মধ্যে সোনার দামে এমন উত্থান-পতনও আগে কখনো দেখা যায়নি।

সোনার দামের এমন উত্থান-পতন বিস্মিত করেছে এ খাত সংশ্লিষ্টদের। তারা বলছেন, দাম বাড়বে এবং কমবে এটা স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু একদিনের মধ্যে এক আউন্স সোনার দাম প্রায় ১০০ ডলার বেড়ে যাওয়া এবং কমে যাওয়ার ঘটনা আগে দেখা যায়নি। সাধারণত দাম বাড়া বা কমার পেছনে কোনো না কোনো ঘটনা থাকে। কিন্তু এবার কি কারণে এমন দাম বাড়লো এবং কি কারণেই দরপতন হলো তার কোনো কারণ খুঁছে পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান এম এ হান্নান আজাদ জাগো নিউজকে বলেন, গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পরপরই এক আউন্স সোনার দাম ২ হাজার ১২৪ ডলারে ওঠে। সোনার এত দাম আগে কখনো হয়নি। কিন্তু এ রেকর্ড দামের পরই আমরা আবার বড় দরপতন দেখতে পাই। একদিনের মধ্যে প্রতি আউন্স সোনার দাম ১০০ ডলার কমে যায়। সোনার দামে এমন অস্থিরতা আগে দেখা যায়নি। এতে আমরা বিস্মিত হয়েছি।

তিনি বলেন, অতীতে আমরা দেখেছি যখন সোনার দাম বেড়েছে বা কমেছে তার পেছনে কোনো না কোনো কারণ আছে। কিন্তু এবার কেন সোনার এত দাম বাড়লো, আবার কেনই বা কমলো তার কোনো কারণ জানতে পারেনি। এটা শুধু আমাদের বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের নয়, অন্য দেশের বিনিয়োগকারীদেরও বিস্মিত করেছে।

এদিকে একদিনে বড় উত্থান পতনের পর গত সপ্তাহের বাকি চার কর্যদিবসেও সোনার দাম কিছুটা অস্থিরতা দেখা গেছে। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শুক্রবার লেনদেনের একপর্যায়ে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে ১ হাজার ৯৯৫ ডলারে চলে আসে। তবে শেষদিকে কিছুটা দাম বেড়ে ২ হাজার ৩ দশমিক ৯৪ ডলারে থিতু হয়েছে সোনা।

এতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমেছে ৬৮ দশমিক শূন্য ৩ ডলার বা ৩ দশমিক ২১ শতাংশ। এর মধ্যে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসেই কমেছে ২৪ ডলার বা ১ দশমিক ১৮ শতাংশ।

বিশ্ববাজারে অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পর বড় পতন হওয়ায় দেশের বাজারে গত সপ্তাহের সোনার দাম কিছুটা কমিয়েছে বাজুস। বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং গত ৬ ডিসেম্বর বৈঠক করে ৭ ডিসেম্বর থেকে দেশের বাজারে সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করে।

ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৭৫০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৮ হাজার ১২৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩ হাজার ২২৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে ৮৮ হাজার ৪৭১ এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ২২৫ টাকা কমিয়ে ৭৩ হাজার ৭১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের বাজারে এ দামেই সোনা বিক্রি হচ্ছে।

অবশ্য সোনার গহনা কিনতে ক্রেতাদের এর থেকে বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে। কারণ বাজুস নির্ধারণ করা দামের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ করে সোনার গহনা বিক্রি করা হয়। সেইসঙ্গে ভরিপ্রতি মজুরি ধরা হয় ন্যূনতম ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা। ফলে আগামীকাল থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনা কিনতে ক্রেতাদের ১ লাখ ১৭ হাজার ৩০ টাকা গুনতে হতো।

এ দাম কমানোর আগে ৩০, ২৭, ১৯ ও ৬ নভেম্বর এবং ২৭ অক্টোবর সোনার দাম বাড়ানো হয়। অর্থাৎ টানা পাঁচ দফা দাম বাড়ানোর ঘটনা ঘটে। এতে দেশের বাজারে সোনার দামে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়। ৩০ নভেম্বর সব থেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৯ হাজার ৮৭৫ টাকা।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৪ হাজার ৮৫৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা বাড়িয়ে ৮৯ হাজার ৯২৯ এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ২২৫ টাকা বাড়িয়ে ৭৪ হাজার ৯৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়। দেশের বাজারে এর থেকে বেশি দামে আর সোনা বিক্রি হয়নি।

বিশ্ববাজারে সোনার দাম বড় পতন হওয়ায় এখন দেশের বাজারে কি ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানতে চাইলে এমএ হান্নান আজাদ বলেন, সর্বশেষ আমরা যখন দাম সমন্বয় করেছি সে সময় স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার যে দাম ছিল এখনো প্রায় তাই রয়েছে। আমরা আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় বাজারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছি। আমরা সোমবার বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি দেখবো। যদি দাম সমন্বয়ের মতো হয়, তাহলে দাম সমন্বয় করা হবে।


ডিমের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ডিমের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

ডিমের বাজারে কৃত্রিম সংকট, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ও অতিরিক্ত মুনাফা পরিহার করার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সম্প্রতি সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ডিমের উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই আহ্বান জানান। সাধারণ মানুষের কাছে ডিম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য হওয়ায় এর দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়লে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি হয়। উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে যৌক্তিক মুনাফা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের তাগিদ দেন তিনি।

সভায় ব্যবসায়ীরা জানান যে সাম্প্রতিক সময়ে ভুট্টা ও সয়াবিনসহ পোলট্রি খাদ্যের বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতি ডিমের উৎপাদন ব্যয় প্রায় ১১ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে উৎপাদক পর্যায়ে প্রতি ডিমের গড় বিক্রয়মূল্য ৭ টাকা ৯১ পয়সা থাকলেও সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে প্রায় ১১ টাকা ৩০ পয়সায় দাঁড়ায়। বছরের একটি বড় সময় উৎপাদন খরচের নিচে ডিম বিক্রি করতে হলেও দাম বাড়ার সময়টিই সাধারণত বেশি আলোচনায় আসে। উৎপাদক থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে সাধারণত দেড় থেকে দুই টাকা পর্যন্ত মূল্য সংযোজন হয়ে থাকে বলে তারা উল্লেখ করেন।

মৌসুমি দামের ওঠানামা কমাতে অতিরিক্ত উৎপাদনের সময় এক থেকে দেড় মাস ডিম সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি পোলট্রি খাদ্যের উপকরণের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, করের চাপ কমানো, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং তথ্য প্রকাশের সুপারিশ করেন তারা। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ডিমের দাম কমে আসবে বলে ব্যবসায়ীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মন্ত্রীর মতে, ব্যবসার নামে অস্বাভাবিক মুনাফা করা কিংবা সরবরাহ ব্যবস্থায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করার কোনো সুযোগ নেই।

ব্যবসায়ীদের উত্থাপিত যৌক্তিক সমস্যা ও সুপারিশগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তবে বাজারে কোনো পক্ষ যেন সুযোগ নিয়ে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো উৎপাদকদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি, ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক মুনাফা এবং ভোক্তাদের সহনীয় দামে ডিম কেনা নিশ্চিত করা। বাজারে কৃত্রিম সংকট বা অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো তা পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।


উৎপাদন খরচ বৃদ্ধিতে রাজবাড়ীর কৃষকদের মাঝে ফসলের ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

উৎপাদন খরচ বৃদ্ধিতে রাজবাড়ীর কৃষকদের মাঝে ফসলের ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কা

রাজবাড়ী জেলার কৃষকেরা মাঠে ফসল ফলানোর খরচ বৃদ্ধি পাওয়া এবং বিক্রির সময় সঠিক দাম না পাওয়া নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। পদ্মা নদীর পলিমাটিতে উর্বর এই অঞ্চলে ধান, পাট ও বিভিন্ন সবজি আবাদ করা হলেও সম্প্রতি সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়েছে। কৃষকদের দাবি অনুযায়ী, জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে সেচ ও শ্রমিকের মজুরি পর্যন্ত প্রতিটি ধবেই বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

চলতি মৌসুমে জেলার বিস্তীর্ণ মাঠে প্রায় ৫২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান এবং তিনশ হেক্টরের বেশি জমিতে আগাম সবজির আবাদ করা হয়েছে। তবে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বিশ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেচ ও চাষাবাদের খরচ সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনের সময় সার ও কীটনাশক সময়মতো না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন অনেক কৃষক।

একজন নারী কৃষক তাঁর বক্তব্যে জানান, সার, কীটনাশক, শ্রমিক ও জ্বালানির চড়া দামের কারণে এ বছর খরচ অনেক বেশি হচ্ছে অথচ বিক্রির সময় তাঁরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি সরকারের কাছে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। কৃষকদের মতে, উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজারদর না পেলে তাঁরা পরবর্তী সময়ে চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন।

অন্যদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে রাজবাড়ীতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ইউরিয়া, ডিএপি, পটাশ ও টিএসপি সার মজুত রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. শহিদুল ইসলাম জানান, মাঠপর্যায়ে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে এবং কিছু এলাকায় উচ্চমূল্যে সার বিক্রির ঘটনায় ইতিমধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের ক্যাশ মেমোর মাধ্যমে সার কেনার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

সব মিলিয়ে কৃষি বিভাগের নজরদারি সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ের কৃষকদের বড় উদ্বেগ রয়ে গেছে উৎপাদন খরচ ও বাজারদর নিয়ে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো এবং কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ফসল ক্রয়ের ব্যবস্থা করা হলে তাঁরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।