শেয়ার বাজার

অসুস্থতার কথা বলে কক্ষে যাওয়ার পর মাদ্রাসাছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অসুস্থতার কথা বলে কক্ষে যাওয়ার পর মাদ্রাসাছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় নিজ বাড়ি থেকে তাসফিয়া খানম ইভা (১৫) নামের নবম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সম্প্রতি সন্ধ্যার দিকে উপজেলার বারশত ইউনিয়নের দুধকুমড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত তাসফিয়া ওই এলাকার মোহাম্মদ ইসমাইলের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল। আকস্মিক এই মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে তাসফিয়া অসুস্থতার কথা বলে নিজের শোবার ঘরে প্রবেশ করে। দীর্ঘ সময় ধরে ঘরের ভেতর থেকে কোনো সাড়াশ শব্দ না পেয়ে তার মা কৌতূহলী হয়ে দরজায় গিয়ে ডাকাডাকি শুরু করেন। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মেয়েটির মরদেহ ঝুলতে দেখতে পান।

প্রিয় সন্তানের এমন আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না শোকস্তব্ধ পরিবারের সদস্যরা। তাৎক্ষণিকভাবে তারা বিষয়টি স্থানীয় লোকজনকে জানান এবং পরবর্তীতে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। পুলিশ পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রাথমিক বিবরণ সংগ্রহ করে।

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। এই অপ্রীতিকর মৃত্যুর ঘটনায় থানায় আইনগত প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

জাতিসংঘ সফর শেষে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জাতিসংঘ সফর শেষে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের একষট্টিতম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশের পথে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার উদ্দেশ্যে তাঁর এই পাঁচ দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। এই সফরে তাঁর সঙ্গী ছিলেন সরকারের উচ্চপর্যায়ের বেশ কজন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদলের সদস্যবৃন্দ। সফরসূচি অনুযায়ী সকল কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করার পর তিনি এখন ঢাকার উদ্দেশ্যে আকাশপথ অতিক্রম করছেন।

নিউইয়র্কে অবস্থানকালে জাতিসংঘের মূল অধিবেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও পার্শ্বসৈনিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে দেশের সমসাময়িক অর্জন, গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা এবং বৈশ্বিক নানা সংকট মোকাবিলারে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তাঁর বাংলায় দেওয়া ভাষণ প্রবাসী বাঙালি ও দেশের জনগণের মধ্যে দারুণ উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।

এই সফরে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওইসব বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। বিশ্বনেতাদের সঙ্গে এই ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিউইয়র্কের ব্যস্ত কর্মসূচি ও কূটনৈতিক ব্যস্ততা সফলভাবে শেষ করে প্রধানমন্ত্রীর বহনকারী বিমানটি নির্ধারিত সময়েই ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ করা গেছে। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সরকারি বাসভবনে ফিরে তিনি দেশের চলমান প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে পুনরায় কাজ শুরু করবেন বলে জানা গেছে।


যুক্তরাষ্ট্র সব প্রস্তাব মানলেও পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেবে না ইরান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র সব প্রস্তাব মানলেও পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেবে না ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পক্ষ থেকে উত্থাপিত সব শর্ত ও দাবি মেনে নিলেও নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে পিছু হটবে না তেহরান। সম্প্রতি দেশটির পক্ষ থেকে এমন কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। মূলত দেশের পরমাণু প্রকল্পের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস না করার নীতিতে অটল রয়েছে বর্তমান ইরানি প্রশাসন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন তেহরানের সব শর্ত ও দাবি পূরণ না করা পর্যন্ত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই জলপথটি ঘিরে দুই দেশের মধ্যকার চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

পারমাণবিক সমঝোতা পুনরুজ্জীবনের প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। তবে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার সংকট এবং কঠোর শর্তের বেড়াজালে মূল চুক্তি বাস্তবায়ন বারবার হোঁচট খাচ্ছে। তেহরান শুরু থেকেই তাদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার অধিকারের ওপর জোর দিয়ে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার মতো কঠোর হুশিয়ারি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় পরিস্থিতি নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করলেও দুই পক্ষই নিজেদের দাবিতে অনড় রয়েছে। ফলে নিকট ভবিষ্যতে এই বিরোধ মীমাংসার কোনো সহজ পথ দেখা যাচ্ছে না।


পিকলবল খেলে ১৩ বছরের কিশোরীর বিশ্বভ্রমণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পিকলবল খেলে ১৩ বছরের কিশোরীর বিশ্বভ্রমণ

খেলার মাঠে নতুন উন্মাদনা সৃষ্টি করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছে পিকলবল। এই খেলায় দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে মাত্র তেরো বছর বয়সেই বিশ্বভ্রমণের সুযোগ করে নিয়েছে তরুণী এলসি ওয়াটার্স। ১৬-অনূর্ধ্ব জুনিয়র টুর্নামেন্টে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে সে এখন খবরের শিরোনামে। তার এই অবিশ্বাস্য সাফল্যে অনুপ্রাণিত হচ্ছে বিশ্বের অনেক উদীয়মান ক্রীড়াবিদ।

খেলার প্রতি এলসির নিবেদন ও কঠোর পরিশ্রম তাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। প্রতিদিন অত্যন্ত ভোরে ঘুম থেকে উঠে নিজের সকালের নাশতা নিজেই তৈরি করে সে। এরপর আর সময় নষ্ট না করে সরাসরি অনুশীলনে নেমে পড়ে। তার এই আত্মবিশ্বাস ও শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন খেলাধুলার প্রতি তার গভীর ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।

এলসির এই সাফল্যের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালে। সে সময় মাত্র বারো বছর বয়সে সে আনুষ্ঠানিকভাবে এই খেলায় পা রাখে। শুরুর দিকে পিকলবলের সামগ্রিক পরিবেশ বেশ অগোছালো ছিল এবং প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া খেলোয়াড়েরা মূলত শখের বসেই খেলতেন। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে খেলাটি পেশাদার রূপ নেয় এবং এলসিও নিজের দক্ষতাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।

শখের খেলোয়াড়দের মাঝ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করা এক দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প। কঠোর অনুশীলন এবং অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সে আজ বিশ্বমঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করেছে। কিশোরী এলসির এই জয়রথ ভবিষ্যতে তাকে আরও বহুদূর নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।