শেয়ার বাজার

নিখোঁজের ছয় দিন পর নারীর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার, সাবেক স্বামী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিখোঁজের ছয় দিন পর নারীর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার, সাবেক স্বামী আটক

নেত্রকোনা সদর উপজেলায় রহস্যজনক নিখোঁজের প্রায় এক সপ্তাহ পর মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ওই নারীর নাম নাজু আক্তার এবং তাঁর বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। ঘটনার দীর্ঘ ছয় দিন পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঢুকিয়ালি নদের পাড় থেকে তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাজু আক্তার গত কয়েক দিন ধরে সম্পূর্ণ নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান মেলাতে পারেননি। পরবর্তীতে নিখোঁজের বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশকে অবহিত করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে এবং নিখোঁজের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চালায়।

তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে নাজু আক্তারের সাবেক স্বামীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঢুকিয়ালি নদের পাড় এলাকায় তল্লাশি চালায়। সেখানে মাটি খুঁড়ে নাজু আক্তারের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটনের জন্য আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এটি পূর্ব শত্রুতা নাকি পারিবারিক কলহের জেরে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে আসলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।

মিরপুরে পঙ্গ সাঈদের ক্ষতিপূরণের পাওনা টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ।

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ মার্চ, ২০২৪

মিরপুরে পঙ্গ সাঈদের ক্ষতিপূরণের পাওনা টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ।

কুষ্টিয়া মিরপুর প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার মিরপুরে বিদ্যুৎ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভুল তথ্যে বৈদ্যুতিক শকে দুই হাত হারানো  পঙ্গু সাঈদের ক্ষতিপূরণের পাওনা টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে। 

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার  বহলবাড়িয়া ইউনিয়নের সাহেবনগর গ্রামের মিলন মালিথার ছেলে সাঈদ আহম্মেদ (২৪) গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে একই উপজেলা বহলবাড়িয়া গ্রামের সাহাবুলের ছেলে বিদ্যুৎ এর সাথে বিদ্যুৎ বিভাগের কন্ট্রাক্টর অপুর মালিকানাধীন নোভায়ন কোম্পানীতে মাসে ১৯ হাজার টাকা বেতনে চাকরির উদ্দেশ্যে  চট্টগ্রামের কুতুবদিয়া এলাকায় যায় এবং  সাঈদ আহাম্মেদ  তার সুপারভাইজার বিদ্যুৎ এর হুকুম মোতাবেক সব কাজ করতে থাকেন।

গত বছর ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে সুপারভাইজার বিদ্যুৎ সাঈদকে কুতুবদিয়া এলাকার একটি বৈদ্যুতিক লাইন মেরামতের জন্য খাম্বায় তুলে দেন এবং জানান যে কাজের জন্য এখন বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করা আছে কিন্তু ঐ সময় বৈদ্যুতিক সংযোগ চালু থাকায় বিদ্যুতের খাম্বায়  উঠার সাথে সাথে সাঈদ আহমদ বিদ্যুতের শখ খেয়ে বিদ্যুতের লাইনের তারের সাথে ঝুলতে থাকে একপর্যায়ে লাইন বন্ধ করে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়।সেখান থেকে পরে শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করে চিকিৎসা করা হয় এবং তার দুই হাত কেটে ফেলা হয় চিকিৎসক জানান বৈদ্যুতিক শখের কারণে সাঈদ আহাম্মেদের  দুই পা ও মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সে সময় সাব-কন্ট্রাক্টর  বিদ্যুৎ দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরণ করা সাঈদ আহাম্মেদকে সকল ধরনের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের  আশ্বাস প্রদান করেন। 

দুর্ঘটনার ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও সাব-কন্ট্রাক্টর  বিদ্যুত এখন পর্যন্ত তার পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করায়  চিকিৎসা শেষে দুই হাত হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে সাঈদ আহাম্মদে তার নিজ বাড়িতে অসহায়ভাবে জীবনযাপন করছে।

তিনি জানান বহলবাড়িয়া গ্রামের সাহাবুল বা তার ছেলে বিদ্যুৎ তার পুনর্বাসনের জন্য কোন উদ্যোগ গ্রহন করছেনা এমনকি তার ফোনও রিসিভ করছেনা।


জবি গেটে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী আটক, পুলিশের কাছে হস্তান্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জবি গেটে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী আটক, পুলিশের কাছে হস্তান্তর

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় প্রধান ফটক এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের এক নেতাকে আটক করার পর পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে। সম্প্রতি রাতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করেন। আটক হওয়া ওই ব্যক্তির নাম সুমন খান মিরাজ, যিনি কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বলে জানা গেছে। তার বাড়ি পটুয়াখালী জেলার বদরপুর এলাকায় এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই ছাত্রসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের বেলা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ফটকের সামনে সন্দেহজনক অবস্থায় ফোনে কথা বলছিলেন ওই ব্যক্তি। তিনি মুঠোফোনে অন্যপ্রান্তের কাউকে আশপাশে লোকজনের অনুপস্থিতি জানিয়ে ক্যাম্পাসের আশপাশে ককটেল বিস্ফোরণ এবং ব্যানার লাগানোর বিষয়ে নির্দেশনা দিচ্ছিলেন। তার এই কথোপকথন শুনে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সন্দেহ হয় এবং তারা তাকে জেরা করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা তাকে দ্রুত ঘিরে ধরে আটক করতে সক্ষম হন।

আটকের পর উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ওই ব্যক্তির মোবাইল ফোন তল্লাশি করে দেখেন যে, তাতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রসংগঠনের বিভিন্ন মিছিল ও শোডাউনের ছবি ও ভিডিও সংরক্ষিত রয়েছে। তবে তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ধরনের মারাত্মক অস্ত্র বা বিস্ফোরক উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে তাকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীদের একটি কক্ষে নিরাপদে আটকে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে কোতোয়ালি থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আজম খান গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার সময় তিনি বিশ্রামে ছিলেন এবং পরবর্তীতে ফোন পেয়ে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠনের এক কর্মী আটকের বিষয়টি জানতে পারেন। শিক্ষার্থীরা ককটেল বিস্ফোরণ ও ব্যানার টানানোর পরিকল্পনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ এনেছেন এবং প্রক্টরিয় টিম তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করে। এদিকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওই নেতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তবে এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


পিকলবল খেলে ১৩ বছরের কিশোরীর বিশ্বভ্রমণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পিকলবল খেলে ১৩ বছরের কিশোরীর বিশ্বভ্রমণ

খেলার মাঠে নতুন উন্মাদনা সৃষ্টি করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছে পিকলবল। এই খেলায় দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে মাত্র তেরো বছর বয়সেই বিশ্বভ্রমণের সুযোগ করে নিয়েছে তরুণী এলসি ওয়াটার্স। ১৬-অনূর্ধ্ব জুনিয়র টুর্নামেন্টে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে সে এখন খবরের শিরোনামে। তার এই অবিশ্বাস্য সাফল্যে অনুপ্রাণিত হচ্ছে বিশ্বের অনেক উদীয়মান ক্রীড়াবিদ।

খেলার প্রতি এলসির নিবেদন ও কঠোর পরিশ্রম তাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। প্রতিদিন অত্যন্ত ভোরে ঘুম থেকে উঠে নিজের সকালের নাশতা নিজেই তৈরি করে সে। এরপর আর সময় নষ্ট না করে সরাসরি অনুশীলনে নেমে পড়ে। তার এই আত্মবিশ্বাস ও শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন খেলাধুলার প্রতি তার গভীর ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।

এলসির এই সাফল্যের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালে। সে সময় মাত্র বারো বছর বয়সে সে আনুষ্ঠানিকভাবে এই খেলায় পা রাখে। শুরুর দিকে পিকলবলের সামগ্রিক পরিবেশ বেশ অগোছালো ছিল এবং প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া খেলোয়াড়েরা মূলত শখের বসেই খেলতেন। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে খেলাটি পেশাদার রূপ নেয় এবং এলসিও নিজের দক্ষতাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।

শখের খেলোয়াড়দের মাঝ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করা এক দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প। কঠোর অনুশীলন এবং অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সে আজ বিশ্বমঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করেছে। কিশোরী এলসির এই জয়রথ ভবিষ্যতে তাকে আরও বহুদূর নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।