শেয়ার বাজার

নদীতে ভেসে যাওয়া ছোট্ট হাতিকে পৌঁছে দেওয়া হলো মা হাতির কাছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নদীতে ভেসে যাওয়া ছোট্ট হাতিকে পৌঁছে দেওয়া হলো মা হাতির কাছে

নদীর খরস্রোতে ভেসে যাওয়া একটি ছোট্ট হাতিশাবককে উদ্ধারের পর নিরাপদে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় কতিপয় মৎস্যজীবী। উত্তরবঙ্গের একটি নদীর জলরাশির মধ্যে হঠাৎ করেই বিপদের মুখে পড়েছিল ওই বন্য প্রাণীটি। নদীর মাঝখানে জলের ওপর শুধু একটি ছোট্ট শুঁড় ভেসে থাকতে দেখে বিষয়টি নজরে আসে মৎস্যজীবীদের। আর সেই দৃশ্য দেখেই তারা বুঝতে পারেন যে কোনো একটি বন্য হাতি তীব্র স্রোতের কবলে পড়ে ভেসে যাচ্ছে।

উদ্ধারকাজে নিয়োজিত দলটি ছিল নর্থ বেঙ্গল ফিশারমেনস ফোরামের পাঁচ সদস্যের একটি দল। ওই সময় তারা নিজেদের কাজে নদীর জলে অবস্থান করছিলেন। দূর থেকে এই দৃশ্য দেখার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। ক্রান্তি-পাঞ্জাব বাঁধের নিকটবর্তী এলাকা থেকে তারা নিজেদের ছোট কাঠের নৌকাটি নিয়ে সরাসরি স্রোতের বিপরীতে এগিয়ে যান।

ছোট্ট নৌকা নিয়ে তারা প্রায় তিন মাইল দীর্ঘ বিপজ্জনক পথ পাড়ি দিয়ে মাঝনদীতে সেই অসহায় শাবকের কাছে পৌঁছান। প্রবল স্রোতের বিপরীতে নৌকা চালিয়ে বন্য প্রাণীর জীবন বাঁচানোর এই সাহসিকতা স্থানীয় এলাকায় দারুণ প্রশংসিত হয়েছে। মৎস্যজীবীদের এই দ্রুত পদক্ষেপ ও বিচক্ষণতার কারণেই শেষ পর্যন্ত বড় কোনো বিপদ থেকে রক্ষা পায় হাতিশাবকটি।

নদীর বিভিন্ন চরে ঘুরে বেড়ানো মৎস্যজীবীদের এই দলটির অক্লান্ত পরিশ্রমে অবশেষে শিশু হাতিটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পরবর্তী সময়ে বন বিভাগের নির্দেশনা ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় শাবকটিকে তার মায়ের খোঁজে নির্দিষ্ট এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে বন্যপ্রাণী রক্ষায় সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো।

ধানমন্ডিতে নিষিদ্ধ আ.লীগের ঝটিকা মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ধানমন্ডিতে নিষিদ্ধ আ.লীগের ঝটিকা মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৪

রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার ব্যস্ততম সড়কে হঠাৎ করেই রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ব্যানারে একটি ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ধানমন্ডি ২৭ নম্বর রোডের মিনা বাজার সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর কাড়ে এবং আকস্মিক গোলমযোগের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মিছিল চলাকালীন দুর্বৃত্তরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করে। এই সময়ে হঠাৎ করে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দে চারপাশ কেঁপে ওঠে। এতে স্থানীয় সাধারণ পথচারী ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও চরম উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত তৎপরতা শুরু করে। ঘটনাস্থল ও তার আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার পেছনের মূল উস্কানিদাতাদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে এই আকস্মিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জনমনে আতঙ্ক তৈরি করার এই অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।


মেঘনায় ট্রলারডুবি: নিখোঁজ ৪ জনের ৩ মরদেহ উদ্ধার, জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মেঘনায় ট্রলারডুবি: নিখোঁজ ৪ জনের ৩ মরদেহ উদ্ধার, জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন

মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির মর্মান্তিক ঘটনার দীর্ঘ দুই দিন পর একই পরিবারের তিন শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নিহতরা হলেন কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামের হেলাল মিয়ার তিন সন্তান সামিয়া, সজীব ও শামীম। এর আগে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজারে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে ঝড়ের কবলে পড়ে তাদের বহনকারী ট্রলারটি নদীতে ডুবে যায়। সেই সময় ট্রলারে থাকা বেশ কয়েকজন যাত্রী নিখোঁজ হন এবং পরবর্তীতে রাইসা বেগম নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালানো হয়। অবশেষে সম্প্রতি ভোরে মেঘনা নদীর বুকে সামিয়া, সজীব ও শামীমের মরদেহ ভেসে উঠতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো শনাক্ত করেন এবং পরে অ্যাম্বুলেন্সযোগে সেগুলো নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। তবে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় তিন সন্তানের মরদেহ উদ্ধার হলেও তাদের বাবা হেলাল মিয়ার কোনো সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।

এদিকে তিন ভাইবোনের মরদেহ শ্রীমদ্দি গ্রামে পৌঁছানোর পর সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের আহাজারি ও কান্নায় সেখানকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে এবং শেষবারের মতো তাদের দেখতে শত শত মানুষ বাড়িতে ভিড় জমান। পরে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে সজীব ও শামীমের জানাজা শেষে তাদের চরিত্রকোনা কবরস্থানে দাফন করা হয়। অপরদিকে সামিয়ার জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে স্থানীয় কালিকাপুর কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

এই শোকাবহ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সান্ত্বনা দিতে হোমনা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাবীন এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম নিহতের বাড়িতে যান। তারা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকার্ত পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেন। একই পরিবারের তিন সন্তানের এমন আকস্মিক ও করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


মেসির শেষ ম্যাচের বিশেষ জার্সির ছবি প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মেসির শেষ ম্যাচের বিশেষ জার্সির ছবি প্রকাশ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘোষণা দিলেও আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত অধ্যায় দেখতে মুখিয়ে আছেন বিশ্বজুড়ে থাকা তাঁর অগণিত ভক্ত-সমর্থক। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের জার্সিতে মাঠ মাতা এই মহাতারকা আগামী অক্টোবরে মাঠে নামবেন তাঁর বর্ণিল বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটিতে অংশ নিতে। এই বিশেষ মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী শীর্ষ প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস সম্প্রতি এক বিশেষ সংস্করণের জার্সির নকশা ও ছবি প্রকাশ করেছে, যা ইতিমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি করেছে।

অ্যাডিডাসের প্রকাশিত নতুন এই বিশেষ জার্সিতে ঐতিহ্যবাহী নকশার পাশাপাশি রাখা হয়েছে বেশ কিছু নান্দনিক পরিবর্তন যা নজর কেড়েছে সবার। তিন স্ট্রাইপবিশিষ্ট এই জার্সির মাঝখানে একটি সাদা স্ট্রাইপের দুইপাশে রয়েছে দুটি বড় উল্লম্ব আকাশি-নীল স্ট্রাইপ এবং এর কেন্দ্রে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার প্রতীকী সূর্য। এছাড়া এই ঐতিহাসিক পোশাকে মেসির নাম এবং তাঁর চিরচেনা ১০ নম্বর জার্সিটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে আকর্ষণীয় সোনালি রঙে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হ্যান্ডলে একটি বিশেষ ভিডিও পোস্ট করে এই জার্সিটি ভক্তদের সামনে আনেন সময়ের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার।

এদিকে নিজের শেষ ম্যাচকে কেন্দ্র করে সমর্থকদের টিকিটের জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই অনলাইন সার্ভার ক্র্যাশ করার মতো ঘটনা ঘটেছে। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত ওয়েবসাইটে টিকিট ছাড়ার মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে সমস্ত টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে গেছে, যা প্রমাণ করে এই ম্যাচের প্রতি মানুষের আবেগ ও আগ্রহ কতটা প্রবল। আগামী ১৬ দিনের ফিফা উইন্ডোতে আলবিসেলেস্তেরা কয়েকটি ম্যাচ খেললেও মেসি বিশেষভাবে প্রস্তুত হচ্ছেন আগামী অক্টোবরের শেষ ম্যাচটির জন্য, যা মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।

দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০৭টি ম্যাচ খেলে ১২৫টি গোল করার পাশাপাশি ৬৮টি গোলে সহায়তা করেছেন বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা এই ফরোয়ার্ড। নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি দেশকে উপহার দিয়েছেন ২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা শিরোপা, মর্যাদাপূর্ণ ফিনালিসিমা এবং সর্বোপরি ২০২২ সালের ঐতিহাসিক ফিফা বিশ্বকাপ জয়। অবসরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর এবার সেই মহেন্দ্রক্ষণটি সমাগত, যা কেবল আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের জন্যই নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসেও এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।