শেয়ার বাজার

নায়কের স্ত্রী পছন্দ করতেন না, সিনেমা থেকে বাদ পড়ার অদ্ভুত কারণ জানালেন তাপসী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নায়কের স্ত্রী পছন্দ করতেন না, সিনেমা থেকে বাদ পড়ার অদ্ভুত কারণ জানালেন তাপসী

বলিউড অভিনেত্রী তাপসী পান্নু সম্প্রতি তার অভিনয় জীবনের শুরুর দিকের বেশ কিছু অপ্রত্যাশিত ও অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন। কেরিয়ারের সেই প্রাথমিক দিনগুলোতে তাকে নানা ধরনের অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল, যা অনেক সময় পেশাদারিত্বের চেয়ে ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল ছিল। দীর্ঘ সংগ্রামের পর বলিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করা এই অভিনেত্রী সম্প্রতি এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে এমন কিছু অজানা তথ্য প্রকাশ করেছেন।

তাপসী জানান যে, একবার তাকে কোনো রকম পূর্বঘোষণা ছাড়াই অত্যন্ত আকস্মিক এবং অদ্ভুত কারণে একটি বড় প্রজেক্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। ছবির পরিচালক বা প্রযোজক নয়, বরং সেই ছবির প্রধান নায়কের স্ত্রীর অপছন্দের কারণেই তাকে বাদ পড়তে হয়েছিল। নায়কের স্ত্রীর মনে হয়েছিল তাপসীর উপস্থিতি তার স্বামীর সঙ্গে পর্দায় মানানসই হবে না, কিংবা ব্যক্তিগত কোনো কারণে তিনি এই অভিনেত্রীকে পছন্দ করতেন না। আর সেই নিছক ব্যক্তিগত অপছন্দের খেসারত দিতে হয়েছিল সম্ভাবনাময় একজন অভিনেত্রীকে।

চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে এই ধরনের ঘটনা নতুন কিছু নয়, যেখানে অনেক সময় অভিনয় দক্ষতার চেয়েও তারকাদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ বা ক্ষমতার সমীকরণ বেশি প্রাধান্য পায়। তাপসী তার এই অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সেই নির্মম বাস্তবতাই তুলে ধরেছেন, যা সাধারণত পর্দার অন্তরালেই থেকে যায়। কেরিয়ারের শুরুর দিকে এমন অনৈতিক ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের শিকার হওয়া যে কোনো নবাগত শিল্পীর জন্যই অত্যন্ত হতাশার এবং মানসিক আঘাতের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

তবে এই ধরনের বাধাবিপত্তি ও বৈষম্য তাকে দমাতে পারেনি, বরং তিনি আরও বেশি সংকল্প নিয়ে নিজের অভিনয় যাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের শক্তিশালী অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি আজ হিন্দি চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। তাপসীর এই প্রকাশ্য বয়ান আবারও প্রমাণ করে যে, গ্ল্যামার দুনিয়ার চকচকে আবরণের পেছনেও শিল্পীদের নিয়মিত কেমন প্রতিকূলতার মোকাবিলা করতে হয়।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৪

রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যানারে একটি হঠাৎ মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি দুপুর ১২টার দিকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কে এই আকস্মিক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। ব্যস্ততম এই এলাকায় হঠাৎ ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব তারেকুজ্জামানের নেতৃত্বে সাতমসজিদ রোড এলাকা থেকে এই মিছিলটি শুরু হয়েছিল। মিছিলকারীরা ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালের সামনে দিয়ে অগ্রসর হয়ে বাটা শোরুমের কাছাকাছি এসে সংক্ষিপ্ত জমায়েত শেষ করে। এই সংক্ষিপ্ত পথ পরিক্রমার সময় তারা বেশ কয়েকটি ককটেল ফাটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করার চেষ্টা করে।

ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত তৎপরতা শুরু করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিশৃঙ্খলা শেষে ঘটনাস্থল বা আশপাশের এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ চারজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে এবং তাদের হেফাজতে নেয়।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব গণমাধ্যমকে জানান, নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীরা হঠাৎ মিছিল বের করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয় এবং তাদের ব্যবহৃত একটি ব্যানারও জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হালিম জানান, পালানোর সময় ওই এলাকা থেকে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে।


ইসলামাবাদ সমঝোতায় ফিরতে যুক্তরাষ্ট্রকে শি জিনপিংয়ের আহ্বান, ইরানের প্রশংসা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইসলামাবাদ সমঝোতায় ফিরতে যুক্তরাষ্ট্রকে শি জিনপিংয়ের আহ্বান, ইরানের প্রশংসা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাত এড়াতে ঐতিহাসিক ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) ওয়াশিংটনকে পুনরায় ফিরে আসার তাগিদ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানান তিনি। কূটনীত ও সংলাপের মাধ্যমে তেহরান ও ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের বৈরিতা নিরসনের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত উত্তেজনা প্রশমনে বেইজিংয়ের এমন মধ্যস্থতামূলক ভূরাজনৈতিক ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

চীনের শীর্ষ নেতার এমন দায়িত্বশীল ও বিচক্ষণ অবস্থানের প্রতি উষ্ণ অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় তিনি শি জিনপিংয়ের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। তেহরান সবসময়ই সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো আন্তর্জাতিক সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাস করে বলে পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করা এবং অর্থবহ আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য যে, এর আগে এই ইসলামাবাদ এমওইউর কাঠামোর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সশস্ত্র সংঘাত সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা সম্ভব হয়েছিল। পাশাপাশি উভয় পক্ষের মধ্যে পরবর্তী কূটনৈতিক বৈঠকের একটি সুনির্দিষ্ট পথরেখাও তৈরি হয়েছিল এই চুক্তির মাধ্যমে। তবে নানা রাজনৈতিক জটিলতা ও আস্থার সংকটের কারণে সেই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হয়নি এবং দুই দেশের সম্পর্কে ফের অবনতি ঘটেছিল। বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই পুরনো সমঝোতা পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হলে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক অবিশ্বাস দূর করে কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে বসার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান। মার্কিন প্রশাসনের তরফ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, চীনের মধ্যস্থতার ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় সেটাই এখন দেখার বিষয়। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের আন্তর্জাতিক উদ্যোগগুলো দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।


পাচার হয়ে বাংলাদেশে আসা দুই চিতাবাঘ ফেরত নিতে চায় না জিম্বাবুয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পাচার হয়ে বাংলাদেশে আসা দুই চিতাবাঘ ফেরত নিতে চায় না জিম্বাবুয়ে

অবৈধভাবে পাচার হয়ে বিভিন্ন হাত ঘুরে বাংলাদেশে পৌঁছানো দুটি চিতাবাঘকে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে জিম্বাবুয়ের সরকার। দীর্ঘদিন ধরে সাফারি পার্কে থাকা এই বন্যপ্রাণীগুলোকে নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানোর সবরকম কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আফ্রিকার এই দেশটির এমন অবস্থানে বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ২০১৮ সালে, যখন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খাঁচাবন্দী অবস্থায় এই দুটি চিতাবাঘ উদ্ধার করে। বন্যপ্রাণী পাচার চক্রের হাত থেকে উদ্ধারের পর সেগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে স্থানান্তর করা হয়। তখন থেকেই প্রাণী দুটি বিশেষ তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই পার্কে বসবাস করে আসছে।

উদ্ধারের পর থেকেই চিতাবাঘগুলোকে তাদের নিজ আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য জিম্বাবুয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে বাংলাদেশ। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনা ও পত্রালাপের পরও জিম্বাবুয়ে সরকার তাদের ফিরিয়ে নিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অপারগতা প্রকাশ করেছে। তবে কী কারণে তারা এই বন্যপ্রাণীগুলোকে গ্রহণ করতে চাইছে না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা যায়নি।

বর্তমানে জিম্বাবুয়ের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না মেলায় গাজীপুর সাফারি পার্কের হাসপাতালেই বিশেষ পরিচর্যায় রাখা হয়েছে চিতাবাঘ দুটিকে। পার্কের অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি সার্জন ও কর্মীরা তাদের সার্বিক স্বাস্থ্য ও খাদ্যাভ্যাসের বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন ও আন্তর্জাতিক প্রোটোকল মেনে প্রাণী দুটির আজীবন লালন-পালনের বিষয়টি এখন পার্কের পক্ষ থেকেই নিশ্চিত করা হচ্ছে।