শেয়ার বাজার

নারায়ণগঞ্জে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ তিন ভাই-বোনের মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ তিন ভাই-বোনের মরদেহ উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ থাকা তিন ভাইবোনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সম্প্রতি কুমিল্লার একটি গ্রাম থেকে আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ট্রলারে করে ওই এলাকায় আসেন তারা। নদীপথে যাত্রার সময় হঠাৎ দুর্ঘটনায় ট্রলারটি ডুবে যায় এবং এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশুদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার শ্রীমদ্দি গ্রাম থেকে ১৩ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার সোনারগাঁয়ের সোনাময়ী গ্রামের দিকে রওনা হয়েছিল। বিয়ের আনন্দ উদযাপনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা এই যাত্রীদের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নেয়। মাঝনদীতে পৌঁছানোর পর আকস্মিক ঝোড়ো বাতাস ও ঢেউয়ের কবলে পড়ে যাত্রীবাহী ট্রলারটি ডুবে যায়।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রাথমিক উদ্ধার অভিযানে কয়েকজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও শিশুসহ বেশ কয়েকজন নিখোঁজ ছিলেন। পরে তল্লাশি চালিয়ে নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ওই তিন ভাইবোনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

একসঙ্গে তিন সন্তানের আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের নৌযান চলাচলে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের বেদনাদায়ক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হয়।

৭ কোটি টাকার সেতু নির্মাণে রডের বদলে তার, দুই কর্মকর্তা সাসপেন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

৭ কোটি টাকার সেতু নির্মাণে রডের বদলে তার, দুই কর্মকর্তা সাসপেন্ড

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে রডের পরিবর্তে জিআই তার এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের সত্যতা মিলেছে। কাজ শুরুর পর থেকেই নানা অনিয়মের কথা জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং রাতের আঁধারে নিম্নমানের কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রবণতার কারণে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। দিনের আলোতে ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের ওপর মানুষের পা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেগুলো ভেঙে পড়তে শুরু করে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বারবার মৌখিক অভিযোগ দেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরার পরও কাজের মানে কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আসেনি। সেতুটির নির্মাণকাজ নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং এর স্থায়ীত্ব নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দেয়।

প্রকল্পের তথ্যানুযায়ী, বেগমগঞ্জ উপজেলার জমিদারহাট এলাকায় ৪৯ দশমিক শূন্য ছয় মিটার দীর্ঘ এই আরসিসি সেতুর নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে। মেসার্স হক ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেয়েছিল, যা মূলত সেনবাগ পৌর আওয়ামী লীগের এক নেতার লাইসেন্সে পরিচালিত হচ্ছিল। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঠিকাদার সরাসরি কাজের মাঠে উপস্থিত না থেকে তার চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে কাজটি করিয়ে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, দিনের বেলা কাজ বন্ধ রেখে রাতের অন্ধকারে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে স্ল্যাব ও রেলিংয়ের কাজ সম্পন্ন করা হতো। ফলে সামান্য চাপেই সেতুটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়তে শুরু করে এবং এর দুর্বল অবকাঠামো সবার নজরে আসে। স্থানীয়রা এই অনিয়মের প্রতিবাদ জানালে ঠিকাদারের লোকজন তা আমলে নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার গুরুতরতা অনুধাবন করে এলজিইডির নোয়াখালী কার্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সরেজমিনে সেতুটি পরিদর্শন করেন। নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ফুটপাত ও রেলিংয়ের কাজে ব্যাপক ত্রুটি এবং নকশা বহির্ভূত কার্যক্রম দেখতে পান। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতেই ত্রুটিপূর্ণ ও নিম্নমানের স্ল্যাবগুলো হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে অপসারণ করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আগামী সাত দিনের মধ্যে নকশা ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী সমস্ত ত্রুটি সংশোধন করে লিখিতভাবে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

এই অনিয়মের দায়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এলজিইডির এক প্রকৌশলীকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে উপসহকারী প্রকৌশলী এবং ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট পদমর্যাদার ব্যক্তিরা রয়েছেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে কাজের কিছু ত্রুটি ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রকৌশলীদের উপস্থিতিতে তা সংশোধন বা ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে সরকারি অর্থে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে এমন গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হচ্ছে।


৬০৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ: সালমান এফ রহমানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

৬০৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ: সালমান এফ রহমানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার অনুমোদন

কাগুজে ও নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে বিশাল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সালমান ফজলুর রহমানসহ মোট ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সম্প্রতি দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, কোনো ধরনের বাস্তব অস্তিত্ব ছাড়াই ব্যাংক থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় আর্থিক খাতের জন্য একটি বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির দৃষ্টান্ত।

দুদক সূত্রে জানা যায়, স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামের একটি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান তৈরি করে পর্যাপ্ত জামানত বা সঠিক মূল্যায়ন ছাড়াই ভুয়া ঋণ অনুমোদন ও তার পরিমাণ বাড়ানো হয়। কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই না করেই ওই প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৫৩৮ কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণ করা হয় এবং পরবর্তীতে তা নগদে উত্তোলন করা হয়। ব্যাংকটির সংশ্লিষ্ট নীতিমালা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নির্দেশনা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেই এই অর্থ আত্মসাতের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।

তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে যে, সুদাসলে এই ঋণের আর্থিক পরিমাণ বর্তমানে ৬০৪ কোটি টাকারও বেশি দাঁড়িয়েছে যা সরাসরি আইএফআইসি ব্যাংকের মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়েছে। আত্মসাৎ করা এই অর্থের উৎস, অবস্থান এবং গন্তব্য সম্পূর্ণ গোপণ করার উদ্দেশ্যে তা নানা অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর, রূপান্তর ও মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে পাচার করা হয়। ব্যাংকের তৎকালীন শীর্ষ মহলের যোগসাজশেই এই অবৈধ আর্থিক লেনদেন সম্ভব হয়েছিল বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তারা।

এই পুরো দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় সালমান এফ রহমান ছাড়াও তাঁর ছেলে আহমেদ সায়ান ফজলুর রহমানসহ মোট ২৫ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা ছাড়াও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং ২০১২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের এই কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্যাংক খাতের অনিয়ম ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার প্রক্রিয়া আরও বেগবান হবে বলে মনে করা হচ্ছে।


শাশুড়িকে সম্মান না করায় বাবার চড়, ক্ষুব্ধ ছেলের ছুরিকাঘাতে মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শাশুড়িকে সম্মান না করায় বাবার চড়, ক্ষুব্ধ ছেলের ছুরিকাঘাতে মৃত্যু

রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় পারিবারিক এক তুচ্ছ ঘটনার জেরে মর্মান্তিক এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শাশুড়ির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার প্রতিবাদ করায় বাবাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে হাসানুর রহমান নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। নিহত মহুবার রহমানের বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর এবং অভিযুক্ত হাসানুর তার ২২ বছর বয়সী সন্তান। সম্প্রতি রাতে উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের চর তাম্বুলপুর মাস্টারপাড়া এলাকায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। এই আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বেশ কিছুদিন ধরেই হাসানুরের সঙ্গে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সম্পর্কের অবনতি চলছিল। সম্প্রতি তার শাশুড়িসহ কিছু আত্মীয় বাড়িতে এলেও হাসানুর তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেননি এবং যথোচিত সম্মান প্রদর্শন বা আপ্যায়ন করেননি। বিষয়টি নিয়ে পরিবারে অস্বস্তি ও বিরোধ তৈরি হলে বাবা মহুবার রহমান ছেলেকে বুঝিয়ে বলেন এবং শাশুড়িকে সম্মান দেখিয়ে কথা বলতে ও খাবার দিতে বলেন। কিন্তু বাবার এই সাধারণ উপদেশ ও শাসন একেবারেই মেনে নিতে পারেননি ক্ষিপ্ত হাসানুর।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, বাবার কথা অমান্য করায় একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে মহুবার রহমান ছেলেকে একটি থাপ্পড় দেন। এতে চরমভাবে উত্তেজিত হয়ে হাসানুর ঘরে থাকা একটি ধারালো ছুরি তুলে নেন এবং সরাসরি বাবার পেটে আঘাত করেন। ছুরিকাঘাতের ফলে মহুবার রহমানের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পথেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

তাম্বুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বজলুর রশিদ মুকুল জানান, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এর আগেও অভিযুক্ত হাসানুর বিভিন্ন সময়ে তার বাবার গায়ে হাত তুলেছিলেন বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। শুধু তাই নয়, হাসানুরের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তির গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। এদিকে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক জানিয়েছেন, ঘটনার পর পরই পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্ত হাসানুরকে গ্রেফতারে জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে।