শেয়ার বাজার

নানা সংকটে বান্দরবানের পর্যটন শিল্প, বাড়ছে ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নানা সংকটে বান্দরবানের পর্যটন শিল্প, বাড়ছে ভোগান্তি

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি বান্দরবান পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হলেও নানা সংকটের কারণে এই খাতের কাঙ্ক্ষিত বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো পর্যটক পাহাড়ের রূপ লাবণ্য উপভোগ করতে এই জেলায় ছুটে আসেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পর্যটন খাতের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি থাকায় ভ্রমণপিপাসুদের নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে সম্ভাবনাময় এই খাতটি পূর্ণাঙ্গভাবে বিকশিত হতে পারছে না।

বান্দরবানের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখা গেছে, দিনের আলো নিভে অন্ধকার নামলেই গোটা পর্যটন শহরে এক ধরণের নিস্তব্ধতা নেমে আসে। শহরের আশপাশের পর্যটনকেন্দ্রগুলো ঘুরে দর্শনার্থীরা বিকেল নাগাদ শহরে ফিরে আসেন, কিন্তু সান্ধ্যকালীন বিনোদনের কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় তাদের রাতে হোটেল কক্ষের চার দেওয়ালে বন্দি থাকতে হয়। পরিবার-পরিজন ও শিশুদের নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটকদের সময় কাটানোর মতো কোনো আধুনিক পার্ক বা বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় তাদের ভ্রমণ আনন্দ অনেকাংশেই ম্লান হয়ে যায়।

পর্যটন ব্যবসায়ীদের মতে, বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনের কারণে বান্দরবানে মৌলিক উন্নয়নমূলক কাজগুলো থমকে আছে। জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগের অভাবের কথা তুলে ধরে সংশ্লিষ্টরা জানান, শিশুদের মানসিক বিকাশ ও পর্যটকদের চিত্তবিনোদনের জন্য একটি আধুনিক ওয়াকওয়ে বা অ্যামিউজমেন্ট পার্ক নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি। দায়িত্ব পালনে অনীহা ও পারস্পরিক দ্বন্দ্বের অবসান না ঘটলে স্থানীয় নাগরিক ও পর্যটকদের কাঙ্ক্ষিত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

পাহাড়ের এই পর্যটন সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সান্ধ্যকালীন বিনোদনের সঙ্গে যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক মঞ্চ, পাহাড়ি ঐতিহ্যবাহী খাবারের মেলা এবং হস্তশিল্পের বাজার গড়ে তোলা গেলে পর্যটকদের একঘেয়েমি কাটার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও আরও চাঙা হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সুনির্দিষ্ট মহাপরিকল্পনা গ্রহণ এবং সব মহলের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমেই কেবল বান্দরবানের পর্যটন শিল্পকে টেকসই ও সমৃদ্ধ করা সম্ভব।

জবি ছাত্রীর আত্মহত্যা;
অভিযুক্তদের গ্রেফতারে ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ মার্চ, ২০২৪

অভিযুক্তদের গ্রেফতারে ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাইরুজ অবন্তিকার আত্মহত্যার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে এ ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (১৬ মার্চ) বিকেল সাড়ে তিনটায় বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর ভিক্টোরিয়া পার্ক ও কবি নজরুল সরকারি কলেজ ঘুরে মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এসে শেষ হয়।

এরপর সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে দাঁড়িয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবি ঘোষণা করেন। এসব দাবি বাস্তবায়নে ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন তারা।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইভান তাহসিভ বলেন, ফাইরুজ অবন্তিকা অসাধারণ শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নানান বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা থেকে জবি শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরাকে মুক্তির জন্য যে আন্দোলন হয়েছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে, সেখানে অবন্তিকাও নেতৃত্ব দেন। এজন্য তাকে নানান ধরনের হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়েছে। এরপরও তিনি পিছপা হননি। কিন্তু তারই এমন করুণ পরিণতি আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। বিষয়টির সঙ্গে যারা জড়িত সবার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

অপর এক শিক্ষার্থী বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সব ভাই-বোনদের জন্য নিরাপদ করে তুলবো আমরা। আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আমাদের বোনের এমন পরিণতির জন্য যারা দায়ী তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতেই হবে।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো- ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে, অভিযুক্ত শিক্ষক দ্বীন ইসলাম ও শিক্ষার্থী আম্মান সিদ্দিকিকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও সুষ্ঠু বিচারের আওতায় আনা, দ্রুত সিন্ডিকেট ডেকে অভিযুক্তদের স্থায়ী বহিষ্কার, ভুক্তভোগীর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাদী হয়ে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী নিপিড়ন সেল কার্যকর করতে হবে।

এর আগে শনিবার সকালে অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক দ্বীন ইসলামকে সহকারী প্রক্টর ও শিক্ষকতা থেকে সাময়িক বরখাস্ত এবং অভিযুক্ত রায়হান সিদ্দিকি আম্মানকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

জানা গেছে, ফাইরুজ অবন্তিকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। শুক্রবার (১৫ মার্চ) রাত ১০টার দিকে প্রথমে ফেসবুকে পোস্ট দেন ফাইরুজ। এরপর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, তিনি মারা গেছেন।



এমবাপ্পের গোলে তুরস্কের বিপক্ষে জয়, শুরু হলো ফ্রান্সে জিদান-যুগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

এমবাপ্পের গোলে তুরস্কের বিপক্ষে জয়, শুরু হলো ফ্রান্সে জিদান-যুগ

ফুটবল বিশ্বে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ফরাসি জাতীয় দলের ডাগআউটে শুরু হলো জিনেদিন জিদানের নতুন অধ্যায়। বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের পর দিদিয়ের দেশমের স্থলাভিষিক্ত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এই কিংবদন্তি ফুটবলার। উয়েফা নেশনস লিগের সাম্প্রতিক ম্যাচে তুরস্কের মুখোমুখি হয়েছিল ফরাসি দল, যেখানে নতুন কোচের অধীনে মাঠে নেমেই জয় তুলে নিয়েছে তারা। এই জয়ের ফলে ফরাসি শিবিরে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং কোচ হিসেবে জিদানের শুরুটা বেশ দারুণ হয়েছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণ ও প্রতি আক্রমণে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালায়। তবে তুরস্কের রক্ষণভাগ ভাঙতে ফরাসি ফরোয়ার্ডদের বেশ কিছু সময় অপেক্ষা করতে হয়। খেলার গতিপ্রকৃতি যখন ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই নির্ধারিত সুযোগটি লুফে নেয় দলটি। প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণ ভেদ করে কাঙ্ক্ষিত গোলটি আদায় করে নেন ফরাসি তারকারা, যা শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দেয়।

এই জয় এনে দেওয়ার পেছনে মিডফিল্ডার মাইকেল ওলিস এবং তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পের দারুণ বোঝাপড়া বড় ভূমিকা পালন করে। মাইকেল ওলিসের নিখুঁত ও চমৎকার পাস থেকে বল পেয়ে তা সফলভাবে জালে জড়ান কিলিয়ান এমবাপো। এই একমাত্র গোলটির ওপর ভর করেই শেষ পর্যন্ত স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স। দলের নির্ভরযোগ্য এই ফুটবলারদের পারফরম্যান্স নতুন কোচের আস্থার প্রতিদান দিয়েছে।

খেলার পর ফরাসি কোচ জিনেদিন জিদান দলের এমন পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ম্যাচেই জয় পাওয়ায় তার ওপর থাকা প্রাথমিক চাপ কিছুটা কমেছে। ২০২৬-২৭ মৌসুমের এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের প্রথম ম্যাচেই এমন সাফল্য পাওয়ায় ভক্ত-সমর্থকদের মধ্যেও উন্মাদনা দেখা গেছে। সামনের দিনগুলোতে দলটি আরও পরিপক্ব ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।


ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম

একজন মুমিনের ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য শারীরিক পবিত্রতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি একটি শর্ত। দৈনন্দিন জীবনে নানা কারণে ফরজ গোসলের প্রয়োজন হতে পারে, তবে অনেকেই এর সঠিক নিয়ম সম্পর্কে পুরোপুরি জানেন না। নিয়ম অনুযায়ী গোসল না করলে নামাজসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত আদায় হয় না এবং ব্যক্তি অপবিত্রই থেকে যান। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী ফরজ গোসল সম্পন্ন করার জন্য কয়েকটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা আবশ্যক।

ফরজ গোসল শুদ্ধ হওয়ার জন্য অপরিহার্য তিনটি কাজ রয়েছে যা কোনোভাবেই বাদ দেওয়া যাবে না। প্রথমে ভালোভাবে মুখ ভরে পানি নিয়ে গড়গড়া সহকারে কুলি করতে হবে, যাতে মুখের ভেতরে কোনো অংশ অপবিত্র না থাকে। এরপর নাকের নরম হাড় পর্যন্ত পানি পৌঁছানো ফরজ। সবশেষে মাথার চুল থেকে পায়ের তলা পর্যন্ত সম্পূর্ণ দেহের প্রতিটি অংশে পর্যাপ্ত পানি ভালোভাবে পৌঁছে দিতে হবে। এই তিনটি কাজের যেকোনো একটি বাদ পড়লে গোসল শুদ্ধ হবে না।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ পদ্ধতি অনুসরণ করেই সবচেয়ে উত্তম উপায়ে ফরজ গোসল সম্পন্ন করা যায়। হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রথমে দুই হাত ধুয়ে নেওয়ার পর প্রয়োজনবোধে প্রস্রাব করে বীর্য বা অন্য কোনো অপবিত্রতা পুরোপুরি পরিষ্কার করে নিতে হবে। এরপর শরীরের গোপন অঙ্গ ধুয়ে নিয়ে নামাজের অজুর মতো একটি পূর্ণাঙ্গ অজু সম্পন্ন করতে হয়। তবে গোসলের স্থানে যদি পানি জমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে পা ধোয়ার কাজটি সবার শেষে করার নিয়ম রয়েছে।

অজু শেষ করার পর মাথায় তিনবার পানি ঢালতে হবে এবং শরীরের ডান অংশে ও পরে বাঁ অংশে পানি ঢেলে পুরো শরীর ভালোভাবে ধৌত করতে হবে। গোসলের সময় নাভির ভেতর, কানের ছিদ্র, বগল এবং আঙুলের ফাঁকে হাত দিয়ে ঘষে পানি পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। পুরুষদের ক্ষেত্রে দাড়ি, গোঁফ ও চুলের গোড়ায় এবং নারীদের ক্ষেত্রে চুল খোলা থাকলে তা ভিজিয়ে নেওয়া ফরজ। এছাড়া শরীরে ব্যবহৃত আংটি, ঘড়ি বা নেইল পলিশ থাকলে তা সরিয়ে বা সরিয়ে পানি পৌঁছানো বাধ্যতামূলক। শরীরের একচুল পরিমাণ জায়গাও যদি শুকনো থেকে যায়, তবে গোসল অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।