শেয়ার বাজার

মাত্র ৩০ সেকেন্ডের যে অভ্যাস আপনার মুড ভালো করে দিতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাত্র ৩০ সেকেন্ডের যে অভ্যাস আপনার মুড ভালো করে দিতে পারে

দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা ও মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে দীর্ঘসময় ধরে বড় কোনো থেরাপি বা ব্যায়ামের প্রয়োজন হয় না। সম্প্রতি গবেষকরা জানিয়েছেন যে, মাত্র ত্রিশ সেকেন্ডের কিছু অতি ক্ষুদ্র ও সহজ অভ্যাস মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য এবং শক্তির মাত্রাকে রাতারাতি বদলে দিতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও মনস্তত্ত্বের ভাষায় এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলোকে 'মাইক্রোপ্র্যাকটিস' বা ক্ষুদ্র অনুশীলন হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। এগুলো খুব সহজেই যেকোনো সময় ও পরিস্থিতিতে চর্চা করা সম্ভব।

আমাদের শরীর ও মনের সংযোগ অত্যন্ত গভীর, যার ফলে এই ধরনের ছোট ছোট অনুশীলনগুলো স্নায়ুতন্ত্রকে দ্রুত শান্ত করতে দারুণ কার্যকর ভূমিকা রাখে। মনস্তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন কেউ অতিরিক্ত ক্লান্ত বা বিরক্ত বোধ করেন, তখন এই মাইক্রোপ্র্যাকটিসগুলো ঝটপট মুড ভালো করে দিতে জাদুর মতো কাজ করে। এর জন্য বাড়তি কোনো প্রস্তুতি বা সরঞ্জামের প্রয়োজন হয় না, কেবল নিজের মনের ওপর সামান্য নিয়ন্ত্রণ আর সচেতনতাই যথেষ্ট।

এই ধরনের অনুশীলনের মধ্যে রয়েছে দীর্ঘশ্বাস নেওয়া, শরীরের পেশিগুলো হালকা করে দেওয়া কিংবা মুহূর্তের জন্য চারপাশের পরিবেশ থেকে মন সরিয়ে নিজের ভেতরে মনোযোগ দেওয়া। এই ক্ষুদ্র অভ্যাসগুলো মূলত মস্তিষ্কের অতিরিক্ত কাজের চাপ কমিয়ে স্নায়ুকে শিথিল করতে সাহায্য করে। ফলস্বরূপ, ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে কাজের নতুন স্পৃহা ও মানসিক প্রশান্তি অনুভব করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের রুটিনে এই ত্রিশ সেকেন্ডের অভ্যাসগুলো যুক্ত করলে তা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। কর্মব্যস্ত জীবনে যখনই হতাশা বা ক্লান্তি ঘিরে ধরবে, তখনই এই সহজ পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করা যেতে পারে। এটি আধুনিক জীবনের মানসিক অবসাদ দূর করার একটি অত্যন্ত কার্যকরী এবং বিজ্ঞানসম্মত উপায় হিসেবে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করছে।

টেনেসিতে ২০০ বছর পর এই প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড হতে যাচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

টেনেসিতে ২০০ বছর পর এই প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড হতে যাচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রায় দুই শ বছর পর কোনো নারী বন্দীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইক নামের ওই নারী প্রাণঘাতী ইনজেকশন নেওয়ার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। তবে তাঁর জীবন বাঁচাতে এবং দণ্ড মওকুফ করতে আইনজীবীরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আইনি লড়াই অব্যাহত রেখেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই আইনি প্রক্রিয়ার কারণে বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ১৯৯৫ সালে, যখন পাইকের বয়স ছিল মাত্র আঠারো বছর। ওই সময় তিনি তাঁর তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমার নামের এক তরুণকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। কিশোর-কিশোরীদের একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়, যেখানে নির্যাতন চালিয়ে স্লেমারকে হত্যা করা হয়েছিল। এই অপরাধে পাইকের মৃত্যুদণ্ড হলেও তাঁর সহযোগীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই প্রক্রিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে পাইক কিছু বিশেষ ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি চান না দণ্ড কার্যকরের সময় তাঁর পরিবারের কেউ সেখানে উপস্থিত থাকুক। এছাড়া, তাঁকে যে দলটি ইনজেকশন দেবে, তা যেন সম্পূর্ণ নারী সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয়—এমনটাই তাঁর প্রত্যাশা। কারাগার কর্তৃপক্ষ তাঁকে নারী রক্ষীদের মাধ্যমে স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করলেও এর শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারেনি।

অন্যদিকে, নিহত কলিন স্লেমারের মা মে মার্টিনেজ অবিলম্বে এই রায় কার্যকরের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত হলেই কেবল তাঁর মৃত মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে। পক্ষান্তরে, পাইকের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়ে বলছেন যে বর্তমানে একই অপরাধে কোনো কিশোরী দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁকে সম্ভবত মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো না। তারা পাইকের মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক শৈশবকে আদালতের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

মনোবিজ্ঞানীদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রিস্টা পাইক শৈশবে চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এবং একাধিকবার যৌন নিপীড়নের মুখোমুখি হন। যারা তাঁকে রক্ষা করার কথা ছিল, তারাই তাঁকে নির্যাতন করেছিল বলে চিকিৎসকদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলেও টেনেসিতে এটি অত্যন্ত বিরল ঘটনা। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে এখন দেখার বিষয় আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কোন দিকে মোড় নেয়।


কোনো পার্টিতে সব বন্ধুকে দাওয়াত না দেওয়া কি অভদ্রতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কোনো পার্টিতে সব বন্ধুকে দাওয়াত না দেওয়া কি অভদ্রতা

সামাজিক জীবন এবং বন্ধুত্বের পরিসরে প্রায়ই একটি বিব্রতকর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়, আর তা হলো কোনো আয়োজনে সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো বাধ্যতামূলক কি না। বন্ধু মহলে ঘরোয়া কোনো আড্ডার পরিকল্পনা করার সময় এই বিষয়টি নিয়ে অনেকের মধ্যেই দ্বিধা কাজ করে। অনেকে মনে করেন, পরিচিত সবাইকে না ডাকলে হয়তো ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে বা সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিতে পারে।

তবে এই পরিস্থিতির একটি বাস্তবসম্মত দিকও রয়েছে যা প্রায়ই উপেক্ষা করা হয়। কোনো একটি বিশেষ অনুষ্ঠান বা জমায়েতের জন্য সব পরিচিত বন্ধুকে একসঙ্গে আমন্ত্রণ জানানো অনেক সময়ই অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। কারণ ব্যক্তিগত পরিসর এবং বাজেটের কথা মাথায় রেখে ছোট পরিসরে অনুষ্ঠান করতে চাওয়াটা পুরোপুরি স্বাভাবিক একটি বিষয়।

বাস্তবতার খাতিরে হিসাব করলে দেখা যায়, নিজের সব বন্ধুকে যদি একসঙ্গে কোনো আয়োজনে ডাকতে হয়, তবে তা কোনো সাধারণ ঘরোয়া অনুষ্ঠান থাকে না। বরং এর জন্য আস্ত একটি কনভেনশন সেন্টার ভাড়া করা এবং পেশাদার ক্যাটারিং সার্ভিসের ব্যবস্থা করার প্রয়োজন পড়ে, যা সব সময় সবার পক্ষে সম্ভব হয় না।

তাই বন্ধুত্বের গভীরতা এবং পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ছোট পরিসরে অনুষ্ঠান করাকে অভদ্রতা হিসেবে দেখার কোনো অবকাশ নেই। খোলামাথা আলোচনা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমেই বন্ধুত্বের এই ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝিগুলো সহজেই দূর করা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।


বৃহস্পতিবার রাজশাহী যাচ্ছেন তারেক রহমান

প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

বৃহস্পতিবার রাজশাহী যাচ্ছেন তারেক রহমান

দীর্ঘ ২২ বছর পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজশাহীতে নির্বাচনি প্রচারণায় আসছেন। ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তিনি।

দীর্ঘ ২২ বছর পর দলীয় প্রধানের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরীতে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তিন জেলার ১৩টি সংসদীয় আসনের নেতাকর্মীরাসহ সাধারণ জনগণ এই সমাবেশে অংশগ্রহণ করবেন। সমাবেশে তিন লক্ষাধিক জনসমাগমের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন জানান, ২৯ জানুয়ারি বেলা ১১টার দিকে বিমানযোগে তারেক রহমান রাজশাহীতে পৌঁছাবেন এবং সরাসরি মাদরাসা মাঠে সমাবেশে যোগ দেবেন। একইদিন সন্ধ্যায় নওগাঁ বাইপাসে এবং রাতে বগুড়ায় নির্বাচনি সমাবেশে ভাষণ দেবেন। বগুড়ায় রাত্রিযাপন করার সম্ভাবনাও রয়েছে।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, তারেক রহমানের আগমনে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। আমরা কয়েক লাখ মানুষের সমাগম নিশ্চিত করতে পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছি।

জানা যায়, গত শনিবার দিবাগত রাতে নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনুর বাসভবনে রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাজগঞ্জ আসনের দলীয় প্রার্থী, মহানগর ও বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল সভায় অংশ নেন তারেক রহমান। সভায় তিনি রাজশাহীতে তিন জেলার নির্বাচনি সমাবেশ সফল করার জন্য সমন্বয়ের নির্দেশনা দেন। ভার্চুয়াল সভায় রাজশাহী বিভাগের ১৩ আসনের প্রার্থীদেরও এ সমাবেশ সম্পর্কে অবহিত করার কথা বলেন তিনি। সভায় রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত, নাটোর-২ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং মহানগর বিএনপির নেতারা অংশগ্রহণ করেন।

এরপর রোববার সকাল থেকেই ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়। এরই মধ্যে রাজশাহী মহানগর বিএনপি ও সংশ্লিষ্ট অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। মঞ্চ প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে স্থানীয় প্রশাসনকেও অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু জানান, তারেক রহমান ২৯ জানুয়ারি বিমানে দুপুর সোয়া ১২টায় রাজশাহীতে নামবেন এবং সরাসরি মাদরাসা মাঠে পৌঁছে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। রাজশাহীসহ আশপাশের তিন জেলার ১৩টি সংসদীয় আসনের প্রার্থী ও সাধারণ মানুষ এই জনসভায় উপস্থিত থাকবেন। রাজশাহী বিএনপির প্রাণকেন্দ্র, এখানকার মানুষ ‘ধানের শীষ’ ছাড়া কিছু ভাবেই না। আমরা বিজয়ের দৃঢ় প্রত্যয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এদিকে দীর্ঘ সময় পর রাজশাহীতে তারেক রহমানের আগমন বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উৎসাহ ও উদ্দীপনা তৈরি করেছে। দলীয় নেতারা মনে করেন, এই সমাবেশ রাজশাহী ও আশপাশের তিন জেলায় বিএনপির নির্বাচনি শক্তিকে ব্যাপকভাবে উজ্জীবিত করবে এবং ভোটারদের মধ্যে দলীয় মনোবল বাড়াবে। এর ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে ব্যাপক সুবিধা সৃষ্টি হবে।

উল্লেখ্য, রাজশাহী বিভাগের ১৩টি আসনে এই বৃহৎ সমাবেশ দলটির জন্য ঐতিহাসিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ সর্বশেষ ২০০৫ সালে দলীয় কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে তারেক রহমান রাজশাহীতে এসেছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে এই প্রথম ভোটের প্রচারে সরাসরি মহানগরীতে আসার ফলে দল ও ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাজগঞ্জের প্রার্থীদের জন্য একযোগে এই মহাসমাবেশ বিএনপির ঐক্য ও শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সমাবেশ সফল করতে দল ও অঙ্গসংগঠন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানা গেছে।