শেয়ার বাজার

মাদ্রাসার ছাদে ‘বিদ্যুতায়িত হয়ে’ দগ্ধ ৫ শিক্ষার্থী হাসপাতালে, সবার অবস্থা গুরুতর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাদ্রাসার ছাদে ‘বিদ্যুতায়িত হয়ে’ দগ্ধ ৫ শিক্ষার্থী হাসপাতালে, সবার অবস্থা গুরুতর

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি আবাসিক মাদ্রাসার ছাদে খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পাঁচ শিশু শিক্ষার্থী মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছে। সম্প্রতি বিকেলে ফতুল্লার কাশিপুর হাজীপাড়া এলাকার মাহেলা খাতুন বালিকা মাদ্রাসায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। আহত শিশুদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীতে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তাঁরা সবাই জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দগ্ধ হওয়া শিক্ষার্থীরা সবাই ওই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রী এবং বিভিন্ন শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। আহতরা হলো ষষ্ঠ শ্রেণির জিদনী, চতুর্থ শ্রেণির লামিয়া আক্তার শাপলা, সপ্তম শ্রেণির সুমাইয়া আক্তার, তৃতীয় শ্রেণির আসিয়া আক্তার আফরোজা এবং চতুর্থ শ্রেণির আতিয়া। ঘটনার দিন বিকেলে পড়াশোনার ফাঁকে তারা সবাই মিলে তিনতলা মাদ্রাসা ভবনের ছাদে খেলাধুলা করতে গিয়েছিল। হঠাৎ ছাদ থেকে কোনো একটা বিকট শব্দ শুনতে পেয়ে মাদ্রাসার লোকজন দ্রুত উপরে ছুটে যান।

মাদ্রাসার ক্যাশিয়ার মো. ইউসুফ আলী জানান, ছাদে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান শিশুরা আগুনে ঝলসে যাওয়ার পর যন্ত্রণায় ছটফট করছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার তীব্রতা বিবেচনা করে তাদের দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। দগ্ধ শিশুদের ভাষ্যমতে, ছাদে খেলার সময় হঠাৎ করেই তাদের শরীরে আগুন ধরে যায়, তবে ঠিক কীভাবে এই ঘটনা ঘটল তা তারা স্পষ্ট করে বলতে পারেনি।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই মাদ্রাসা ভবনের ছাদের ঠিক ওপর দিয়েই উচ্চক্ষমতার বৈদ্যুতিক তার চলে গেছে। মাদ্রাসার কর্তাব্যক্তিদের ধারণা, ছাদের ওপর থাকা ওই বিপজ্জনক বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসায় শিশুগুলো বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ হয়েছে। এদিকে, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে দগ্ধ হওয়া পাঁচ শিশুর অবস্থাই অত্যন্ত গুরুতর। চিকিৎসকরা তাঁদের জীবন বাঁচাতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং জরুরি বিভাগে নিবিড় পর্যবেক্ষণ রাখা হয়েছে।

রিয়াদের দিকে হুথিদের ড্রোন, ভূপাতিত করল সৌদি জোট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রিয়াদের দিকে হুথিদের ড্রোন, ভূপাতিত করল সৌদি জোট

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে ছোড়া দুটি ড্রোন সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আকাশে সফলভাবে ভূপাতিত করেছে দেশটির সামরিক জোট। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ড্রোন দুটি রিয়াদের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল এবং তা আগে থেকেই শনাক্ত করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। এই সফল আটকের ফলে রাজধানী ও এর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বড় ধরনের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে।

রাজধানী রিয়াদের পাশাপাশি সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কৌশলগত শহর খামিস মুশাইতের দিকে ধেয়ে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ধ্বংস করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী। উল্লেখ্য, খামিস মুশাইত শহরে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমানঘাঁটি অবস্থিত রয়েছে, যা এই অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই অঞ্চলের আকাশসীমায় এ ধরনের হামলা প্রতিহত করার মাধ্যমে দেশটির সামরিক বাহিনী তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার শক্ত অবস্থান পুনরায় প্রমাণ করেছে।

ইয়েমেনের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িত রয়েছে এবং অতীতেও সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে এ ধরনের আকাশপথে আক্রমণ চালিয়েছে। ইরান-সমর্থিত এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে এ ধরনের আগ্রাসী কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে এক ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগ বজায় রয়েছে। সৌদি জোটের সতর্ক অবস্থানের কারণে অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

এদিকে সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের হামলা প্রতিহত করার পর হুথি রাজনৈতিক ব্যুরোর পক্ষ থেকে নতুন করে হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির এক শীর্ষ নেতা দাবি করেছেন যে, তাদের এই সামরিক অভিযানের পরিধি ও শক্তি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হলেও তারা এটিকে কেবল একটি সীমিত পরিসরের মহড়া হিসেবে বিবেচনা করছে। এর মাধ্যমে তারা ভবিষ্যতে আরও বড় ও শক্তিশালী আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে প্রকাশ্যেই ঘোষণা দিয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতির উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।


টঙ্গীতে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় মা-ছেলের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

টঙ্গীতে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় মা-ছেলের মৃত্যু

গাজীপুরের টঙ্গীতে দ্রুতগতির একটি কাভার্ড ভ্যানের চাপায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। সম্প্রতি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী বিআরটি উড়ালসড়কের স্টেশন রোড এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই প্রাণহানিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা ঘাতক কাভার্ডভ্যানসহ এর চালককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। পুলিশ গাড়িটি জব্দ করে চালককে হেফাজতে নিয়েছে।

নিহতরা হলেন ৪৫ বছর বয়সী আয়েশা খাতুন এবং তাঁর ২২ বছরের তরুণ ছেলে ইয়াছিন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার বাদাম মাছিয়া গ্রামে এবং তাঁরা মো. চান মিয়ার স্ত্রী ও সন্তান। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহতরা গ্রামের বাড়িতে একটি পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করে আলম এশিয়া পরিবহনের একটি বাসে চড়ে টঙ্গীর নিমতলী এলাকার ভাড়া বাসায় ফিরছিলেন। বাস থেকে নেমে তাঁরা স্টেশন রোড এলাকায় উড়ালসড়কের পাশে ফুটপাতে অবস্থান করছিলেন।

ঠিক সেই মুহূর্তে গাজীপুর থেকে ঢাকাগামী একটি বেপরোয়া গতির কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের ওপর তুলে দেয়। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় আয়েশা খাতুন, ইয়াছিনসহ মোট তিনজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন ও পথচারীরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালে পৌঁছানোর পর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মা আয়েশা খাতুন ও ছেলে ইয়াছিনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই দুর্ঘটনায় আহত অপর একজন নারী বর্তমানে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর চিকিৎসা চলছে। টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম জানিয়েছেন যে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করেছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


জবি গেটে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী আটক, পুলিশের কাছে হস্তান্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জবি গেটে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী আটক, পুলিশের কাছে হস্তান্তর

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় প্রধান ফটক এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের এক নেতাকে আটক করার পর পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে। সম্প্রতি রাতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করেন। আটক হওয়া ওই ব্যক্তির নাম সুমন খান মিরাজ, যিনি কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বলে জানা গেছে। তার বাড়ি পটুয়াখালী জেলার বদরপুর এলাকায় এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই ছাত্রসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের বেলা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ফটকের সামনে সন্দেহজনক অবস্থায় ফোনে কথা বলছিলেন ওই ব্যক্তি। তিনি মুঠোফোনে অন্যপ্রান্তের কাউকে আশপাশে লোকজনের অনুপস্থিতি জানিয়ে ক্যাম্পাসের আশপাশে ককটেল বিস্ফোরণ এবং ব্যানার লাগানোর বিষয়ে নির্দেশনা দিচ্ছিলেন। তার এই কথোপকথন শুনে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সন্দেহ হয় এবং তারা তাকে জেরা করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা তাকে দ্রুত ঘিরে ধরে আটক করতে সক্ষম হন।

আটকের পর উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ওই ব্যক্তির মোবাইল ফোন তল্লাশি করে দেখেন যে, তাতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রসংগঠনের বিভিন্ন মিছিল ও শোডাউনের ছবি ও ভিডিও সংরক্ষিত রয়েছে। তবে তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ধরনের মারাত্মক অস্ত্র বা বিস্ফোরক উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে তাকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীদের একটি কক্ষে নিরাপদে আটকে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে কোতোয়ালি থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আজম খান গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার সময় তিনি বিশ্রামে ছিলেন এবং পরবর্তীতে ফোন পেয়ে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠনের এক কর্মী আটকের বিষয়টি জানতে পারেন। শিক্ষার্থীরা ককটেল বিস্ফোরণ ও ব্যানার টানানোর পরিকল্পনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ এনেছেন এবং প্রক্টরিয় টিম তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করে। এদিকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওই নেতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তবে এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।