শেয়ার বাজার

কয়েক দশক ধরে ছিলেন বন্ধু, একটি ডিএনএ পরীক্ষা জানালো তারা বোন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কয়েক দশক ধরে ছিলেন বন্ধু, একটি ডিএনএ পরীক্ষা জানালো তারা বোন

ছোটবেলায় ভিন্ন পরিবারে দত্তক নেওয়া এবং নেদারল্যান্ডসে একই এলাকায় বেড়ে ওঠা দুই নারীর জীবনে এক অবিশ্বাস্য ও রোমাঞ্চকর সত্য উন্মোচিত হয়েছে। কয়েক দশক ধরে বন্ধু হিসেবে পথ চলার পর একটি সাধারণ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন যে তারা জৈবিকভাবে প্রকৃত দুই বোন। শৈশবের সেই পরিচয় এবং দীর্ঘদিনের সখ্য যে রক্ত সম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত, তা এতদিন তাদের কারোরই জানা ছিল না।

ভারতের মাটিতে জন্ম নেওয়া এই দুই নারীকে তাদের শৈশবেই আলাদা পরিবারের কাছে দত্তক দেওয়া হয়। এরপর ভাগ্যের চাকা ঘুরে তাদের ঠিকানা হয় ইউরোপের দেশ নেদারল্যান্ডসের দুটি ভিন্ন পরিবারে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ভৌগোলিক দূরত্ব বা ভিন্ন পরিবারে লালিত-পালিত হলেও তারা একে অপরের কাছাকাছি অঞ্চলেই বড় হয়েছেন এবং বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তাদের মধ্যে একটি গভীর বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

চল্লিশোর্ধ্ব বয়সে এসে কৌতূহলবশত নিজেদের শিকড় অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেন এই দুই নারী। সেই লক্ষ্যেই তারা একটি কমার্শিয়াল ডিএনএ টেস্ট বা বংশগতির পরীক্ষা করানোর উদ্যোগ নেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মূলত তাদের জৈব পরিবার বা পৈতৃক উৎস সম্পর্কে কিছু তথ্য উদ্ধার করা, যা তাদের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত কৌতূহল দূর করতে পারে।

তবে পরীক্ষার ফলাফল হাতে পাওয়ার পর যে তথ্য সামনে আসে, তা তাদের এবং তাদের পরিচিতজনদের সম্পূর্ণ বাকরুদ্ধ করে দেয়। ল্যাবরেটরির প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়ে যায় যে তারা কেবল সাধারণ বন্ধু নন, বরং একই মা-বাবার পেটের দুই বোন। দীর্ঘকাল ধরে বন্ধু হিসেবে একসঙ্গে সময় কাটানোর পর এই আকস্মিক ও চমকপ্রদ সত্য আবিষ্কার তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় বিস্ময় হয়ে এসেছে।

মার্কিন পুঁজিবাজার, সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে এআই বটের অনধিকার প্রবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মার্কিন পুঁজিবাজার, সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে এআই বটের অনধিকার প্রবেশ

অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মহলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সরকারি পোর্টাল, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ওপেনএআইয়ের বট বা এজেন্টগুলোর অনুমতিহীন প্রবেশাধিকারের ঘটনা সামনে এসেছে। আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই আগ্রাসী আচরণ ডেটা প্রাইভেসি এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। বিশেষ করে গোপনীয় ও সংরক্ষিত ডেটার সুরক্ষা নিশ্চিত করা নিয়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এর আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ দেশটির সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি জানান যে, ওপেনএআইয়ের স্বয়ংক্রিয় এজেন্টগুলো এমন কিছু নথিপত্র এবং ডিজিটাল পাতার নাগাল পেয়েছে যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত ছিল না। সরকারি সুরক্ষাবেষ্টনী ও গোপনীয়তার নীতিমালা এড়িয়ে এ ধরনের সংবেদনশীল তথ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রবেশ সংশ্লিষ্ট করণিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই ফুটিয়ে তুলেছে।

অস্ট্রেলিয়ার এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মার্কিন পুঁজিবাজারের বিভিন্ন পোর্টাল এবং বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অনিয়মের তথ্য মিলছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব গবেষণা ও সংরক্ষিত ডেটাবাসেও এই এআই বটগুলোর অযাচিত উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। এর ফলে প্রাতিষ্ঠানিক গোপনীয়তা বজায় রাখা এবং সাইবার অপরাধ রোধ করা আগের চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রযুক্তি জায়ান্ট এবং ওপেনএআইয়ের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর দাবি জোরালো হচ্ছে। সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য সুরক্ষায় আরও কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি এআই বটগুলোর কাজের পরিধি নির্ধারণ করে দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। অন্যথায় এই ধরনের অনধিকার প্রবেশের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বড় কোনো ডিজিটাল সংকটের সৃষ্টি করতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।


জন্মদিন পালনের আয়োজন করে কেক-মোটরসাইকেল ফেলে পালাল নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতাকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জন্মদিন পালনের আয়োজন করে কেক-মোটরসাইকেল ফেলে পালাল নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতাকর্মীরা

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সম্প্রতি উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের দক্ষিণ দড়িকান্দি জোড়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। বড়কান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে একটি ফাঁকা সড়কে এই কেক কাটার আয়োজন করা হয়েছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আয়োজক ও সেখানে জড়ো হওয়া ব্যক্তিরা দ্রুত পালিয়ে যান, ফলে কেক কাটার আগেই পুরো অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়।

পুলিশ সূত্র জানায়, ওই স্থানে প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন নেতাকর্মী জড়ো হয়ে কেক কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। জাজিরা থানা পুলিশের একটি নিয়মিত টহল দল সেখানে পৌঁছালে বিশৃঙ্খলা এড়াতে ও নিজেদের রক্ষায় তারা পালিয়ে যাওয়ার পথ বেছে নেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাউকে আটক করতে না পারলেও পড়ে থাকা বিভিন্ন আলামত জব্দ করে। এই আকস্মিক অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের তৎপরতা সাময়িকভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন।

ঘটনাস্থল তল্লাশি করে পুলিশ একটি আস্ত কেক এবং পাঁচটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে জব্দকৃত মোটরসাইকেলগুলোর প্রকৃত মালিক কে কিংবা ঘটনার সময় কারা সেগুলো ব্যবহার করছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া যানগুলোর রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে মালিকদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে নড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ জানান, কেক কাটার প্রস্তুতির খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে একটি কেক ও পাঁচটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। এই পুরো ঘটনার বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং জড়িতদের ধরতে পুলিশ সজাগ রয়েছে।


নানা সংকটে বান্দরবানের পর্যটন শিল্প, বাড়ছে ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নানা সংকটে বান্দরবানের পর্যটন শিল্প, বাড়ছে ভোগান্তি

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি বান্দরবান পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হলেও নানা সংকটের কারণে এই খাতের কাঙ্ক্ষিত বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো পর্যটক পাহাড়ের রূপ লাবণ্য উপভোগ করতে এই জেলায় ছুটে আসেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পর্যটন খাতের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি থাকায় ভ্রমণপিপাসুদের নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে সম্ভাবনাময় এই খাতটি পূর্ণাঙ্গভাবে বিকশিত হতে পারছে না।

বান্দরবানের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখা গেছে, দিনের আলো নিভে অন্ধকার নামলেই গোটা পর্যটন শহরে এক ধরণের নিস্তব্ধতা নেমে আসে। শহরের আশপাশের পর্যটনকেন্দ্রগুলো ঘুরে দর্শনার্থীরা বিকেল নাগাদ শহরে ফিরে আসেন, কিন্তু সান্ধ্যকালীন বিনোদনের কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় তাদের রাতে হোটেল কক্ষের চার দেওয়ালে বন্দি থাকতে হয়। পরিবার-পরিজন ও শিশুদের নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটকদের সময় কাটানোর মতো কোনো আধুনিক পার্ক বা বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় তাদের ভ্রমণ আনন্দ অনেকাংশেই ম্লান হয়ে যায়।

পর্যটন ব্যবসায়ীদের মতে, বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনের কারণে বান্দরবানে মৌলিক উন্নয়নমূলক কাজগুলো থমকে আছে। জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগের অভাবের কথা তুলে ধরে সংশ্লিষ্টরা জানান, শিশুদের মানসিক বিকাশ ও পর্যটকদের চিত্তবিনোদনের জন্য একটি আধুনিক ওয়াকওয়ে বা অ্যামিউজমেন্ট পার্ক নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি। দায়িত্ব পালনে অনীহা ও পারস্পরিক দ্বন্দ্বের অবসান না ঘটলে স্থানীয় নাগরিক ও পর্যটকদের কাঙ্ক্ষিত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

পাহাড়ের এই পর্যটন সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সান্ধ্যকালীন বিনোদনের সঙ্গে যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক মঞ্চ, পাহাড়ি ঐতিহ্যবাহী খাবারের মেলা এবং হস্তশিল্পের বাজার গড়ে তোলা গেলে পর্যটকদের একঘেয়েমি কাটার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও আরও চাঙা হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সুনির্দিষ্ট মহাপরিকল্পনা গ্রহণ এবং সব মহলের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমেই কেবল বান্দরবানের পর্যটন শিল্পকে টেকসই ও সমৃদ্ধ করা সম্ভব।