শেয়ার বাজার

কোনো পার্টিতে সব বন্ধুকে দাওয়াত না দেওয়া কি অভদ্রতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কোনো পার্টিতে সব বন্ধুকে দাওয়াত না দেওয়া কি অভদ্রতা

সামাজিক জীবন এবং বন্ধুত্বের পরিসরে প্রায়ই একটি বিব্রতকর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়, আর তা হলো কোনো আয়োজনে সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো বাধ্যতামূলক কি না। বন্ধু মহলে ঘরোয়া কোনো আড্ডার পরিকল্পনা করার সময় এই বিষয়টি নিয়ে অনেকের মধ্যেই দ্বিধা কাজ করে। অনেকে মনে করেন, পরিচিত সবাইকে না ডাকলে হয়তো ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে বা সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিতে পারে।

তবে এই পরিস্থিতির একটি বাস্তবসম্মত দিকও রয়েছে যা প্রায়ই উপেক্ষা করা হয়। কোনো একটি বিশেষ অনুষ্ঠান বা জমায়েতের জন্য সব পরিচিত বন্ধুকে একসঙ্গে আমন্ত্রণ জানানো অনেক সময়ই অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। কারণ ব্যক্তিগত পরিসর এবং বাজেটের কথা মাথায় রেখে ছোট পরিসরে অনুষ্ঠান করতে চাওয়াটা পুরোপুরি স্বাভাবিক একটি বিষয়।

বাস্তবতার খাতিরে হিসাব করলে দেখা যায়, নিজের সব বন্ধুকে যদি একসঙ্গে কোনো আয়োজনে ডাকতে হয়, তবে তা কোনো সাধারণ ঘরোয়া অনুষ্ঠান থাকে না। বরং এর জন্য আস্ত একটি কনভেনশন সেন্টার ভাড়া করা এবং পেশাদার ক্যাটারিং সার্ভিসের ব্যবস্থা করার প্রয়োজন পড়ে, যা সব সময় সবার পক্ষে সম্ভব হয় না।

তাই বন্ধুত্বের গভীরতা এবং পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ছোট পরিসরে অনুষ্ঠান করাকে অভদ্রতা হিসেবে দেখার কোনো অবকাশ নেই। খোলামাথা আলোচনা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমেই বন্ধুত্বের এই ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝিগুলো সহজেই দূর করা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত ৫০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত ৫০

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দুটি পক্ষের মধ্যে তীব্র রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষের ফলে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে চলা এই সংঘর্ষে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া একজন গণমাধ্যমকর্মীসহ উভয় পক্ষের অন্তত পঞ্চাশজন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা বিএনপি কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া এবং হাওরের বিভিন্ন জলমহাল ইজারা নেওয়াকে কেন্দ্র করে দলটির স্থানীয় নেতাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এছাড়া দলীয় ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে তা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তবে ঠিক কী কারণে হঠাৎ করে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সংঘর্ষের তীব্রতায় উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হয়। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এক সাংবাদিকও আঘাতপ্রাপ্ত হন। সংঘাতের একপর্যায়ে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।

খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান জানিয়েছেন যে বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


জাতিসংঘ সফর শেষে নিউইয়র্ক থেকে দুবাই পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জাতিসংঘ সফর শেষে নিউইয়র্ক থেকে দুবাই পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের ইভেন্টে অংশগ্রহণ শেষে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশের পথে রওনা হয়েছেন সরকারপ্রধান। সফরসঙ্গীদের নিয়ে তিনি ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাইয়ে এসে পৌঁছেছেন। যাত্রাপথে কিছু সময় বিরতির জন্য দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার বিমানটি অবতরণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই কূটনৈতিক সফরে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ছাড়াও সরকারের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সফরসঙ্গী উপস্থিত রয়েছেন। তারা সবাই মিলে একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে করে আমেরিকার নিউইয়র্ক ছেড়েছিলেন। সুদীর্ঘ এই বিমান যাত্রার পর নির্ধারিত সময়ে তাদের বহনকারী বিমানটি নিরাপদে দুবাইয়ে এসে পৌঁছায়।

দুবাই বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা স্থানীয় সময় শনিবার রাত ৮টা ২৩ মিনিটে অবতরণ করেন। বিমানবন্দরটিতে পৌঁছানোর পর স্থানীয় কূটনৈতিক কর্মকর্তা এবং প্রবাসীরা তাকে অভ্যর্থনা জানান। সেখানে যাত্রাবিরতি শেষে তিনি খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন অধিবেশনে যোগ দেন এবং বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। দেশের কূটনৈতিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দুবাই হয়ে তার এই সফল সফর সমাপ্তির পর শিগগিরই দেশে ফেরার কথা রয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একুশতম অধিবেশনে অংশ নিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরের অংশ হিসেবে তিনি নিউইয়র্কে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বিন আবদুল্লাহ আল সৌদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। জাতিসংঘ সদরদপ্তরের নির্ধারিত দ্বিপক্ষীয় কক্ষে সম্প্রতি এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। দুই দেশের শীর্ষপর্যায়ের এই সাক্ষাতে ঢাকা ও রিয়াদের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এ কে এম নাজমুল হক এই বৈঠকের সার্বিক বিষয়বস্তু গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে বাংলাদেশ এবং সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো প্রসারিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং যৌথ উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অংশীদারিত্ব জোরালো করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন। এছাড়া পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও দুই দেশের প্রতিনিধিরা খোলামেলা মতবিনিময় করেছেন।

আলোচনাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সৌদি বিনিয়োগ এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিভিন্ন সম্ভাব্য দিক তুলে ধরেন। জবাবে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যকার অংশীদারিত্বের সম্পর্ক আগামী দিনে আরও উঁচুতলায় নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। রিয়াদ ও ঢাকার পারস্পরিক সম্প্রীতি ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে বলে বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবের এই যোগাযোগ ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বৈঠকের শেষাংশে উভয় দেশের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়।