শেয়ার বাজার

জাতিসংঘে খলিলুর রহমানের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘে খলিলুর রহমানের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এই উচ্চপর্যায়ের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার এক প্রতিবেদনে এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি। দুই শীর্ষ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সাম্প্রতিক নানা ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও বিস্তারিত মতবিনিময় করেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিরাজমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে কীভাবে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়েও তাদের মধ্যে কথা হয়।

বর্তমানে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এই সফরে তিনি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই কূটনৈতিক তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে জাতিসংঘে যখন নানা আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই এই সাক্ষাৎ হলো।

অন্যদিকে, খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করছেন। তার কার্যালয় থেকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অভিজ্ঞ কূটনীতিকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবেই ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠক সম্পন্ন হয়। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট উত্তরণে জাতিসংঘের প্ল্যাটফর্মে আলোচনার প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

‘পাশের জমির মালিকের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে’ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, আটক ৩: পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

‘পাশের জমির মালিকের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে’ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, আটক ৩: পুলিশ

জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাশের এক জমির মালিকের দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই সহিংসতার সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় স্টুডিওটির ভেতরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের এলাকায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিরোধপূর্ণ ওই জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে জটিলতা চলে আসছিল। ঘটনার দিন হঠাৎ করেই একদল লোক স্টুডিও চত্বরে চড়াও হয় এবং জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা স্টুডিওর বিভিন্ন আসবাবপত্র ও মূল্যবান যন্ত্রাংশ ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খবর পেয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের তেজগাঁও অঞ্চলের সহকারী কমিশনার নাজমুল আলম সংবাদমাধ্যমকে জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

এই আকস্মিক হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সালমান মুক্তাদিরসহ সংশ্লিষ্টরা। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। বর্তমানে ওই এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


রাজশাহীতে মুদি দোকান পোড়ানোর পর দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজশাহীতে মুদি দোকান পোড়ানোর পর দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা

রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার বাকির মোড় এলাকায় চাঞ্চল্যকর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খুচরা টাকা ভাঙিয়ে দিতে অস্বীকার করার জেরে আবদুল বারী (৪০) নামের এক মুদি দোকানিকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে হামলাকারীরা পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করে তার দোকানটি সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেয়। এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। নিহত আবদুল বারী ওই এলাকারই বাসিন্দা বদরুল সরকারের ছেলে ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সততার সঙ্গে মুদি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় মূলত হত্যাকাণ্ডের দিন সন্ধ্যার পর। ওই সময় নগরীর চণ্ডিপুর এলাকা থেকে কিছু বখাটে যুবক বাকির মোড় এলাকায় মাদক সেবনের উদ্দেশ্যে আসে। তারা আবদুল বারীর দোকানে খুচরা টাকা ভাঙানোর জন্য গেলে তিনি তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এর জেরে দোকানির সঙ্গে যুবকদের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা হলেও বখাটেরা প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে এবং এর মারাত্মক পরিণতি হিসেবে গভীর রাতে এই হামলা চালানো হয়।

পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাত পৌনে দুইটার দিকে অর্ধশতিকারও বেশি মানুষের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও পেট্রল বোমা নিয়ে আবদুল বারীর দোকানের সামনে জড়ো হয়। হামলাকারীরা প্রথমে বারীর বাড়ির সামনে অবস্থিত মুদি দোকানের শাটারের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর পেট্রল বোমা মেরে দোকানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়, যা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা ও শব্দ শুনে বারী ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং চিৎকার শুরু করেন।

পরিবারের সদস্যরা টের পাওয়ার পর হামলাকারীরা সরাসরি আবদুল বারীকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে রাজপাড়া থানা পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পুলিশ এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এজাহার দাখিলের পর অভিযুক্তদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।


চুয়েটে আন্দোলনের পঞ্চম দিন, নতুন উপাচার্যকে ‘লাল কার্ড’ শিক্ষার্থীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চুয়েটে আন্দোলনের পঞ্চম দিন, নতুন উপাচার্যকে ‘লাল কার্ড’ শিক্ষার্থীদের

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চলমান আন্দোলন পঞ্চম দিনে গড়ায়। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে বহাল রাখার এই আন্দোলনে উত্তাল রয়েছে পুরো ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টির সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্তমানে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে সম্প্রতি ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। দুপুর নাগাদ আয়োজিত এই মিছিলে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের নাম উল্লেখ করে তাঁকে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করা হয়। এর আগে সকালে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চত্বর ও একাডেমিক ভবনের দেওয়ালজুড়ে নানা ধরনের প্রতিবাদী গ্রাফিতি আঁকেন তাঁরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাঁরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্লাসে ফিরতে চান, তবে তাদের একমাত্র দাবি অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের পুনর্বহাল। বিগত কয়েক দিনে এই দাবিতে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন, মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে পাহারা দেওয়া, কমপ্লিট শাটডাউন এবং মশাল মিছিলের মতো কর্মসূচি পালন করেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর সরকার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চুয়েটের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। তাঁর পরিবর্তে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা এবং তখন থেকেই ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।