শেয়ার বাজার

জার্মানজুড়ে ৪৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর গণবিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জার্মানজুড়ে ৪৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর গণবিক্ষোভ

জার্মানিতে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা চালুর সরকারি উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি দেশটির শতাধিক শহরে ক্লাস বর্জন করে রাজপথে নেমে আসেন ৪৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী। 'স্কুল স্ট্রাইক অ্যাগেইনস্ট কনস্ক্রিপশন' নামক একটি উদ্যোগের ব্যানারে এই ব্যাপক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। মূলত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ১৮ বছর বয়সী তরুণদের সামরিক বাহিনীতে যোগদানের উপযোগিতা যাচাইয়ের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তলব করা শুরু করলে এই ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে।

বিক্ষোভকারী তরুণদের প্রধান অভিযোগ হলো, সামরিক বাহিনীতে যোগদানে বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই এমন শত শত শিক্ষার্থীকেও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কিল শহরের ১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী গোলো কির্শ জানান, তাদের জানানো হয়েছিল চিকিৎসা সংক্রান্ত পরীক্ষা আগামী বছর থেকে শুরু হবে এবং এটি একটি স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের এক বছর আগেই তার মেইলবক্সে তলবপত্র চলে আসে এবং সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয় যে এই বাধ্যবাধকতা এখনই কার্যকর করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তারা জোরপূর্বক কোনো স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নেবেন না এবং ব্যারাকেও যাবেন না।

চলতি দশকের শুরুর দিকে প্রণীত জার্মানির নতুন সামরিক সেবা আইনের আওতায় ১৮ বছর বয়সী সব পুরুষকে একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নপত্র পূরণ করতে হয়। এর মাধ্যমে তাদের শারীরিক সক্ষমতা, বিভিন্ন দক্ষতা এবং সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদানের মানসিকতা যাচাই করা হয়। যদিও বর্তমান সরকার সামরিক সেবা ব্যবস্থাকে স্বেচ্ছামূলক বলে দাবি করছে, তবুও শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা সরকার ধীরে ধীরে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ ফিরিয়ে আনার গোপন কৌশল বাস্তবায়ন করছে। ২০০৮ সালের পরে জন্ম নেওয়া তরুণদের জন্য এই স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হলেও সীমিত সক্ষমতার কারণে তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মূলত জার্মান সশস্ত্র বাহিনীতে দীর্ঘদিনের তীব্র জনবল সংকট দূর করতেই সরকার এই নতুন সামরিক সেবা নীতি গ্রহণ করেছে। বর্তমানে দেশটির সক্রিয় সেনাসদস্যের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪০০ হলেও, আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক সংকট এবং ন্যাটোর নির্ধারিত প্রতিরক্ষা লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ২ লাখ ৬০ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জনে প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার নতুন সদস্য প্রয়োজন। তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শুধু স্বেচ্ছাসেবী পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে এই লক্ষ্য অর্জন করা অত্যন্ত দুরূহ হবে, যার ফলে ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গটি আবারও সামনে আসতে পারে।

জাতিসংঘে জাইমা রহমানের নিয়োগ: লিগ্যাল অফিসার পদটির কাজ কী?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জাতিসংঘে জাইমা রহমানের নিয়োগ: লিগ্যাল অফিসার পদটির কাজ কী?

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে সম্প্রতি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। এই নিয়োগের ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁর এই অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জাতিসংঘের এই বিশেষ পদে মূলত আন্তর্জাতিক আইন প্রণয়ন, নীতি নির্ধারণী বিষয়ে আইনি সহায়তা প্রদান এবং বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় আইনি জটিলতা নিরসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয়। লিগ্যাল অফিসাররা বিশ্বজুড়ে শান্তি, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা ও আইনি পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যলয় অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এখানকার কর্মকর্তাদের অত্যন্ত উচ্চমানের পেশাগত দক্ষতা ও আইনি জ্ঞানের অধিকারী হতে হয়।

জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থায় এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য প্রার্থীদের অত্যন্ত কঠোর ও প্রতিযোগিতামূলক বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। বিশ্বমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা, আন্তর্জাতিক আইনের ওপর গভীর জ্ঞান এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দীর্ঘ ও সফল কর্মঅভিজ্ঞতার পরই কেবল এই ধরনের পদে কাজের সুযোগ মেলে। ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের এই নিয়োগে তার নিখুঁত পেশাগত যোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে তার দক্ষতারই স্বীকৃতি মিলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে এই পদের দায়িত্ব পালন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ হলেও এটি একই সঙ্গে একটি চ্যালেঞ্জিং পেশাগত ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। বিশ্ব রাজনীতির নানা সমীকরণ এবং আন্তর্জাতিক নানা সংকটের আইনি দিকগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করে এই পদের কর্মকর্তাদের মতামত দিতে হয়। ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের এই সফল কর্মজীবন ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য মেধাবী ও দক্ষ তরুণদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করার ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


পুলিশের কেউ কেউ ফ্যাসিবাদীদের তথ্য দিচ্ছেন, রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পুলিশের কেউ কেউ ফ্যাসিবাদীদের তথ্য দিচ্ছেন, রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ফ্যাসিবাদের দোসরদের গোপনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রাজধানীতে পুলিশ সপ্তাহের পদক প্রদান অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, মাঠপর্যায়ের কিছু সদস্যের দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং অপরাধীচক্রকে তথ্য পাচারের সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের হাতে রয়েছে। শৃঙ্খলাভঙ্গের সঙ্গে জড়িত এসব সদস্যকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের মামলাও দায়ের করা হবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের তরুণ সমাজ ও জনগণের ব্যাপক সমর্থনের ওপর ভিত্তি করে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। অতীতে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যদের নিজেদের ভুল সংশোধনের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে জনপ্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে এবং জনস্বার্থের পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়াল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিণতির দায়িত্ব তাদের নিজেদেরই নিতে হবে।

সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে আইনগত সুরক্ষা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সৎ উদ্দেশ্যে কর্তব্য পালন করতে গিয়ে কোনো পুলিশ সদস্যের অনভিপ্রেত ছোটখাটো ভুল ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা হবে। তবে বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য প্রচলিত ফৌজদারি আইনেও বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে জনবান্ধব হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ পুলিশকে কোনো অবস্থাতেই ক্ষমতার দম্ভ দেখাতে দেখতে চায় না, বরং তারা সেবাধর্মী ও আস্থার প্রতীক হিসেবে পুলিশকে দেখতে চায়।

অনুষ্ঠানে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিগত সময়ের বিভিন্ন অপরাধের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিগত দেড় দশকে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান প্রশাসন বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের সঙ্গে থাকা প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে। অপরাধীরা স্বেচ্ছায় আইনের মুখোমুখি না হলে আইন নিজস্ব গতিতে তাদের বিচার সম্পন্ন করবে বলে জানান তিনি।

পুলিশ বাহিনীর কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন নানা পদক্ষেপের কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দেন যে, আগামী সপ্তাহে পুলিশের জন্য একটি স্বতন্ত্র সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠন করা হবে। পুলিশ সদর দপ্তরে অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে এই ইউনিট পরিচালিত হবে এবং এর কার্যক্রম বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়েও বিস্তৃত করা হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ও ফরেনসিক ল্যাব সংযুক্ত করার মাধ্যমে এই ইউনিট অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


মেজর জাহিদের স্ত্রীকে আয়নাঘরে নিপীড়নের বিভীষিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মেজর জাহিদের স্ত্রীকে আয়নাঘরে নিপীড়নের বিভীষিকা

পিলখানা সেনা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য সত্য জেনে ফেলায় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে নৃশংসভাবে খুন হন সেনা কর্মকর্তা মেজর জাহিদুল ইসলাম। পরবর্তীতে মরণোত্তর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তার জীবনের ওপর অন্ধকার নেমে আসে ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর সদরদপ্তরে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনার পর। পিলখানা থেকে তার এক কোর্সমেট ও বন্ধু তাকে ফোন করে অফিসারদের হত্যার খবর জানান, যা তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছিলেন। এরপর থেকেই তাকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয় এবং নিয়মিত নামাজ পড়া ও দাঁড়ি রাখার কারণে নানা ধরনের মানসিক নির্যাতন ও হেনস্তার শিকার হতে হয়। চরম এই পরিস্থিতিতে তিনি স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী সময়ে সাজানো বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

হত্যা নিশ্চিত করার পর তার মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করে দীর্ঘ আড়াই বছর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ফেলে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে জুরাইন কবরস্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এই হত্যাকাণ্ডের আসল চিত্র প্রকাশ্যে আসে, যেখানে দেখা যায় রূপনগরের যে ফ্ল্যাটে বন্দুকযুদ্ধের দাবি করা হয়েছিল সেখানে তেমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। মেজর জাহিদের হাত পেছনে মুচড়ে ভেঙে ফেলার পাশাপাশি অত্যন্ত কাছ থেকে গুলি করে তার বুক ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা চোখের সামনে থেকেও দীর্ঘদিন জানতে পারেননি তার এই নিষ্ঠুর পরিণতির কথা এবং কোথায় রয়েছে তার শেষ ঠিকানা।

স্বামীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ওই রাতেই মেজর জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলাকে তার কোলের দুগ্ধপোষ্য শিশুসহ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি সেলে তুলে নেওয়া হয়। ডিবির ওই বন্দিশালায় চার মাস সাতদিন তাদের গুম করে রাখা হয়, যার মধ্যে একটি নোংরা ও পোকায় ভরা কক্ষে ছোট বাচ্চাকে কোলে নিয়ে টানা দুই দিন ও দুই রাত চেয়ারেই বসে কাটাতে বাধ্য করা হয়েছিল তাকে। রিমান্ডের সময় তাকে হোলি আর্টিজান হামলার সঙ্গে স্বামীর সম্পৃক্ততা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং চরম মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। বন্দী অবস্থায় তিনি পর্দা করে নামাজ পড়তে চাইলে ডিবির লোকজন সেই চাদর টেনে ফেলে দিত এবং বিভিন্নভাবে উপহাস ও তাচ্ছিল্য করত। এমনকি স্বামীকে জঙ্গি হিসেবে স্বীকার না করলে তাকে ও তার অবুঝ দুই সন্তানকেও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে লাগাতার হুমকি দেওয়া হতো।

গুমের ঘটনার এক সপ্তাহ পর তার ছয় বছরের শিশুকন্যাকে নানু-দাদু দেখতে চাওয়ার নাম করে জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে আজিমপুরে একটি জঙ্গি নাটক সাজিয়ে তাকেও সেই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলা হয়। এতটুকু একটি অবুঝ শিশুকে ক্যামেরার সামনে দাঁড় করিয়ে সংবাদ সম্মেলন করার কারণে আজও গণমাধ্যম দেখলেই সন্তানরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এরপর ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে আশকোনার একটি বাসা থেকে তাকে ও তার আট মাসের শিশুকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে প্রথমে রিমান্ড এবং পরে দীর্ঘ ছয় বছরের বিভীষিকাময় কারাজীবন চাপিয়ে দেওয়া হয়। কারাগারে বন্দি থাকাকালীন ছোট বাচ্চার জন্য একটি মশারি পর্যন্ত ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, বরং মশার কামড় থেকে রক্ষা পাওয়ার ওড়না দিয়ে তৈরি improvised মশারিও কর্তৃপক্ষ কেড়ে নিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিল। দীর্ঘ এই সংগ্রাম ও নির্যাতনের শিকার হয়ে এই পরিবারটি আজ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, যা তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চরম অমানবিকতার এক জীবন্ত দলিল।