শেয়ার বাজার

জাহাঙ্গীরনগর ও ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে নতুন উপাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর ও ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে নতুন উপাচার্য

দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে দেশের কয়েকটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে নতুন শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা বা উপাচার্য দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন।

এর আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক কামরুল আহসানকে তাঁর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির সার্বিক কার্যক্রম গতিশীল রাখতে এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠানে চলা বিভিন্ন একাডেমিক ও প্রশাসনিক জট দূর করতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, অধ্যাপক কামরুল আহসানের অব্যাহতির পর নতুন উপাচার্য হিসেবে কে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও চ্যান্সেলরের কার্যালয় থেকে খুব দ্রুতই যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদদের এই পদগুলোতে চূড়ান্ত করা হবে। নতুন নেতৃত্ব পাওয়ার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় দুটির শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের প্রায় প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েই উপাচার্য পদে রদবদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ছাত্র-শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি এবং ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই ধারাবাহিক পরিবর্তনগুলো আসছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা আশা করছেন, নতুন উপাচার্যরা যোগদানের পর ক্যাম্পাসে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং গবেষণার পরিবেশ উন্নত করার ক্ষেত্রে জোরালো ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।

‘ইসরাইলি নির্বাচনের চালিকাশক্তি হলো ফিলিস্তিনিদের রক্ত’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

‘ইসরাইলি নির্বাচনের চালিকাশক্তি হলো ফিলিস্তিনিদের রক্ত’

ইসরাইলি রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি প্রচারণায় ফিলিস্তিনিদের রক্ত ও অধিকারকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান খলিল আল-হাইয়া এই মন্তব্য করেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানান যে, ইহুদিবাদী রাষ্ট্রটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা নির্যাতন ও রক্তপাতকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সংবাদমাধ্যম আল-আরাবি টিভিকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে হামাস নেতা আরও স্পষ্ট করেন যে, ইসরাইলের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকার কীভাবে আরও বেশি হরণ করা যায় তা নিয়ে এক ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে। অথচ তাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ খোঁজা এবং আন্তর্জাতিক মহলের সামনে নিজেদের একটি মানবিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা। কিন্তু বাস্তবে এর সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে, যেখানে ফিলিস্তিনিদের ওপর দমনপীড়ন বাড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা চলছে।

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে খলিল আল-হাইয়া স্মরণ করিয়ে দেন যে, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইসরাইলের যেকোনো রাজনৈতিক দলের মাধ্যমেই ফিলিস্তিনিরা চরম ভোগান্তি ও নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে। বিগত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াইয়ে ফিলিস্তিনিদের রক্তের ওপর দিয়েই হেঁটেছে ইসরাইলের প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক শক্তি।

সাক্ষাৎকারের শেষ পর্যায়ে হামাসের এই শীর্ষ নেতা জোর দিয়ে বলেন যে, তাদের কাছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ফিলিস্তিনি জনগণের দীর্ঘদিনের ত্যাগের বিনিময়ে তাদের জাতীয় লক্ষ্য, আকাঙ্ক্ষা ও ন্যায্য অধিকার অর্জন করা। বিদেশি বা আঞ্চলিক কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রই ফিলিস্তিনিদের এই অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে দমিয়ে রাখতে পারবে না বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ফিলিস্তিনি জনগণের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই প্রতিরোধ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।


মাদ্রাসার ছাদে ‘বিদ্যুতায়িত হয়ে’ দগ্ধ ৫ শিক্ষার্থী হাসপাতালে, সবার অবস্থা গুরুতর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মাদ্রাসার ছাদে ‘বিদ্যুতায়িত হয়ে’ দগ্ধ ৫ শিক্ষার্থী হাসপাতালে, সবার অবস্থা গুরুতর

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি আবাসিক মাদ্রাসার ছাদে খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পাঁচ শিশু শিক্ষার্থী মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছে। সম্প্রতি বিকেলে ফতুল্লার কাশিপুর হাজীপাড়া এলাকার মাহেলা খাতুন বালিকা মাদ্রাসায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। আহত শিশুদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীতে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তাঁরা সবাই জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দগ্ধ হওয়া শিক্ষার্থীরা সবাই ওই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রী এবং বিভিন্ন শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। আহতরা হলো ষষ্ঠ শ্রেণির জিদনী, চতুর্থ শ্রেণির লামিয়া আক্তার শাপলা, সপ্তম শ্রেণির সুমাইয়া আক্তার, তৃতীয় শ্রেণির আসিয়া আক্তার আফরোজা এবং চতুর্থ শ্রেণির আতিয়া। ঘটনার দিন বিকেলে পড়াশোনার ফাঁকে তারা সবাই মিলে তিনতলা মাদ্রাসা ভবনের ছাদে খেলাধুলা করতে গিয়েছিল। হঠাৎ ছাদ থেকে কোনো একটা বিকট শব্দ শুনতে পেয়ে মাদ্রাসার লোকজন দ্রুত উপরে ছুটে যান।

মাদ্রাসার ক্যাশিয়ার মো. ইউসুফ আলী জানান, ছাদে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান শিশুরা আগুনে ঝলসে যাওয়ার পর যন্ত্রণায় ছটফট করছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার তীব্রতা বিবেচনা করে তাদের দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। দগ্ধ শিশুদের ভাষ্যমতে, ছাদে খেলার সময় হঠাৎ করেই তাদের শরীরে আগুন ধরে যায়, তবে ঠিক কীভাবে এই ঘটনা ঘটল তা তারা স্পষ্ট করে বলতে পারেনি।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই মাদ্রাসা ভবনের ছাদের ঠিক ওপর দিয়েই উচ্চক্ষমতার বৈদ্যুতিক তার চলে গেছে। মাদ্রাসার কর্তাব্যক্তিদের ধারণা, ছাদের ওপর থাকা ওই বিপজ্জনক বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসায় শিশুগুলো বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ হয়েছে। এদিকে, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে দগ্ধ হওয়া পাঁচ শিশুর অবস্থাই অত্যন্ত গুরুতর। চিকিৎসকরা তাঁদের জীবন বাঁচাতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং জরুরি বিভাগে নিবিড় পর্যবেক্ষণ রাখা হয়েছে।


টঙ্গীতে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় মা-ছেলের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

টঙ্গীতে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় মা-ছেলের মৃত্যু

গাজীপুরের টঙ্গীতে দ্রুতগতির একটি কাভার্ড ভ্যানের চাপায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। সম্প্রতি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী বিআরটি উড়ালসড়কের স্টেশন রোড এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই প্রাণহানিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা ঘাতক কাভার্ডভ্যানসহ এর চালককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। পুলিশ গাড়িটি জব্দ করে চালককে হেফাজতে নিয়েছে।

নিহতরা হলেন ৪৫ বছর বয়সী আয়েশা খাতুন এবং তাঁর ২২ বছরের তরুণ ছেলে ইয়াছিন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার বাদাম মাছিয়া গ্রামে এবং তাঁরা মো. চান মিয়ার স্ত্রী ও সন্তান। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহতরা গ্রামের বাড়িতে একটি পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করে আলম এশিয়া পরিবহনের একটি বাসে চড়ে টঙ্গীর নিমতলী এলাকার ভাড়া বাসায় ফিরছিলেন। বাস থেকে নেমে তাঁরা স্টেশন রোড এলাকায় উড়ালসড়কের পাশে ফুটপাতে অবস্থান করছিলেন।

ঠিক সেই মুহূর্তে গাজীপুর থেকে ঢাকাগামী একটি বেপরোয়া গতির কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের ওপর তুলে দেয়। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় আয়েশা খাতুন, ইয়াছিনসহ মোট তিনজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন ও পথচারীরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালে পৌঁছানোর পর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মা আয়েশা খাতুন ও ছেলে ইয়াছিনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই দুর্ঘটনায় আহত অপর একজন নারী বর্তমানে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর চিকিৎসা চলছে। টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম জানিয়েছেন যে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করেছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।