শেয়ার বাজার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রবীণ শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এসংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের অন্যতম শীর্ষ এই বিদ্যাপীঠে নতুন প্রশাসনিক নেতৃত্ব নিশ্চিত হলো।

নিয়োগ পাওয়ার আগে অধ্যাপক নূরুল ইসলাম ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্যের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করছিলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে তাঁর পূর্বের সেই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী নতুন এই দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। দীর্ঘ একাডেমিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই শিক্ষককে নতুন দায়িত্ব দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে ইতিবাচক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

নতুন এই নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, অধ্যাপক নূরুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে পরবর্তী চার বছর এই পদে বহাল থাকবেন। তবে এর মধ্যে তাঁর বয়সসীমা অনুযায়ী অবসর গ্রহণের সময় ঘনিয়ে এলে সেটিই আগে কার্যকর হবে। পাশাপাশি তিনি তাঁর পূর্বপদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা এবং উপাচার্য পদের জন্য নির্ধারিত অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বিধি অনুযায়ী ভোগ করবেন বলে প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে।

প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে প্রজ্ঞাপনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে নবনিযুক্ত উপাচার্যকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাস এলাকায় অবস্থান করতে হবে। এছাড়া দেশের রাষ্ট্রপতি ও আচার্য প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় এই নিয়োগ আদেশ বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা চীনের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা চীনের

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে তেহরানের প্রতি ওয়াশিংটনের বৈরী নীতির ঘোর বিরোধিতা করেছে বেইজিং। সম্প্রতি বিশ্ব সংস্থার উচ্চপর্যায়ের ওই সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে চীনের শীর্ষস্থানীয় এক নেতা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমেরিকার একতরফা অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেন। বিশ্বমঞ্চে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে বেইজিং।

সম্মেলনে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং তার দেশের শক্ত অবস্থান তুলে ধরে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকটে আমেরিকার বর্তমান নীতি কোনো গঠনমূলক সমাধান আনছে না। বেইজিং মনে করে, বাইরের শক্তির অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞা কোনো দেশের সঙ্গেই সুসম্পর্ক তৈরির পথ সুগম করে না। বরং এই ধরনের বৈরী পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মন্তব্য করেন চীনা প্রতিনিধি।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ইরান ইস্যুতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব বরাবরই তীব্র। এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে তেহরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছে চীন। বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক নীতির অংশ হিসেবেই মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব বজায় রয়েছে।

জাতিসংঘের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক মঞ্চে চীনের এমন প্রকাশ্য অবস্থান বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গবেষকরা মনে করছেন, মার্কিন প্রভাববলয়কে পাশ কাটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব বিস্তার এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতি জোরদার করতেই চীন এমন মন্তব্য করেছে। এর ফলে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার কূটনৈতিক দূরত্ব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নদীতে ভেসে যাওয়া ছোট্ট হাতিকে পৌঁছে দেওয়া হলো মা হাতির কাছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নদীতে ভেসে যাওয়া ছোট্ট হাতিকে পৌঁছে দেওয়া হলো মা হাতির কাছে

নদীর খরস্রোতে ভেসে যাওয়া একটি ছোট্ট হাতিশাবককে উদ্ধারের পর নিরাপদে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় কতিপয় মৎস্যজীবী। উত্তরবঙ্গের একটি নদীর জলরাশির মধ্যে হঠাৎ করেই বিপদের মুখে পড়েছিল ওই বন্য প্রাণীটি। নদীর মাঝখানে জলের ওপর শুধু একটি ছোট্ট শুঁড় ভেসে থাকতে দেখে বিষয়টি নজরে আসে মৎস্যজীবীদের। আর সেই দৃশ্য দেখেই তারা বুঝতে পারেন যে কোনো একটি বন্য হাতি তীব্র স্রোতের কবলে পড়ে ভেসে যাচ্ছে।

উদ্ধারকাজে নিয়োজিত দলটি ছিল নর্থ বেঙ্গল ফিশারমেনস ফোরামের পাঁচ সদস্যের একটি দল। ওই সময় তারা নিজেদের কাজে নদীর জলে অবস্থান করছিলেন। দূর থেকে এই দৃশ্য দেখার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। ক্রান্তি-পাঞ্জাব বাঁধের নিকটবর্তী এলাকা থেকে তারা নিজেদের ছোট কাঠের নৌকাটি নিয়ে সরাসরি স্রোতের বিপরীতে এগিয়ে যান।

ছোট্ট নৌকা নিয়ে তারা প্রায় তিন মাইল দীর্ঘ বিপজ্জনক পথ পাড়ি দিয়ে মাঝনদীতে সেই অসহায় শাবকের কাছে পৌঁছান। প্রবল স্রোতের বিপরীতে নৌকা চালিয়ে বন্য প্রাণীর জীবন বাঁচানোর এই সাহসিকতা স্থানীয় এলাকায় দারুণ প্রশংসিত হয়েছে। মৎস্যজীবীদের এই দ্রুত পদক্ষেপ ও বিচক্ষণতার কারণেই শেষ পর্যন্ত বড় কোনো বিপদ থেকে রক্ষা পায় হাতিশাবকটি।

নদীর বিভিন্ন চরে ঘুরে বেড়ানো মৎস্যজীবীদের এই দলটির অক্লান্ত পরিশ্রমে অবশেষে শিশু হাতিটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পরবর্তী সময়ে বন বিভাগের নির্দেশনা ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় শাবকটিকে তার মায়ের খোঁজে নির্দিষ্ট এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে বন্যপ্রাণী রক্ষায় সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো।


শতকোটি টাকা বিনিয়োগেও কার্যত অচল কেরু চিনিকল

প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি, ২০২৬

শতকোটি টাকা বিনিয়োগেও কার্যত অচল কেরু চিনিকল

শতকোটি টাকার বিনিয়োগ সত্ত্বেও দেশের ঐতিহ্যবাহী কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডে স্বস্তি ফিরছে না। আধুনিকায়নের নামে স্থাপিত নতুন যন্ত্রপাতিতে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। ফলে চলতি ২০২৫-২৬ আখ মাড়াই মৌসুমে মিলের কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন আখচাষিরা।

মিল সূত্র জানায়, মাত্র চার দিনের (৯৬ ঘণ্টা) কার্যক্রমে ৫৩ ঘণ্টাই আখ মাড়াই বন্ধ রাখতে হয়েছে। একের পর এক যান্ত্রিক সমস্যায় মিল থেমে যাওয়ায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া জেলার হাজারো আখচাষির ওপর।

নির্ধারিত সময়ে আখ মাড়াই না হওয়ায় মাঠ ও মিল চত্বরে পড়ে থাকা আখ রোদে শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে আখের ওজন ও গুণগত মান কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি চিনি আহরণের হার কমে যাওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন আখচাষিরা।

গত ৫ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৫-২৬ মৌসুমের আখ মাড়াই কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। আধুনিক নতুন ইউনিটে মাড়াই শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত পুরোনো কারখানায় কার্যক্রম শুরু হয়। ৩০ ডিসেম্বর প্রথম দফার ক্রাশিং শেষ হওয়ার পর ১ জানুয়ারি নতুন ইউনিট চালু করা হলে শুরু হয় যান্ত্রিক বিপর্যয়। মিল হাউস, বয়লার ও টারবাইনসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশে ত্রুটির কারণে একের পর এক বন্ধ থাকে মিলের কার্যক্রম।

মিলের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর ৬ ঘণ্টা, ১ জানুয়ারি টানা ২৩ ঘণ্টা, ২ জানুয়ারি ৬ ঘণ্টা, ৩ জানুয়ারি ১৫ ঘণ্টা এবং ৪ জানুয়ারি প্রায় তিন ঘণ্টা আখ মাড়াই বন্ধ ছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জায়গা সংকটে ওজন শেষে পাওয়ার ট্রলিতে আনা আখ মাটিতে ফেলে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। আবার মিলের নিজস্ব ট্রাক্টরে আনা আখ দীর্ঘ সময় গাড়িতেই পড়ে থাকছে। এতে আখ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের লোকসানের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়েছে।

কেরু কর্তৃপক্ষ সুত্রে জানা যায়, ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত কেরু চিনিকলের আধুনিকায়ন করতে ২০১২ সালের জুলাইয়ে শুরু হয় ব্যালেন্সিং মর্ডানাইজেশন রেনোভেশন অ্যান্ড এক্সপেনশন (বিএমআরই) প্রকল্পের কাজ। ২০১২ সালে শিল্প মন্ত্রণালয় প্রথমে ৪৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। পরবর্তীতে সংশোধনের মাধ্যমে প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে ১০২ কোটি ২১ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়। আর প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি। তবে সাব-কন্ট্রাক্ট নেয় ভারতের একটি সুগার ইকুইপমেন্ট কোম্পানি, যারা মাঝপথে কাজ ফেলে চলে যায়। পরে দায়িত্ব পায় উত্তম এনার্জি লিমিটেড। নির্ধারিত দুই বছরের প্রকল্প সাত দফা সময় বাড়িয়েও ১৩ বছরে শেষ করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি দেখানো হয়েছে মাত্র ৭৮ দশমিক ৩২ শতাংশ।

সম্প্রতি একনেক প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে। আইএমইডির সুপারিশ অনুযায়ী, এর বাইরে আর সময় বা ব্যয় বাড়ানোর সুযোগ নেই।

এদিকে ট্রায়াল রানের সময় মিল থেকে বিকট শব্দ ও অপরিশোধিত বর্জ্যপানির কারণে দর্শনাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বাতাসে ছাই উড়ে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে চিনিকলের আশপাশের হাজারো মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাব্বিক হাসান জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নতুন ইউনিটে আখ মাড়াই চালুর চেষ্টা চলছে। যান্ত্রিক সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কেরুর বিএমআরই প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) ফিদা হাসান বাদশার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।