ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে কোনো রকম সামরিক সংঘাতে লিপ্ত হওয়ার পরিকল্পনা মস্কোর নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য রুশ আগ্রাসনের বিষয়ে যে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, তাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। সেন্ট পিটার্সবার্গে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে রুশ রাষ্ট্রপ্রধান জোর দিয়ে বলেন যে, ইউরোপীয় নেতাদের এমন আশঙ্কার পেছনে কোনো বাস্তবসম্মত কারণ নেই।
এর আগে ন্যাটোর বেশ কিছু সদস্যদেশ দাবি করেছিল যে, রাশিয়া ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রমণ চালাতে পারে এবং এর জবাবে দেশগুলোকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হবে। এই দাবির তীব্র সমালোচনা করে পুতিন বলেন, ইউরোপীয়রা অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইউরোপের ভূখণ্ডে সামরিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করার কোনো ইচ্ছাই রাশিয়ার সরকারের নেই।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে মস্কোর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে জার্মানি অভিযোগ করে যে, গত আগস্ট মাসে দেশটির লাইপজিগ বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ষড়যন্ত্র করেছিল মস্কো। একই সঙ্গে পোল্যান্ডও শঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, কিয়েভের পশ্চিমা মিত্রদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে পারে রুশ বাহিনী।
অপরদিকে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে দেশটির সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় চালুর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবছে রাশিয়া। পুতিন এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, আলোচনার সমস্ত প্রস্তাবই বর্তমানে বিবেচনাধীন রয়েছে এবং সবকিছুই সম্ভব। তবে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের বিপরীতে কী ধরনের কৌশলগত প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত, সে বিষয়ে মস্কো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।








