শেয়ার বাজার

ইমরান খানকে নিয়ে উভয় সংকটে পাকিস্তান সেনাবাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইমরান খানকে নিয়ে উভয় সংকটে পাকিস্তান সেনাবাহিনী

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে নতুন করে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কারাবন্দি থাকা সত্ত্বেও তাঁর দলের আসন্ন বিক্ষোভ কর্মসূচি সফল করতে রাজধানী ইসলামাবাদজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে বর্তমান প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন প্রধান সড়কে কন্টেইনার বসিয়ে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে। মূলত সাবেক এই ক্রিকেটারকে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে নানা কৌশল অবলম্বন করা হলেও তাঁর জনসমর্থনে ভাটা পড়েনি।

দেশের প্রধান গণমাধ্যমগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইমরান খানের নাম ও ছবি সরাসরি সম্প্রচার থেকে বিরত থাকলেও তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। তাঁর মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে বড় ধরনের আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ ও ক্রিকেট তারকারাও সংহতি প্রকাশ করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার অজুহাতে ইমরান খানের বোনসহ পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট যে, সামরিক প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বেসামরিক সরকারের জন্য কারাবন্দি এই নেতা বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের একটি বিশাল অংশের কাছে ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলগুলোর দুর্নীতির বিকল্প হিসেবে ইমরান খান অন্যতম জনপ্রিয় নেতা হিসেবে বিবেচিত হন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিশ্লেষকের মতে, দেশটি বর্তমানে ইমরান খানের বিপুল জনসমর্থন এবং সামরিক বাহিনীর একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রাখার জেদের কারণে এক গভীর রাজনৈতিক অচলাবস্থায় আটকে আছে। একদিকে সামরিক নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে ব্যস্ত রয়েছে, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে দুর্বল অর্থনীতি ও নিরাপত্তা সংকটের পাশাপাশি তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখোমুখি হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইমরান খানকে একপাশে সরিয়ে রাখার এই অনমনীয় নীতি দেশের ভেতরে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলার ঝুঁকি তৈরি করছে। এর ফলে সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের মূল এজেন্ডা বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অর্জিত কূটনৈতিক সাফল্যও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভিন্নমত দমনে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং বিচার বিভাগের ওপর নানামুখী চাপ প্রয়োগের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, যা দেশটির সামগ্রিক গণতান্ত্রিক চর্চাকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ফেলছে।

৭ কোটি টাকার সেতু নির্মাণে রডের বদলে তার, দুই কর্মকর্তা সাসপেন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

৭ কোটি টাকার সেতু নির্মাণে রডের বদলে তার, দুই কর্মকর্তা সাসপেন্ড

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে রডের পরিবর্তে জিআই তার এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের সত্যতা মিলেছে। কাজ শুরুর পর থেকেই নানা অনিয়মের কথা জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং রাতের আঁধারে নিম্নমানের কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রবণতার কারণে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। দিনের আলোতে ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের ওপর মানুষের পা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেগুলো ভেঙে পড়তে শুরু করে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বারবার মৌখিক অভিযোগ দেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরার পরও কাজের মানে কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আসেনি। সেতুটির নির্মাণকাজ নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং এর স্থায়ীত্ব নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দেয়।

প্রকল্পের তথ্যানুযায়ী, বেগমগঞ্জ উপজেলার জমিদারহাট এলাকায় ৪৯ দশমিক শূন্য ছয় মিটার দীর্ঘ এই আরসিসি সেতুর নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে। মেসার্স হক ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেয়েছিল, যা মূলত সেনবাগ পৌর আওয়ামী লীগের এক নেতার লাইসেন্সে পরিচালিত হচ্ছিল। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঠিকাদার সরাসরি কাজের মাঠে উপস্থিত না থেকে তার চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে কাজটি করিয়ে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, দিনের বেলা কাজ বন্ধ রেখে রাতের অন্ধকারে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে স্ল্যাব ও রেলিংয়ের কাজ সম্পন্ন করা হতো। ফলে সামান্য চাপেই সেতুটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়তে শুরু করে এবং এর দুর্বল অবকাঠামো সবার নজরে আসে। স্থানীয়রা এই অনিয়মের প্রতিবাদ জানালে ঠিকাদারের লোকজন তা আমলে নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার গুরুতরতা অনুধাবন করে এলজিইডির নোয়াখালী কার্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সরেজমিনে সেতুটি পরিদর্শন করেন। নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ফুটপাত ও রেলিংয়ের কাজে ব্যাপক ত্রুটি এবং নকশা বহির্ভূত কার্যক্রম দেখতে পান। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতেই ত্রুটিপূর্ণ ও নিম্নমানের স্ল্যাবগুলো হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে অপসারণ করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আগামী সাত দিনের মধ্যে নকশা ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী সমস্ত ত্রুটি সংশোধন করে লিখিতভাবে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

এই অনিয়মের দায়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এলজিইডির এক প্রকৌশলীকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে উপসহকারী প্রকৌশলী এবং ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট পদমর্যাদার ব্যক্তিরা রয়েছেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে কাজের কিছু ত্রুটি ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রকৌশলীদের উপস্থিতিতে তা সংশোধন বা ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে সরকারি অর্থে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে এমন গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হচ্ছে।


খাজনা কমাতে ঘুষ গ্রহণ ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার, ভিডিও ভাইরাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

খাজনা কমাতে ঘুষ গ্রহণ ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার, ভিডিও ভাইরাল

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষ নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো কাজ কিংবা বকেয়া খাজনা পরিশোধের ক্ষেত্রেও ঘুষ দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। সম্প্রতি উপজেলার চাঁপাপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আয়েশা খাতুনের বিরুদ্ধে লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে বড় অংকের সরকারি রাজস্ব মওকুফ করে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চাঁপাপুর ইউনিয়নের ঝাঁখর মৌজায় প্রায় দুই একর আয়তনের একটি জলাশয়ের প্রায় অর্ধশত বছরের বকেয়া খাজনা ও জরিমানা মিলিয়ে মোট ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৯০৭ টাকা পাওনা ছিল। কিন্তু অভিযুক্ত ভূমি কর্মকর্তা আয়েশা খাতুন মাত্র ৬ হাজার ৫৭৯ টাকা নিয়ে এই বিশাল অঙ্কের বকেয়া পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অনলাইন রসিদ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নির্ধারিত নিয়মের বাইরে গিয়ে অত্যন্ত কম টাকায় দীর্ঘদিনের বকেয়া পরিশোধ দেখিয়ে এই ঘাপলা করা হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ার একটি ভিডিও ক্লিপ সম্প্রতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং সর্বত্র সমালোচনার ঝড় ওঠে।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত ঘুষ লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আয়েশা খাতুন। তাঁর দাবি, বর্তমান ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা সিস্টেমে চাইলেই কেউ কোনো অনিয়ম করতে পারে না এবং এটি পুরোপুরি সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তিনি আরও জানান, পুরোনো কাগজপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে এবং সরকারি নীতিমালা ও আইন মেনেই ওই জমির সঠিক কর ও জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ঘুষ নেওয়ার ভিডিওটি পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হয়েছে বলে দাবি করে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে সরকারি রাজস্ব চুরির সামিল বলে অভিহিত করেছেন এবং এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। চাঁপাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হিটলু গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা যদি প্রমাণিত হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপরাধমূলক। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি অবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। এদিকে পুরো বিষয়টি সম্পর্কে বক্তব্য নেওয়ার জন্য আদমদীঘি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


৪৪ বছর পর খুঁজে পাওয়া গেল কিশোরীর লুকিয়ে রাখা চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

৪৪ বছর পর খুঁজে পাওয়া গেল কিশোরীর লুকিয়ে রাখা চিঠি

যুক্তরাজ্যের এসেক্সের হকলি এলাকায় একটি বাড়ি সংস্কারের সময় প্রায় চার দশকেরও বেশি পুরনো একটি চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে। বাড়ির সিঁড়ির ভেতরের একটি গোপন ও ফাঁকা স্থান থেকে চিঠিটি খুঁজে পান এক নির্মাণকর্মী। দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে সেখানে লুকিয়ে থাকা এই চিঠিটি ১০ বছর বয়সী এক কিশোরীর লেখা, যা সে ভবিষ্যতের কোনো মানুষের উদ্দেশ্যে রেখে গিয়েছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই চমৎকার ঘটনাটি প্রকাশ পায়।

চিঠিটি হাতে পাওয়ার পর বর্তমান গৃহকর্ত্রী মিশেল হারউডের কৌতূহল বেড়ে যায় এবং তিনি এর আসল লেখককে খুঁজে বের করার সিদ্ধান্ত নেন। ৩৬ বছর বয়সী এই দাতব্যকর্মী দেখতে পান যে, একটি শিশুর বয়সের তুলনায় চিঠিটির হাতের লেখা অত্যন্ত পরিপাটি ও সুন্দর। এরপর তিনি স্থানীয় একটি ফেসবুক কমিউনিটি গ্রুপে চিঠিটির ছবিসহ একটি পোস্ট করেন এবং লেখককে শনাক্ত করার আহ্বান জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শক্তির কারণে পোস্ট দেওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে স্থানীয় লোকজন চিঠিটির আসল লেখককে খুঁজে বের করতে সক্ষম হন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৮২ সালের ১২ আগস্ট লেখা এই চিঠির লেখক হলেন র‍্যাচেল মাইলস, যিনি বর্তমানে ৫৪ বছর বয়সে বাকিংহামশায়ারের মিল্টন কেইন্সে শিক্ষকতা করছেন। আশির দশকে জনপ্রিয় ব্রিটিশ টেলিভিশন অনুষ্ঠান 'ব্লু পিটার'-এর প্রভাবে শিশুদের মধ্যে টাইম ক্যাপসুল তৈরির যে ঝোঁক ছিল, তারই অংশ হিসেবে তিনি এটি করেছিলেন। সেসময় বাড়ির সিঁড়ির পেছনের ফাঁকা জায়গাটি দেখতে পেয়ে ছোট্ট র‍্যাচেলের মনে ভবিষ্যতের কারও জন্য চিঠি লুকিয়ে রাখার অভিনব ধারণাটি আসে। চিঠিতে তিনি নিজের পরিবারের সদস্যদের পরিবর্তে কেবল তাঁর তৎকালীন পোষা বিড়াল 'কিজি'র কথা উল্লেখ করেছিলেন, যে কিনা সেসময় এলাকায় বেশ জনপ্রিয় ছিল।

চিঠিটি বর্তমান মালিক মিশেলের হাতে পৌঁছানোর পর এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, কারণ চিঠিটি লেখার সময় তিনি পৃথিবীতেই আসেননি। পুরোনো স্মৃতি ফিরে পেয়ে শিক্ষক র‍্যাচেল মাইলসও অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছেন এবং এর সুবাদে অনেক পুরোনো মানুষের সঙ্গে তাঁর আবার যোগাযোগ হয়েছে। বর্তমান গৃহকর্ত্রী মিশেল ও চিঠিটির লেখক র‍্যাচেলের জীবনের মধ্যে অদ্ভুত কিছু মিলও রয়েছে, যার মধ্যে উভয়েরই বিড়াল পোষার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কীভাবে হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি ও মানুষকে ফিরিয়ে আনতে পারে, এই ঘটনাটি তারই এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রইল।