শেয়ার বাজার

হরমুজে মার্কিন লেজার অস্ত্র, নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার হচ্ছে মাইক্রোসফটের এক্সবক্স

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হরমুজে মার্কিন লেজার অস্ত্র, নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার হচ্ছে মাইক্রোসফটের এক্সবক্স

মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত কৌশলগত এবং সংবেদনশীল হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে একটি অত্যাধুনিক উচ্চক্ষমতার লেজার অস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত আকাশপথে সম্ভাব্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক ড্রোন খুব সহজেই প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে এই বিশেষ প্রযুক্তিটি মাঠে নামানো হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগ এই সামরিক পদক্ষেপের সত্যতা নিশ্চিত করেছে এবং এর কার্যকারিতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যেসব ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়, তার তুলনায় লেজার প্রযুক্তির মাধ্যমে অত্যন্ত কম খরচে আকাশপথের এই হুমকিগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব বলে দাবি করা হচ্ছে। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক ধরে নিরবচ্ছিন্ন গবেষণার মাধ্যমে এই প্রযুক্তি উন্নত করেছে মার্কিন গবেষকরা এবং বর্তমানে এর সক্ষমতা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশ এগিয়ে রয়েছে।

প্রযুক্তির দিক থেকে লেজার অস্ত্র পরিচালনার পদ্ধতিটি বেশ অভিনব এবং ব্যয় সাশ্রয়ী। প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো প্রতিটি আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য আলাদাভাবে কোনো ভৌত ক্ষেপণাস্ত্র বা ইন্টারসেপ্টর ছুড়তে হয় না, ফলে সামগ্রিক খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। এই অস্ত্রটি জেনারেটর কিংবা শক্তিশালী ব্যাটারি থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ সংগ্রহ করে সেটিকে অতি তীব্র আলোকরশ্মিতে রূপান্তর করে থাকে। পরবর্তীতে অত্যন্ত ঘনীভূত সেই রশ্মি নিখুঁতভাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর ওপর নিক্ষেপ করা হয়, যার ফলে মুহূর্তের মধ্যে যেকোনো ড্রোন বা আকাশযানের সংবেদনশীল অংশ অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে যায়। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিরেক্টেড এনার্জি কনসালট্যান্টসের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, এই ব্যবস্থা ড্রোনের গতিপথ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে অনুসরণ করে এর সেন্সর অকার্যকর করতে বা সম্পূর্ণ যানটি গুঁড়িয়ে দিতে দারুণভাবে সক্ষম।

এই লেজার ব্যবস্থার অন্যতম একটি আকর্ষণীয় ও চমকপ্রদ দিক হলো, এটি পরিচালনার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী কোনো জটিল নতুন যন্ত্রপাতি তৈরি না করে বরং পুনর্গঠিত এক্সবক্স কন্ট্রোলার ব্যবহার করছে। সামরিক বাহিনীর যুক্তি হলো, লক্ষ্যবস্তু নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আগে থেকেই ভিডিও গেম শিল্পে সফলভাবে তৈরি রয়েছে, তাই নতুন করে কন্ট্রোল সিস্টেম উদ্ভাবনের পেছনে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করার কোনো প্রয়োজন নেই। মার্কিন যুদ্ধজাহাজে এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগের পাশাপাশি মেক্সিকোর মাদক কার্টেলবিরোধী অভিযানেও এর ব্যবহারের নজির রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মানবদেহের বিরুদ্ধে সরাসরি এই অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তুলতে পারে এবং এর ফলে সেনাদের অতিরিক্ত গোলাবারুদ মজুত করার প্রয়োজনীয়তা অনেক কমে যাবে।

তবে এত সব সুবিধার পরেও এই প্রযুক্তির কিছু দৃশ্যমান সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। বর্তমানের লেজার সিস্টেমগুলোর আকার ও ওজন বেশ ভারী হওয়ার কারণে এগুলো সৈন্যদের ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারের উপযোগী নয় এবং বড় যুদ্ধজাহাজেই কেবল স্থাপন করতে হয়। তা ছাড়া, লেজার রশ্মি কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য সাধারণত পরিষ্কার আকাশের প্রয়োজন পড়ে এবং একসঙ্গে যদি বিপুলসংখ্যক ড্রোন ঝাঁক বেঁধে আক্রমণ চালায়, তবে একটি একক লেজার ব্যবস্থা সব লক্ষ্যবস্তুকে একই সময়ে মোকাবিলা করতে হিমশিম খেতে পারে। ফলে সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির আরও ব্যাপক উন্নতি সাধিত হলেও প্রচলিত ও বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শতভাগ বিকল্প হিসেবে লেজার একা যথেষ্ট হবে কি না, তা নিয়ে এখনও যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

বিশ্বমঞ্চেই গুডবাই বলবেন কিং কোহলি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিশ্বমঞ্চেই গুডবাই বলবেন কিং কোহলি

প্রায় দেড় দশক আগে ২০১১ সালে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের মধ্য দিয়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপের বর্ণিল যাত্র শুরু করেছিলেন বিরাট কোহলি। সময়ের পরিক্রমায় সেই তরুণ ক্রিকেটার আজ ৩৭ বছরে পা দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ও মহাতারকায় পরিণত হয়েছেন। তবে সব সুন্দর অর্জনেরই একটি পরিসমাপ্তি থাকে, যার ধারাবাহিকতায় এবার নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ের সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত দিলেন এই ভারতীয় ব্যাটার। সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম জিওস্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, তার ক্যারিয়ারের শেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপ হতে চলেছে আগামী আসরটি।

দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া এবং জিম্বাবুয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ক্রিকেট বিশ্বের এই মেগা আসরটি মাঠে গড়ানোর কথা রয়েছে আগামী বছরের অক্টোবর মাসে। বিদেশের মাটিতে ভিন্নধর্মী কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ এবং দীর্ঘমেয়াদের ক্লান্তি শরীর ও মনের ওপর যে প্রভাব ফেলে, তা বিবেচনা করেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। কোহলি জানিয়েছেন যে বাইরের কঠিন পরিস্থিতিতে খেলা বেশ চাপের হলেও ভারতের হয়ে শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চে নিজের সেরাটা নিংড়ে দেওয়াই এখন তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ও লক্ষ্য।

আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সফল এই ব্যাটার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লাল ও সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ক্রিকেট থেকে ইতোমধ্যে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। এর আগে ২০২৪ সালের জুনে দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর এই সংস্করণকে বিদায় জানান তিনি এবং পরবর্তীতে ২০২৫ সালের মে মাসে টেস্ট ক্রিকেট থেকেও অবসরের ঘোষণা দেন। বর্তমানে তিনি ভারতের হয়ে কেবল ওয়ানডে ফরম্যাটেই নিয়মিত মাঠে নামছেন, যার ফলে ভক্তদের জন্য আসন্ন এই বিশ্বকাপই হতে চলেছে জাতীয় দলের জার্সিতে তাকে শেষবারের মতো বড় কোনো টুর্নামেন্টে দেখার সর্বশেষ সুযোগ।

বিশ্বকাপের মঞ্চে কোহলির বর্ণাঢ্য অর্জনের ঝুলি বেশ সমৃদ্ধ, যার সূচনা হয়েছিল ২০১১ সালে প্রথমবারেই শিরোপা জয়ের মাধ্যমে। এরপর আরও কয়েকটি আসর খেলে ২০২৩ সালের সবশেষ ঘরের মাঠের ওয়ানডে বিশ্বকাপে তিনি দুর্দান্ত পারফর্ম করে ৭৬৫ রান সংগ্রহ করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েন। বিশ্বকাপের মতো বিশাল মঞ্চে দীর্ঘ ১০টি ম্যাচজুড়ে একই রকম একাগ্রতা ও তীব্রতা ধরে রাখাকে তিনি বরাবরই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন। বিশ্বমঞ্চে ৩৭ ম্যাচে প্রায় ৬০ গড়ে ১,৭৯৫ রান করা এই তারকার সামনে কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ভাঙার হাতছানিও রয়েছে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে নিজের শেষ বিশ্বকাপটি রাঙিয়ে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার জন্যই এখন সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার।


জাতিসংঘে খলিলুর রহমানের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জাতিসংঘে খলিলুর রহমানের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এই উচ্চপর্যায়ের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার এক প্রতিবেদনে এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি। দুই শীর্ষ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সাম্প্রতিক নানা ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও বিস্তারিত মতবিনিময় করেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিরাজমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে কীভাবে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়েও তাদের মধ্যে কথা হয়।

বর্তমানে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এই সফরে তিনি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই কূটনৈতিক তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে জাতিসংঘে যখন নানা আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই এই সাক্ষাৎ হলো।

অন্যদিকে, খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করছেন। তার কার্যালয় থেকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অভিজ্ঞ কূটনীতিকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবেই ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠক সম্পন্ন হয়। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট উত্তরণে জাতিসংঘের প্ল্যাটফর্মে আলোচনার প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


সাবেক স্ত্রী দ্বিতীয় বিয়ে করায় ১৪ বছরের ছেলেকে শ্বাসরোধে খুন করলেন বাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সাবেক স্ত্রী দ্বিতীয় বিয়ে করায় ১৪ বছরের ছেলেকে শ্বাসরোধে খুন করলেন বাবা

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় নিজ সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় আদালতের কাছে দোষ স্বীকার করেছেন এক পাষণ্ড পিতা। অভিযুক্ত ইব্রাহীম খলিল আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানান যে, তার সাবেক স্ত্রী অন্যত্রে বিয়ে করায় সেই ক্ষোভ ও প্রতিহিংসা থেকেই তিনি নিজ ১৪ বছর বয়সী সন্তানকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। এই লোমহর্ষক ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর পূর্বে নিহত মো. নাঈমের মাতা ও পিতার মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্কচ্ছেদ ঘটে। এরপর থেকেই কিশোর নাঈম তার নানাবাড়িতে থেকে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া চালিয়ে আসছিল। ইতিমধ্যে তার মা সম্প্রতি পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলে বিষয়টি ভালোভাবে মেনে নিতে পারেননি তার জৈবিক পিতা ইব্রাহীম খলিল। তিনি বিষয়টি নিয়ে নানা সময় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করতে শুরু করেন।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে নানাবাড়িতে রাতের খাবার খেয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েছিল মাদ্রাসাছাত্র নাঈম। কিন্তু পরদিন ভোরে ঘুম থেকে ওঠার পর তাকে বিছানায় পাওয়া যায়নি এবং খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে দুপুরে বাড়ির কাছের একটি ধানখেতের পাশ থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরদিন নিহতের মাতা ও ইব্রাহীমের সাবেক স্ত্রী ফাতেমা আক্তার বাদী হয়ে সুবর্ণচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সন্তান হারানোর পর অভিযুক্ত বাবা প্রথমে আত্মগোপনের চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে তাকে আটক করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেন এবং পরে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। পুলিশি ও আদালতের এই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পারিবারিক কলহ ও প্রতিশোধপরায়ণতার এক নির্মম পরিণতির সত্যতা প্রকাশ পায়।