শেয়ার বাজার

হরমুজ খুলতে ইরানের ৭ দিনের রোডম্যাপ প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হরমুজ খুলতে ইরানের ৭ দিনের রোডম্যাপ প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি সাত দিনের রোডম্যাপ পেশ করা হয়েছিল। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সেই প্রস্তাব স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। হোয়াইট হাউসে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, তেহরানের এই সর্বশেষ প্রস্তাবটি বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্ক সফরকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই নতুন রোডম্যাপের কথা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো ওই প্রস্তাবে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে স্থগিত থাকা শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রস্তাবও ছিল সেখানে। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রস্তাবটি মূলত গত জুন মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের একটি সংক্ষিপ্ত রূপ, যেখানে নানা শর্ত পূরণের পর প্রণালিটি উন্মুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

ইরানের প্রস্তাবিত রূপরেখা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে চলমান সামরিক অভিযান পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে মার্কিন প্রশাসন ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে, তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে এবং জব্দ হওয়া সম্পদের কিছু অংশ ছেড়ে দেবে। এই প্রক্রিয়াগুলোর সফল সমাপ্তির পর সপ্তম দিনে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার কথা ছিল। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক ইস্যুকে আলোচনার শুরুতে না রেখে প্রণালি খুলে দেওয়াকে প্রধান শর্ত করায় ওয়াশিংটন এই পথ এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই প্রসঙ্গে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হতে হলে তা দীর্ঘ ও জটিল আলোচনার মধ্য দিয়েই এগোতে হবে। দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর তাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নেই বলে হোয়াইট হাউসের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এর মধ্যেই গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে বিমান হামলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সব মিলিয়ে, দুই পক্ষই আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বললেও চুক্তির শর্ত এবং কর্মপন্থা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থান এখনো সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী রয়েছে।

মানিকগঞ্জে উল্টো পথে আসা বাসের ধাক্কায় মা-মেয়ে নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মানিকগঞ্জে উল্টো পথে আসা বাসের ধাক্কায় মা-মেয়ে নিহত

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার টেপড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। উল্টো দিক থেকে আসা বেপরোয়া গতির একটি যাত্রীবাহী বাস মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই মা ও তাঁর কোলের শিশু সন্তান গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত নারী সোনিয়া আক্তার মানিকগঞ্জের দেবেন্দ্র কলেজের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে থাকা শিশুটির নাম জান্নাত। সোনিয়ার স্বামী মো. আবুল হোসেন টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে কারারক্ষী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। ছুটির দিনে পরিবার নিয়ে টাঙ্গাইলে কর্মস্থলে ফেরার পথেই এই ভয়াবহ পরিণতি বরণ করতে হয় তাঁদের। সোনিয়ার গ্রামের বাড়ি শিবালয় উপজেলার জাফরগঞ্জ পয়লা গ্রামে।

নিহতের স্বামী আবুল হোসেন জানান, কয়েক দিনের ছুটিতে তিনি স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। স্ত্রীর পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর তাঁরা মোটরসাইকেলে করে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। টেপড়া এলাকায় পৌঁছানোর পর বিপরীত দিক থেকে আসা গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাসটি তাঁদের ধাক্কা দেয়। বাসের বেপরোয়া গতি ও নিয়মবহির্ভূতভাবে উল্টো পথে চলাকেই তিনি এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন এবং দোষী চালকের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।

বরংগাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠায়। দুর্ঘটনা ঘটানোর পর বাসটি ফেলে চালক ও সহকারী পালিয়ে গেলেও পুলিশ সেটিকে জব্দ করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং পলাতকদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয় বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন।


আন্তর্জাতিক এমিতে মনোনয়ন পেল ‘হাসিনা: ৩৬ ডেজ ইন জুলাই’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আন্তর্জাতিক এমিতে মনোনয়ন পেল ‘হাসিনা: ৩৬ ডেজ ইন জুলাই’

বাংলাদেশের গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং এর সমসাময়িক ঘটনাবলি নিয়ে নির্মিত আলোচিত প্রামাণ্যচিত্র ‘হাসিনা: ৩৬ ডেজ ইন জুলাই’ মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক এমি অ্যাওয়ার্ডসের জন্য মনোনীত হয়েছে। বিশ্বের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ইনভেস্টিগেটিভ ইউনিট বা আই-ইউনিট এই অনুসন্ধানী তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছে। ‘কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স’ বা সমসাময়িক বিষয়শ্রেণীতে এই চলচ্চিত্রটি এখন বিশ্বমঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, যা দেশের গণমাধ্যম ও চলচ্চিত্র জগতের জন্য একটি অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই প্রামাণ্যচিত্রের প্রধান অনুসন্ধানী সাংবাদিক বা ইনভেস্টিগেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জুলকারনাইন সায়ের খান। আন্তর্জাতিক এই মনোনয়নের খবরটি প্রকাশ পাওয়ার পর তিনি নিজের ভেরিফায়ার্ড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অনুভূতি প্রকাশ করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এই বৈশ্বিক স্বীকৃতি কোনো ব্যক্তিগত সাফল্য নয় বরং এটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশেষ করে আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে লড়াই করা শিক্ষার্থী, সাধারণ শ্রমিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি এই সম্মাননা উৎসর্গ করেন তিনি।

আন্দোলনের সময় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, সেই সকল শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জুলকারনাইন সায়ের খান বলেন, বহু মানুষ চরম ব্যক্তিগত ঝুঁকি মাথায় রেখে তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা ও সাক্ষ্য তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। সাধারণ মানুষের সেই অদম্য সাহস এবং প্রামাণ্যচিত্রটির নির্মাতাদের প্রতি আস্থার কারণেই আজকের এই সত্য ঘটনা বিশ্বদরবারে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। এছাড়া, আল জাজিরার আই-ইউনিটের সহকর্মীসহ পর্দার আড়ালে থেকে যারা এই কাজটি সফল করতে নিরলস পরিশ্রম করেছেন, তাদের সবার প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পটভূমিতে নির্মিত কোনো কনটেন্টের এমন মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। এর আগে ২০০৪ সালে বাংলাদেশি কিশোরদের হাত ধরে নির্মিত এবং একটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচারিত ‘আমরাও পারি’ প্রামাণ্যচিত্রটি বিশেষ ইন্টারন্যাশনাল এমি সম্মাননা অর্জন করেছিল। আগামী ২৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক এমি অ্যাওয়ার্ডসের জমকালো মূল আসরে কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের চূড়ান্ত বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। এই অর্জন আগামী দিনে দেশের তরুণ ও প্রতিভাবান সংবাদকর্মী এবং নির্মাতাদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করার পথ আরও সুগম করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


মেঘনায় ট্রলারডুবি: নিখোঁজ ৪ জনের ৩ মরদেহ উদ্ধার, জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মেঘনায় ট্রলারডুবি: নিখোঁজ ৪ জনের ৩ মরদেহ উদ্ধার, জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন

মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির মর্মান্তিক ঘটনার দীর্ঘ দুই দিন পর একই পরিবারের তিন শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নিহতরা হলেন কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামের হেলাল মিয়ার তিন সন্তান সামিয়া, সজীব ও শামীম। এর আগে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজারে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে ঝড়ের কবলে পড়ে তাদের বহনকারী ট্রলারটি নদীতে ডুবে যায়। সেই সময় ট্রলারে থাকা বেশ কয়েকজন যাত্রী নিখোঁজ হন এবং পরবর্তীতে রাইসা বেগম নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালানো হয়। অবশেষে সম্প্রতি ভোরে মেঘনা নদীর বুকে সামিয়া, সজীব ও শামীমের মরদেহ ভেসে উঠতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো শনাক্ত করেন এবং পরে অ্যাম্বুলেন্সযোগে সেগুলো নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। তবে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় তিন সন্তানের মরদেহ উদ্ধার হলেও তাদের বাবা হেলাল মিয়ার কোনো সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।

এদিকে তিন ভাইবোনের মরদেহ শ্রীমদ্দি গ্রামে পৌঁছানোর পর সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের আহাজারি ও কান্নায় সেখানকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে এবং শেষবারের মতো তাদের দেখতে শত শত মানুষ বাড়িতে ভিড় জমান। পরে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে সজীব ও শামীমের জানাজা শেষে তাদের চরিত্রকোনা কবরস্থানে দাফন করা হয়। অপরদিকে সামিয়ার জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে স্থানীয় কালিকাপুর কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

এই শোকাবহ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সান্ত্বনা দিতে হোমনা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাবীন এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম নিহতের বাড়িতে যান। তারা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকার্ত পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেন। একই পরিবারের তিন সন্তানের এমন আকস্মিক ও করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।