শেয়ার বাজার

হাঁটু মুড়ে বসে কেন প্রোপোজ করা হয়?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৪

হাঁটু মুড়ে বসে কেন প্রোপোজ করা হয়?

আর কদিন পরেই ভালোবাসার মাস ফেব্রুয়ারি। রোজ ডে দিয়ে শুরু হওয়া ভ্যালেন্টাইনস উইকের দ্বিতীয় দিন। ৮ ফেব্রুয়ারি সারা বিশ্বে প্রপোজ ডে হিসেবে পালিত হয়।

এ দিনে প্রেমে পড়া প্রতিটি ব্যক্তি তার হৃদয়ের কথা ও অনুভূতি প্রকাশ করেন সঙ্গীর কাছে। এমনকি প্রিয়জনের পক্ষ থেকেও সম্মতি আশা করেন।

প্রায়শই ছবিতে প্রোপোজের সময় হাঁটু মুড়ে বসে প্রেমিকাকে প্রেম বা বিয়ের প্রস্তাব দিতে দেখেছেন।

তবে এটি কিন্তু শুধুই রোমান্টিক অঙ্গভঙ্গি নয়, এর পেছনেও আছে ইতিহাস। চলুন হাঁটু মুড়ে প্রোপোজের রহস্য জেনে নেওয়া যাক-

হাঁটু মুড়ে বসে প্রপোজ করা নাইটহুড অর্থাৎ মধ্যযুগের ঐতিহ্য। তখন বিবাহ ও ধর্ম একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিল। তখন পুরুষরা প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দিতেন নতজানু হয়ে।

একজন ব্যক্তির হাঁটু মুড়ে বসে প্রোপোজ করা প্রার্থনা, সমর্পণ, সম্মান ও ভালোবাসার সঙ্গে জড়িত।

আরও পড়ুন: প্রিয়জনকে চুমু দিলে কী কী হয় জানলে অবাক হবেন

এমন পরিস্থিতিতে যদি কোনো ব্যক্তি হাঁটু মুড়ে বসে আপনাকে প্রস্তাব দেয়, তাহলে এটি কেবল ভালবাসা নয়, আপনার গুরুত্বও প্রকাশ করে।

তবে হাঁটু মুড়ে বসলেই হবে না, প্রোপোজের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক শব্দ নির্বাচন ও অনুভূতি প্রকাশ করা।

অনেকে লাখ টাকা খরচ করে তাদের সঙ্গীকে কোনো দামি জায়গায় নিয়ে প্রোপোজ করেন। আবার অনেকে আছেন প্রিয়জনের সঙ্গে কাটানো স্মৃতি দিয়ে তাদেরকে প্রোপোজ করেন।

আজকের দিনে প্রিয়জনকে প্রেমের বা বিয়ের প্রস্তাব দিতে অবশ্যই এ বিষয়ে খেয়াল রাখুন।

আলুতে ভেজাল আছে কি না, কীভাবে বুঝবেন

প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি, ২০২৬

আলুতে ভেজাল আছে কি না, কীভাবে বুঝবেন

রান্নায় আলু ছাড়া ভাবতেই পারি না। বাড়িতে সবজি না থাকলেও ঝুড়িতে আলু থাকা বাধ্যতামূলক। রান্না করতে ইচ্ছে না হলেও এই আলু অনেকের ভরসা। আলু এমন একটি সবজি, যা যে কোনো ধরনের খাবারের সঙ্গে সহজেই মিশে যায়। বিশ্বব্যাপী এই সবজি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং প্রচুর পরিমাণে ব্যবহারের কারণে এর চাহিদা সবসময়ই থাকে।

কিন্তু আজকাল অধিকাংশ খাবারে ভেজাল মেশানো হয়। এতে ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকলে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই প্রতিবার আলু ব্যবহার করার আগে যাচাই করা জরুরি। কৃত্রিম রং এবং রাসায়নিক সরাসরি কিডনি ও লিভারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া ভেজাল আলু দিয়ে তৈরি খাবার খাওয়ার ফলে পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ক্ষুধা হ্রাসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আসুন জেনে নেওয়া যাক আলু পরীক্ষা করবেন যেভাবে-

রং পরীক্ষা করে

মাটি মাখা আলু বিক্রি করেন। কিনে এনে প্রথমে পানিতে চুবিয়ে রাখুন। এতে সব ময়লা ও মাটি পরিষ্কার হয়ে যাবে এরপর আলুর খোসা ছাড়িয়ে দু’ভাগে কেটে দেখুন। সাধারণ আলুর বাইরের অংশ ও ভেতরের অংশে তেমন কোনো পার্থক্য থাকে না। কিন্তু যদি আলুতে ভেজাল মেশানো থাকে, তাহলে বাইরের অংশ গাঢ় এবং ভেতরের অংশ হালকা রঙের হয়। বিশেষ করে ভেতরে হালকা সাদা ভাব থাকলে বুঝবেন এতে ভেজাল রয়েছে।

আলুর ঘ্রাণ শুঁকে

আলু কিনতে গেলে প্রথমেই ঘ্রাণ নিয়ে দেখুন। সাধারণ আলুতে মাটির হালকা ঘ্রাণ থাকে। কিন্তু যদি ঘ্রাণ কড়া বা ঝাঁঝালো হয়, তাহলে বুঝবেন এতে রাসায়নিক মেশানো থাকতে পারে। আলুর খোসা ছাড়ানোর পরে বা কাটার পরে এই ঘ্রাণ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এভাবে সহজেই বোঝা যায় যে আলুতে ভেজাল আছে কি না।

পানিতে ডুবিয়ে দিয়ে

একটি বালতিতে পানি নিন এবং আলুগুলো এতে ডুবিয়ে দিন। যদি আলু আসল হয়, তা ডুবে যাবে। আর যদি ভেজাল মেশানো আলু হয়, তা পানিতে ভেসে উঠে। এভাবে খুব সহজেই আলুর বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করা যায়।

অস্বাভাবিক চকচকে

আসল আলুর ত্বক সাধারণত কিছুটা রুক্ষ এবং পাতলা হয়, তাই হালকাভাবে ঘষতে হয়। কিন্তু যদি ত্বক অস্বাভাবিকভাবে মসৃণ, ঘন হয়ে থাকে বা খুব সহজে উঠে যায়, তবে এটি সতর্ক হওয়ার বিষয়। এছাড়া আলুর রং বা দাগ যদি অস্বাভাবিকভাবে উজ্জ্বল বা লালাভ দেখায়, তাহলে বোঝা যায় এতে রাসায়নিক মিশ্রণ রয়েছে। এমন আলু স্বাস্থ্য ও ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, তাই কেনার আগে রং ও দাগ ভালোভাবে পরীক্ষা করা জরুরি।


ধামরাইয়ে জমির আইলে মরিচ চাষে সফলতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ মে, ২০২৬

ধামরাইয়ে জমির আইলে মরিচ চাষে সফলতা
নিজস্ব প্রতিবেদক
ধান ক্ষেতের জমির আইল সাধারণত অব্যবহৃত পড়ে থাকে। সেই জমির আইলকে কাজে লাগিয়ে 'পার্টনার' প্রকল্পের আওতায় মরিচ চাষ করে সুফল পাচ্ছেন কৃষক আলী আজম। এ যেন বাড়তি আয়ের নতুন পথ। উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় জমির আইলে মরিচ চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি।

উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের শোলধন এলাকায় 'পার্টনার' প্রকল্পের আওতায় মরিচ চাষ করেছেন কৃষক আলী আজম।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের শোলধন এলাকায় কৃষক আলী আজম তার দুই একর বোরো ধানের জমির আইলে মরিচ চাষ করেন। ফলনও খুব ভালো হয়। অব্যবহৃত জমির আইলে মরিচ চাষ করে নতুন দিগন্তের পথ বের হয়েছে। এতে করে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাচ্ছেন কৃষক। তার এই উদ্যোগ দেখে আলী আজমের মতো মরিচ চাষ আগ্রহী হয়ে উঠছেন এলাকার আরও অনেকেই ।

উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ‘পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় আলী আজম এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানা যায় ।

ধানের পাশাপাশি ধানের জমির আইলে মরিচ চাষের ফলে জমির ফাঁকা জায়গাওর সঠিক ব্যবহার হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়ছে অতিরিক্ত আয়। মরিচ গাছে ফলনও এসেছে প্রচুর।

মৌসুম শেষে আরও প্রায় ২৫ হাজার টাকার মরিচ বিক্রির আশা করছেন তিনি। এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকেই।

কৃষক আলী আজম বলেন, আমার বাড়ির পাশে দু্ই একর ধানের জমি রয়েছে। জমির আইল আগে খালি থাকত। উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের পরামর্শে ওই জমির আইলে ‘পার্টনার’ প্রকল্পের মাধ্যমে মরিচ চাষ শুরু করি। ফলনও অনেক ভালো হয়েছে। ৩-৪ হাজার টাকার মরিচ বিক্রিও করেছি। মরিচের মৌসুম শেষ হতে প্রায় ২০/২৫ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করতে পারব।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুমন মিয়া বলেন, আমি কৃষক আলী আজমকে প্রণোদনা হিসেবে মরিচের বীজ দেই। তিনি দুই একর ধানের জমির আইলে মরিচ চাষ শুরু করেন। আলী আজম এখন প্রায় ৪ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করে। এছাড়া নিজের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে আরো প্রায় ২০/৩০ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করতে পারবেন। এটি পার্টনার পদ্ধতিতে চাষ করা হয়েছে। জমির আইল এখন থেকে আর অব্যবহৃত থাকবে না।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আরিফুর রহমান বলেন, পার্টনার প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। ধানের জমির আইলে মরিচসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করলে কৃষকরা অতিরিক্ত আয় করতে পারেন। পরিবারের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এতে একদিকে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় অপরদিকে কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতিও ঘটে। যে কোনো কৃষক বা বেকার যুবকরা এমন কাজে আগ্রহী হতে পারে। আমরা কৃষি অফিস থেকে সব রকম সাপোর্ট দেব।


ইউটিউব দেখে বিদেশি ফল চাষের শুরু, প্রথম বছরেই লাভ ১০ লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইউটিউব দেখে বিদেশি ফল চাষের শুরু, প্রথম বছরেই লাভ ১০ লাখ টাকা

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় ইন্টারনেট থেকে ধারণা নিয়ে সম্পূর্ণ নতুন এক বিদেশি জাতের ফল চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন আবুল বাশার নামের এক উদ্যোক্তা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি নিজ জমিতে এই ব্যতিক্রমী ফলের বাগান গড়ে তোলেন। স্থানীয়ভাবে আনারকলি বা ট্যাং ফল নামে পরিচিত এই বিদেশি ফল চাষের প্রথম বছরই দারুণ সাফল্য পেয়েছেন তিনি। বাগান থেকে উৎপাদিত ফল বিক্রি করে তাঁর খরচ বাদে প্রায় ১০ লাখ টাকা লাভ হয়েছে।

উদ্যোক্তা আবুল বাশার জানান, শখের বশে অনলাইন মাধ্যম ঘেঁটে এই ফল চাষের নানা কৌশল আয়ত্ত করেন তিনি। প্রথমে অল্প পরিসরে চারা সংগ্রহ করে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করলেও পরবর্তীতে পরিচর্যা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তা সফল বাণিজ্যিক রূপ নেয়। ফলটির অনন্য স্বাদ ও পুষ্টিগুণের কারণে স্থানীয় বাজারে এর বেশ ভালো চাহিদা রয়েছে। প্রথমবার ফলন এসেই পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা বাগান থেকেই ফল কিনে নিয়ে গেছেন।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবুল বাশারের এই সাফল্য দেশের কৃষিখাতে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করেছে। প্রথাগত ফসলের বাইরে এসে এ ধরনের লাভজনক ও পুষ্টিসমৃদ্ধ বিদেশি ফল চাষে অনেকেই এখন আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বিশেষ করে বেকার যুবকরা যখন এ ধরনের উদ্যোগে সফল হচ্ছেন, তখন তা স্থানীয় অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। জীবননগর উপজেলার কৃষি বিভাগ থেকে এ ধরনের উদ্যোগে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

প্রথম বছরের এই অভাবনীয় সাফল্যের পর আবুল বাশার এখন তার বাগানের পরিসর আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। তিনি মনে করেন, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার থাকলে দেশের মাটিতেই অনেক বিদেশি ফল সফলভাবে উৎপাদন করা সম্ভব। তাঁর এই অনুকরণীয় সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও এখন প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি এই লাভজনক ফল চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।