শেয়ার বাজার

স্তন্যদান নিয়ে ৭টি ভুল ধারণা এবং যেসব বিষয় আপনার জানা উচিৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ৫ আগস্ট ২০২৩

স্তন্যদান নিয়ে ৭টি ভুল ধারণা এবং যেসব বিষয় আপনার জানা উচিৎ

কর্মস্থলে যেন নারীরা তাদের শিশুসন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন, সেজন্য আরও বেশি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। বুকের দুধ খাওয়ানোর হার যেন বাড়ানো যায়, সেজন্যে বার্ষিক প্রচারাভিযানের সময় জাতিসংঘ এই আহ্বান জানায়।

জাতিসংঘ বলছে, যেসব শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো হয় না, এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তাদের মৃত্যুর আশংকা যারা কেবল বুকের দুধ খায় তাদের তুলনায় ১৪ গুন বেশি। জাতিসংঘ বেতন-সহ মাতৃ-কালীন ছুটি চালু, বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য কাজের মাঝে বিরতি, এবং কর্মস্থলে বুকের দুধ খাওয়াতে মায়েদের জন্য পৃথক কক্ষের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছে।

স্তন্যদান নিয়ে এখনো অনেক মিথ বা ভুল ধারণা চালু আছে, যা শুনে মায়েরা শিশুকে বুকের দুধ দেয়া থেকে বিরত থাকতে পারে। বুকের দুধ খাওয়ানো নিয়ে বহুল প্রচলিত কিছু ধারণা যে আসলে একদম ভুল, দুজন বিশেষজ্ঞ তা ব্যাখ্যা করেছেন আমাদের কাছে। এদের একজন ক্যাটরিওনা ওয়েইট, যিনি ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি অব লিভারপুলের ক্লিনিকাল ফার্মাকোলজি এন্ড গ্লোবাল হেলথের অধ্যাপক এবং উগান্ডার কাম্পালায় মেকরিয়ার ইউনিভার্সিটি কলেজ অব হেলথ সায়েন্সের ফেলো। অপরজন অ্যালেস্টেয়ার সাটক্লিফ, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের জেনারেল পিডিয়াট্রিক্সের অধ্যাপক।

মিথ ১: বুকের দুধ খাওয়ালে সাধারণত স্তনে ব্যথা এবং স্তনবৃন্তে ঘা হয়

প্রফেসর ওয়েইট: এর উত্তর দেয়া একটু কঠিন। বুকের দুধ খাওয়ানোর শুরুর দিকে কিছু অস্বস্তি হওয়া একেবারেই স্বাভাবিক, এবং এতে অভ্যস্ত হওয়ার আগে পর্যন্ত শুরুতে স্তনবৃন্তে কালশিটে পড়া কিংবা যন্ত্রণা হওয়া একদম স্বাভাবিক। কিন্তু বুকের দুধ খাওয়ানোর কারণে আসলে স্তনে ব্যথা বা যন্ত্রণা হয় না। যদি কারও এমন হয় তাহলে মনে করতে হবে স্তনবৃন্তে হয়তো কোন ইনফেকশন বা সংক্রমণ হয়েছে, অথবা এটি ঠিকভাবে শিশুর মুখে দেয়া হচ্ছে না। শুরুতে কিছুটা অস্বস্তি হলে সেটা একেবারেই স্বাভাবিক, এবং নতুন মায়েদের এই বিষয়টার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হয়তো কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে কারও যদি বেশ ব্যথা বা যন্ত্রণা হয়, সেটি নিয়ে ডাক্তার, নার্স বা ধাত্রীর সঙ্গে কথা বলা উচিৎ।

মিথ ২: একেবারে শুরুতেই স্তন্যদান শুরু না করলে পরে আর করা যায় না

প্রফেসর সাটক্লিফ: স্তন্যদানে মায়েদের উৎসাহিত করে এমন যে কোন কিছুই আসলে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য নানা দিক দিয়ে উপকারী। মানুষের আচরণের ওপর কঠোর সময়সীমা বেঁধে দিয়ে কৃত্রিম বিধিনিষেধ আরোপ করার এই ব্যাপারটার কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তবে এটা ঠিক যে জন্মের পরপরই শিশুকে যদি মা স্তন্যদান শুরু করেন তার অনেক উপকারিতা আছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে পুষ্টি। স্তন্যদান শুরু করার আরেকটা উপকারিতা হচ্ছে এটি ইউটেরাস বা জরায়ুর সংকোচন প্রক্রিয়া শুরু করতে সাহায্য করে। আর এর ফলে সন্তান প্রসব পরবর্তীকালে জরায়ুতে যে রক্তক্ষরণ হয়, সেটি থামানো বা প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়া সন্তান প্রসবের পর প্রথম কয়েকদিন মায়ের শরীরে কোলোস্ট্রাম নামে প্রোটিন সমৃদ্ধ একটি পদার্থ তৈরি হয়। এটি খুবই সমৃদ্ধ একটি উপাদান যা স্তন্যদান প্রক্রিয়া শুরুতে অবদান রাখে।

৩: বুকের দুধ খাওয়ালে কোন ঔষধ খাওয়া যায় না

প্রফেসর ওয়েইট: বিশ্বের যে কোন জায়গাতেই মায়েরা সাধারণত এই প্রশ্নটাই প্রথম করেন। তারা জানতে চান, ‘যে কোন ঔষধ কি আমার শিশুর জন্য নিরাপদ?’ কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, অনেক ঔষধই আসলে খুবই কম মাত্রায় শিশুর কাছে পৌঁছায়। কোন ডাক্তার যদি বলে আপনাকে ঔষধ খেতে হবে, তখন তাকে এই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করুন। কিন্তু এমন সম্ভাবনাই বেশি যে এই ঔষধ নিরাপদে আপনি গ্রহণ করতে পারেন। একজন শিশুর আসলে সবচেয়ে বেশি দরকার একজন সুস্থ-সবল মা। সংক্রমণ, ডিপ্রেশন বা সাধারণ ব্যথা-বেদনার জন্য সাধারণত যেসব ঔষধ খেতে হয়, সেগুলো খুব সম্ভবত নিরাপদ।

স্তন্যদান করলে যেসব ঔষধ গ্রহণ করা যাবে না, সেগুলোর সংখ্যা আসলে খুবই কম। সাধারণত ক্যান্সার বা এরকম কোন গুরুতর নির্দিষ্ট রোগের ঔষধ এগুলো। এছাড়া অন্য কিছু ঔষধ আছে যেগুলো ব্যবহারের আগে এর ঝুঁকি এবং উপকারিতা ভালোভাবে বিবেচনা করে দেখতে হয়। স্তন্য-দানকারী কোন মাকে যখন কোন ঔষধ খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়, তখন তিনি যেন এই ঔষধের ব্যাপারে প্রশ্ন করতে পারেন, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। দোকানে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই কেনা যায় এমন কিছু ঔষধের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে, যেমন ঠাণ্ডা বা ফ্লুর ঔষধ- কারণ এর মধ্যে এমন উপাদান থাকে যা বুকের দুধ কমিয়ে দিতে পারে। আর হার্বাল বা ভেষজ ঔষধের ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিৎ, কারণ আপনি আসলে জানেন না এর মধ্যে কী আছে। এসব ঔষধ কিন্তু ভালো করে পরীক্ষা করে দেখা হয়নি।

৪: কেবল সাধারণ খাবার খাওয়া উচিৎ এবং বুকের দুধ দেয়ার আগে মশলাযুক্ত খাবার পরিহার করা উচিৎ

প্রফেসর ওয়েইট: স্তন্যদানের সময় খাওয়া যাবে না এরকম কোন খাবার আসলে নেই। তবে আপনার বুকের দুধে ঠিক কী পুষ্টি উপাদান থাকবে, তা নির্ভর করে আপনি কী ধরণের খাবার খাচ্ছেন তার ওপর।

তবে কিছু কিছু খাবারের বেলায় মা হয়তো একটি প্যাটার্ন দেখতে পাবেন। যেমন আমার একটি সন্তানের বেলায় আমি খেয়াল করেছিলাম, যতবারই আমি কমলার মতো কোন টক ফলের জুস খাচ্ছি, আমার বাচ্চার মেজাজ খিটখিটে হয়ে উঠছে। আপনি কি খাবার খেলে আপনার সন্তান কিরকম আচরণ করছে সেরকম একটি প্যাটার্ন আপনি অনেক সময় খেয়াল করতে পারেন। কিন্তু আসলে এরকম কোন খাবার নেই যেটা আপনার সন্তানের জন্য ক্ষতিকর, বা যেটা আপনার পরিহার করা উচিৎ।

 ৫: আপনি বুকের দুধ খাওয়াতে চাইলে কখনোই ফর্মুলা দুধ খাওয়াতে পারবেন না

প্রফেসর ওয়েইট: এটা পুরোপুরি ঠিক নয়। তবে মায়ের স্তনে কী পরিমাণ দুধ তৈরি হবে সেটা নিয়ন্ত্রিত হয় চাহিদা এবং সরবরাহের ভিত্তিতে। নারীর দেহের গঠন আসলে এত চমৎকারভাবে তৈরি যে শিশুর জন্য এটি যথেষ্ট দুধ তৈরি করতে পারে। শিশু যখন স্তনবৃন্ত চুষতে থাকে, সেটি নারীর শরীরের হরমোনকে যতটুকু দুধ দরকার, ততটুকু দুধ তৈরি করতে সংকেত দেয়। কাজেই একজন মা, তিনি একেবারেই একটি ছোট শিশু, বড় শিশু নাকি যমজ সন্তানকে দুধ খাওয়াচ্ছেন – তার শরীরে সেই অনুপাতে যথেষ্ট দুধ তৈরি হবে।

আর শিশুকে ফর্মুলা দুধ দেয়া শুরু করলে, নারীদেহে এই সংকেত এবং দুধ উৎপাদন চক্রে একটা ব্যাঘাত ঘটে। তখন নারীর শরীর যথেষ্ট সংকেত পায় না যে তার শিশুর আরও দুধ দরকার। কোন মায়ের বুকে যখন যথেষ্ট দুধ আসে না, এবং তিনি শিশুকে ফর্মুলা দুধ দিতে শুরু করেন, তাতে হয়তো একটা সাময়িক স্বস্তি পাওয়া যাবে, কিন্তু এর ফলে সমস্যাটা কিন্তু আরও গুরুতর রূপ নেবে।

আবার কোন নারীর যখন রাতে ঘুম হচ্ছে না, বা অসুস্থ, কিংবা ভীষণ ক্লান্ত, তখন তার সঙ্গী হয়তো শিশুকে কিছু ফর্মুলা দুধ দিচ্ছেন, যাতে করে শিশুর মা কিছুটা বিশ্রাম পান। কিন্তু এর মানে এই নয় যে এই নারী আবার স্তন্যদান শুরু করতে পারবেন না। কাজেই ফর্মুলা দুধ দিলে স্তন্যদান বন্ধ হয়ে যাবে এটা পুরোপুরি ঠিক নয়। তবে ফর্মুলা দুধ দিলে তা স্তন্যদানের ক্ষেত্রে খুব সহায়ক হয় না।

৬: অসুস্থ অবস্থায় বুকের দুধ খাওয়ানো ঠিক নয়

প্রফেসর সাটক্লিফ: না, এটাও একটা মিথ। কেবল যদি কোন নারীর এইচআইভি বা হেপাটাইটিস হয়, তখনই কেবল শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো নিষেধ। কারণ বুকের দুধের মাধ্যমে এসব ভাইরাস শিশুর দেহে সংক্রমিত হতে পারে। এরকম ঘটনা আগে ঘটতে দেখা গেছে। মা যদি অসুস্থও থাকেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তিনি সন্তানকে বুকের দুধ দিয়ে যেতে পারেন, কারণ মায়ের শরীরে এমন এন্টিবডি তৈরি হয়, যা সন্তানকেও সুরক্ষা দেয়। এরকম ঘটনা খুবই বিরল যে কোন মায়ের রোগ স্তন্যদানের মাধ্যমে তার শিশুর দেহে সংক্রমিত হয়েছে।

৭: এক বছরের বেশি ধরে স্তন্যদান করলে শিশুকে দুধ ছাড়ানো কঠিন

প্রফেসর ওয়েইট: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ হচ্ছে সন্তানকে ছয় মাস পর্যন্ত কেবল বুকের দুধই খাওয়ানো উচিৎ। এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার দিলেও যতদিন ইচ্ছে বুকের দুধ দেয়া চালিয়ে যাওয়া উচিৎ। বুকের দুধ কখন বন্ধ করতে হবে তার কোন বাঁধা-ধরা সময় নেই। যুক্তরাজ্যের মতো উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে বেশিরভাগ শিশুকেই এক হতে দুই বছর বয়সের মধ্যে বুকের দুধ দেয়া বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে, যেমন উগান্ডায় দুই হতে তিন বছর বয়স পর্যন্ত কিন্তু শিশুকে বুকের দুধ দেয়া হয়। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যতটা সময় ধরে শিশুকে কেবল বুকের দুধ দেয়ার সুপারিশ করে, তত দীর্ঘ মাতৃ-কালীন ছুটি মায়েরা সাধারণত পান না, এটা সারা দুনিয়া জুড়েই একটা সমস্যা।

ইউটিউব দেখে বিদেশি ফল চাষের শুরু, প্রথম বছরেই লাভ ১০ লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইউটিউব দেখে বিদেশি ফল চাষের শুরু, প্রথম বছরেই লাভ ১০ লাখ টাকা

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় ইন্টারনেট থেকে ধারণা নিয়ে সম্পূর্ণ নতুন এক বিদেশি জাতের ফল চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন আবুল বাশার নামের এক উদ্যোক্তা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি নিজ জমিতে এই ব্যতিক্রমী ফলের বাগান গড়ে তোলেন। স্থানীয়ভাবে আনারকলি বা ট্যাং ফল নামে পরিচিত এই বিদেশি ফল চাষের প্রথম বছরই দারুণ সাফল্য পেয়েছেন তিনি। বাগান থেকে উৎপাদিত ফল বিক্রি করে তাঁর খরচ বাদে প্রায় ১০ লাখ টাকা লাভ হয়েছে।

উদ্যোক্তা আবুল বাশার জানান, শখের বশে অনলাইন মাধ্যম ঘেঁটে এই ফল চাষের নানা কৌশল আয়ত্ত করেন তিনি। প্রথমে অল্প পরিসরে চারা সংগ্রহ করে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করলেও পরবর্তীতে পরিচর্যা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তা সফল বাণিজ্যিক রূপ নেয়। ফলটির অনন্য স্বাদ ও পুষ্টিগুণের কারণে স্থানীয় বাজারে এর বেশ ভালো চাহিদা রয়েছে। প্রথমবার ফলন এসেই পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা বাগান থেকেই ফল কিনে নিয়ে গেছেন।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবুল বাশারের এই সাফল্য দেশের কৃষিখাতে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করেছে। প্রথাগত ফসলের বাইরে এসে এ ধরনের লাভজনক ও পুষ্টিসমৃদ্ধ বিদেশি ফল চাষে অনেকেই এখন আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বিশেষ করে বেকার যুবকরা যখন এ ধরনের উদ্যোগে সফল হচ্ছেন, তখন তা স্থানীয় অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। জীবননগর উপজেলার কৃষি বিভাগ থেকে এ ধরনের উদ্যোগে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

প্রথম বছরের এই অভাবনীয় সাফল্যের পর আবুল বাশার এখন তার বাগানের পরিসর আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। তিনি মনে করেন, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার থাকলে দেশের মাটিতেই অনেক বিদেশি ফল সফলভাবে উৎপাদন করা সম্ভব। তাঁর এই অনুকরণীয় সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও এখন প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি এই লাভজনক ফল চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।


প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করুন : টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৩

প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করুন : টিআইবি

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ২০০২ সালে বাংলাদেশে পলিথিন শপিং ব্যাগ নিষিদ্ধ হলেও ‘‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫’’- এ সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ও লেমিনেটেড প্লাস্টিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ না হওয়ায় ফলে ‘‘প্লাস্টিক দূষণ’’ অব্যাহত থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে অনতিবিলম্বে প্লাস্টিকের বেআইনি উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও ব্যবহার রোধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৬(ক) ধারা সংশোধন, দূষণ-কর আরোপ এবং প্লাস্টিক দূষণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের জবাবদিহির লক্ষ্যে পরিবেশ আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছে সংস্থাটি।

বৈশ্বিক মোট প্লাস্টিক দূষণের ২.৪৭ শতাংশ বাংলাদেশে হয়ে থাকে উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে আইন করা হলেও, কার্যকর প্রয়োগের অভাবে প্লাস্টিক থেকে পরিবেশ দূষণ শুধু অব্যাহতই নয় বরং উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি-ই পেয়েছে। প্লাস্টিক বর্জ্যসহ ব্যাপকভাবে বর্জ্য ফেলার কারণে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা ও কর্ণফুলী নদী বাংলাদেশের অন্যতম দূষিত নদীতে পরিণত হয়েছে। প্লাস্টিক দূষণের কারণে আমাদের বাস্তুতন্ত্র ও ভূমির ব্যাপক দূষণ ঘটায় গাছপালা ও অন্যান্য প্রাণীর অস্তিত্ব আজ হুমকির সম্মুখীন। এ ছাড়া জৈব রাসায়নিক সারে প্রচুর পরিমাণে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকায়, তা কৃষিকাজে ব্যবহারের ফলে স্থায়ীভাবে মাটি দূষিত হচ্ছে।’

পরিবেশ দূষণ রোধে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ, এনভায়রনমেন্টাল পারফরমেন্স ইনডেক্স (ইপিআই)-২০২২ এর এই তথ্য উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, ‘প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন ও ব্যবহার হ্রাস এবং প্লাস্টিক বর্জ্যরে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য প্লাস্টিক দূষণসংক্রান্ত বিধিমালা অবিলম্বে প্রণয়ন করতে হবে। পাশাপাশি সম্ভাব্য ক্ষেত্রসমূহে প্লাস্টিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ ও সীমিত করাসহ প্লাস্টিকের পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক বিকল্প এবং বায়েডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক উৎপাদনে প্রণোদনা ও উৎসাহ প্রদানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে প্লাস্টিকের বেআইনি উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও ব্যবহার রোধে দূষণ-কর প্রয়োগসহ আইনের কঠোর প্রয়োগ, প্রয়োজনে বিদ্যমান আইন সংস্কার করে শাস্তির পরিমাণ বৃদ্ধি ও তার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার প্লাস্টিক দূষণ মোকাবেলায় বিশ্ব ব্যাংক প্রণীত একটি অ্যাকশন প্ল্যান নীতিগতভাবে গ্রহণের পাশাপাশি জেলা কার্যালয় ও প্রতিষ্ঠানসমূহে ‘‘সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক’’ ব্যবহার বর্জনের যে নির্দেশনা প্রদান করেছে, তা যেন শুধু ‘‘কাগজে-কলমে’’ সীমাবদ্ধ না থাকে, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে টিআইবি। একইসঙ্গে প্লাস্টিক দূষণ মোকাবেলায় গৃহীত সকল কর্মকাণ্ডে সাধারণ জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের অর্থবহ সচেতনতা ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্লাস্টিক দূষণ রোধে ব্যবহৃত তহবিলসহ সার্বিকভাবে পরিবেশ সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি, আইন ভঙ্গকারী এবং প্লাস্টিক দূষণের সঙ্গে জড়িত ব্যাক্তি, প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য টিআইবি জোর দাবি জানাচ্ছে।


ঠোঁট ফাটা গুরুতর রোগের লক্ষণ নয় তো?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪

ঠোঁট ফাটা গুরুতর রোগের লক্ষণ নয় তো?

শীত আসতেই শুরু হয়েছে ত্বক ও ঠোঁট ফাটা। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কমে যায়, আর এ কারণে ত্বক হয়ে পড়ে শুষ্ক। এর থেকে ত্বক, ঠোঁট, হাত-পা ফাটতেও শুরু করে অতিরিক্ত শুষ্কতায়। বিশেষ করে ঠোঁট বারবার শুকিয়ে যাওয়া ও ফাটার সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। তবে এটি শুধু শীতের শুষ্কতার কারণেই ঘটে না, ডায়াবেটিসেরও লক্ষণ হতে পারে ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা।

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বড়েই চলছে। প্রতি বছর লাখ লাখ রোগী আক্রান্ত হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি এ ব্যাধিতে। ডায়াবেটিসের ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে শুরু করে। গ্লুকোজের কারণে রক্তে শর্করার মাত্রায বেড়ে ওঠায় রক্তপ্রবাহে বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দেয়।

ডায়াবেটিসের সাধারণ কয়েকটি লক্ষণ সবাই কমবেশি জানলেও তা এড়িয়ে যান। ডায়াবেটিস হলে অত্যধিক ক্ষুধা, ঘন ঘন প্রস্রাব, ক্লান্তি ও খিটখিটে মেজাজ হয়। পাশাপাশি ডায়াবেটিস হলে মুখে ৪টি সতর্কতা লক্ষণ প্রকাশ পায়। মুখের স্বাস্থ্য বলে দেয় শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রাসহ সামগ্রিক অসুস্থতা সম্পর্কে। ঠিক তেমনই ডায়াবেটিস হলে ঠোঁট ফাটাসহ মুখে কয়েকটি সতর্কতার লক্ষণ প্রকাশ পায়। জেনে নিন সেগুলো-

শুকনো মুখ

টাইপ ১ বা টাইপ ২ ডায়াবেটিসের উভয় ক্ষেত্রেই সাধারণ ও প্রাথমিক লক্ষণগুলোর শুকনো বা শুষ্ক মুখ অন্যতম। সবসময় মুখ ও গলা শুকিয়ে আসে এক্ষেত্রে। রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে রোগীর মুখের লালা উৎপাদন কমে যায়। শুষ্ক মুখের লক্ষণগুলোর মধ্যে আছে- রুক্ষ বা শুকনো জিহ্বা, মুখে আর্দ্রতার অভাব, ঠোঁট ফেটে যাওয়া, মুখে ফোলাভাব, খাবার গিলতে বা কথা বলতে অসুবিধা হওয়া ইত্যাদি।

ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া

শীতে আর্দ্রতার অভাবে এমনিতেই ঠোঁট ফেটে শুকিয়ে যায়। এটি কিন্তু ডায়াবেটিসের অন্যতম লক্ষণ হতে পারে। ডায়াবেটিসের কারণে সকালের দিকে বেশি শুকিয়ে যায় ঠোঁট। একই সঙ্গে প্রচণ্ড পানি পিপাসাও পায়। এই লক্ষণ দেখেলে দ্রুত ডায়াবেটিস পরক্ষা করান।

মাড়ির রোগ

শুধু শুষ্ক মুখ নয়, পাশাপাশি দাঁতের চারপাশে এবং মাড়ির নিচে লালা উৎপাদনকেও প্রভাবিত করে রক্তে শর্করার মাত্রা। শরীরে চিনির পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে জীবাণুর সংক্রমণ বেড়ে যায়। ফলে মাড়ির চারপাশে জ্বালা করে। এমনকি মাড়ির রোগ, দাঁত ক্ষয়ও হতে থাকে। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে মাড়ির রোগ বেশি দেখা যায়।

মাড়ির রোগ হওয়া রক্তের শর্করার মাত্রা আরও খারাপ হওয়ার অবস্থার ইঙ্গিত। মাড়ির রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে আছে- লাল, ফোলা, কালশিটে বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, দাঁত আলগা হওয়া, খাবারে কামড় বা চিবানোর সময় কষ্ট হওয়া, মুখের দুর্গন্ধ বা খারাপ স্বাদ ইত্যাদি।

মাড়ির রোগ হওয়ার কারণে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাড়ির চারপাশে প্লাক গঠনের ফলে দাঁত আলগা হতে শুরু করে। ফলে দাঁতের ক্ষয় হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, অন্যান্য রোগে আক্রান্তদের তুলনায় ডায়াবেটিস রোগীরা দাঁতের সমস্যায় বেশি ভোগেন। দাঁত নষ্ট হওয়ার সাধারণ লক্ষণগুলো হলো- মাড়ির চারপাশ ফুলে যাওয়া, ঘা ও দাঁতের ব্যথা।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া