শেয়ার বাজার

একজন শিক্ষকের চোখে বাংলাদেশের সেরা ১০ পর্যটন স্পট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একজন শিক্ষকের চোখে বাংলাদেশের সেরা ১০ পর্যটন স্পট

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর বাংলাদেশে রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান, যা দেশি-বিদেশি ভ্রমণপিপাসুদের সবসময় আকর্ষণ করে। সম্প্রতি এক নিবন্ধে দেশের শীর্ষস্থানীয় দশটি পর্যটন স্পটের তালিকা তুলে ধরেছেন শিক্ষক ও পরিবেশকর্মী সাধন সরকার। এই স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে সুদীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, পাহাড়ি উপত্যকা এবং প্রবাল দ্বীপ। ভৌগোলিক বৈচিত্র্যময় এই দেশটিতে ভ্রমণের জন্য রয়েছে দারুণ সব সুযোগ।

তালিকায় প্রথমে রয়েছে ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, যা পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রাকৃতিক ও অখণ্ডিত সৈকত হিসেবে পরিচিত। এর পাশাপাশি খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জুড়ে বিস্তৃত বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন এবং একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এছাড়া রাঙামাটির সাজেক ভ্যালি মেঘ ও পাহাড়ের মিতালির জন্য এবং কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার অনন্য সুযোগের জন্য বিখ্যাত।

প্রাকৃতিক জলাশয় ও সবুজের সমারোহের মধ্যে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর এবং মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল চা-বাগান ভ্রমণপ্রেমীদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। অন্যদিকে, ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানা এবং সিলেটের জাফলং, বিছনাকান্দি ও রাতারগুলের মতো দৃষ্টিনন্দন স্থানগুলো দর্শনার্থীদের সবসময় মুখরিত রাখে। পাহাড়প্রেমীদের জন্য বান্দরবানের নীলাচল, বগা লেক ও কেওক্রাডংয়ের মতো রোমাঞ্চকর স্থানগুলো শীর্ষ পছন্দের তালিকায় রয়েছে।

পর্যটন খাত বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের এই আকর্ষণীয় স্থানগুলোর সঠিক পরিচর্যা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা গেলে ভ্রমণপিপাসুদের সংখ্যা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এতে একদিকে যেমন স্থানীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে, অন্যদিকে দেশের পর্যটনশিল্প বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ভাবমূর্তি ‘নজিরবিহীন তলানিতে’ নামিয়েছেন নেতানিয়াহু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ভাবমূর্তি ‘নজিরবিহীন তলানিতে’ নামিয়েছেন নেতানিয়াহু

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির অবস্থান ও কৌশলগত ভাবমূর্তি রেকর্ড পরিমাণে নিচে নেমে গেছে। দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হারেৎজ প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে এমন মন্তব্য করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে দুই দেশের সম্পর্কে সম্ভাব্য সংকট নিয়ে যেসব সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল, নেতানিয়াহু তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মার্কিন রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দ্বিপক্ষীয় ঐকমত্য ক্ষুণ্ণ করার ক্ষেত্রেও বর্তমান ইসরাইলি সরকারের ভূমিকা রয়েছে বলে পত্রিকাটি মনে করে।

সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, মার্কিন রাজনীতিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে নেতানিয়াহুর অতিমাত্রায় ও প্রকাশ্য পক্ষপাতিত্ব ডেমোক্র্যাট শিবিরের কাছে ইসরাইলকে কোণঠাসা করে তুলেছে। তবে এই অবনতি কেবল ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বলে জানিয়েছে হারেৎজ। বিগত দুই বছরে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ছাড়াও ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোটরিচের নেতৃত্বাধীন সরকারের নীতিগুলো রিপাবলিকান মহলের মধ্যেও ইসরাইল সম্পর্কে বিরূপ ধারণার জন্ম দিয়েছে।

বর্তমান ইসরাইলি প্রশাসনের বেশ কিছু বিতর্কিত নীতি ও পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধি এবং গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে বসবাসকারী খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর বিভিন্ন ধরনের হামলা। এছাড়া সম্প্রতি ইরান সংঘাতের জেরে জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সৃষ্ট ভূরাজনৈতিক চাপ ইসরাইলের ঐতিহ্যগত মিত্রদেরও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। এমনকি ইসরাইলের সবচেয়ে কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরাও এখন দেশটির নজিরবিহীন সমালোচনা করতে শুরু করেছেন।

মার্কিন জনমত জরিপের সাম্প্রতিক তথ্য তুলে ধরে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ইসরাইলবিরোধী মনোভাব তীব্র আকার ধারণ করেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহুর কোনো ধরনের জোরালো বা আড়ম্বরপূর্ণ বক্তব্য এই রূঢ় ও কঠিন বাস্তবতাকে ঢাকতে পারবে না। মার্কিন জনগণের দৃষ্টিভঙ্গিতে ইসরাইলের মর্যাদা কতটা নিচে নেমে গেছে এবং এর সুদূরপ্রসারী পরিণতি ভবিষ্যতে দুই দেশের মিত্রতায় কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা প্রতিটি ইসরাইলি নাগরিকের উপলব্ধি করা প্রয়োজন বলে সম্পাদকীয়তে সতর্ক করা হয়েছে।


১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেট: সর্বনিম্নস্তরে ৬৫ ও সর্বোচ্চস্তরে ২১০ টাকার নতুন খুচরা মূল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেট: সর্বনিম্নস্তরে ৬৫ ও সর্বোচ্চস্তরে ২১০ টাকার নতুন খুচরা মূল্য

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভ্যাট অনুবিভাগ তামাকজাত সিগারেটের নতুন খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে একটি আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করেছে। সম্প্রতি এনবিআরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই আদেশে বাজারে বিক্রi হওয়া ১০ শলাকার সিগারেটের বিভিন্ন স্তরের দাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন এই কাঠামোর আওতায় সর্বনিম্ন স্তরের প্রতি প্যাকেট সিগারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ স্তরের জন্য এই মূল্য রাখা হয়েছে ২১০ টাকা। এছাড়া মধ্যবর্তী স্তরগুলোর জন্যও আলাদা দামের কথা বলা হয়েছে। আইনগত বিধান ও যথাযথ নিয়মনীতি মেনে এনবিআরের সদস্য মো. আজিজুর রহমানের স্বাক্ষরে এই আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।

নতুন নির্ধারিত মূল্য কাঠামো অনুযায়ী, সিগারেটের চারটি স্তরের মধ্যে দ্বিতীয় স্তরে প্রতি ১০ শলাকার মূল্য ৭২ টাকা এবং তৃতীয় স্তরে তা ১৬০ টাকা করা হয়েছে। তবে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, নতুন এই মূল্য বিন্যাসেও প্রতিটি স্তরে সম্পূরক শুল্কের হার অভিন্নভাবে ৬৭ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। গত কিছুদিন আগে প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের নির্দেশনার আলোকে স্থানীয় বাজারে সরবরাহের ক্ষেত্রে এইচএস কোডের এই তামাকপণ্যগুলোর নতুন দাম তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে চলতি বছরের জুন মাসে জারীকৃত পূর্ববর্তী সাধারণ আদেশটি সম্পূর্ণভাবে বাতিল বলে গণ্য করা হবে।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে তামাকপণ্যের ব্যবহারে কিছু সুনির্দিষ্ট কড়াকড়ি আরোপ করেছে রাজস্ব কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে ফ্লেভারিং ক্যাপসুলযুক্ত সিগারেট তরুণ ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে ধূমপানের আকর্ষণ বাড়িয়ে দেওয়ায়, স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এ ধরনের পণ্য মধ্যম স্তরের নিচে অর্থাৎ প্রথম বা দ্বিতীয় নিম্ন স্তরে বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট কোনো ব্র্যান্ডের সিগারেট বাজারে আগে থেকে যে দামে প্রচলিত ছিল, কোনো অবস্থাতেই তার চেয়ে কম মূল্যে তা বিক্রি করা যাবে না। প্রতিটি প্যাকেটের গায়ে শলাকার সঠিক সংখ্যা, নির্ধারিত খুচরা মূল্য এবং পণ্যের প্রকৃতি স্পষ্ট ও স্থায়ীভাবে ছাপানোর কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কারখানায় সঠিক শুল্ক আদায় ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে কঠোর মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি সিগারেট উৎপাদনকারী কারখানায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভ্যাট কর্মকর্তা মোতায়েন করার জন্য সংশ্লিষ্ট মূসক কমিশনারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগের পুরোনো প্যাকেটের ওপর নতুন দামের সিল মেরে বাজারজাত করার সুযোগ রাখা হলেও ব্যান্ডরোলের জটিলতা এড়াতে দ্রুত নতুন মুদ্রিত মোড়ক ব্যবহারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কারখানার সমাপনী মজুদ এবং রাজস্ব হ্রাস-বৃদ্ধির তুলনামূলক হিসাব নির্দিষ্ট ছকে প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে নিয়মিতভাবে এনবিআরে পাঠাতে হবে।


মার্কিন চাপে ইরানের সঙ্গে বিমান চলাচল বন্ধ করল ইরাক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মার্কিন চাপে ইরানের সঙ্গে বিমান চলাচল বন্ধ করল ইরাক

ওয়াশিংটনের কঠোর নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কায় ইরানের সঙ্গে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইরাক। দেশটির প্রধান তিনটি বিমানবন্দরে ইরানি এয়ারলাইনসগুলোর গ্রাউন্ড সার্ভিস বা বিমানজমি সংক্রান্ত সব ধরনের সেবা কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাগদাদ প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদী ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বে নতুন করে বড় ধরনের কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে।

ইরাকের সংসদের প্রভাবশালী ইরানপন্থি রাজনীতিবিদ ও গোষ্ঠীগুলো সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল যেন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকি আমলে নেওয়া না হয়। তা সত্ত্বেও বাগদাদ কর্তৃপক্ষ ওয়াশিংটনের নির্দেশনা বাস্তবায়নের পথ বেছে নেয় এবং স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের সেই আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় দেশের সঙ্গেই বাগদাদের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক থাকায় এই দুই পরাশক্তির বিরোধের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা দেশটির জন্য অত্যন্ত দুরূহ হয়ে উঠেছে।

ইরাক ঐতিহাসিকভাবে বাণিজ্য ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আমদানির জন্য ইরানের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যার মধ্যে প্রধান হলো জ্বালানি গ্যাস। দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি বিরাট অংশ এই ইরানি গ্যাসের ওপর সরাসরি নির্ভর করে থাকে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এই নির্দেশ বাস্তবায়নের জেরে তেহরান কোনো পাল্টা অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তা ইরাকের ভঙ্গুর অর্থনীতিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে বহুমুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ইরাক, যার প্রধান আয়ের উৎস হলো অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম। কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে চলমান অবরোধ ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নানা বাধার কারণে দেশটির প্রধান এই তেল রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সব মিলিয়ে বিশ্ব পরাশক্তিগুলোর এই বৈরী সম্পর্কের জেরে অর্থনৈতিক মারপ্যাঁচে পড়ে চরম অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে ইরাকি পরিস্থিতি।