শেয়ার বাজার

দুঃস্থ, অসহায়, পথচারী ও শ্রমজীবি মানুষের মধ্যে ইফতার বিতরণ করেন: উল্লাপাড়া ছাত্রলীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মার্চ ২০২৪

দুঃস্থ, অসহায়, পথচারী ও শ্রমজীবি মানুষের মধ্যে ইফতার বিতরণ করেন: উল্লাপাড়া ছাত্রলীগ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় দুঃস্থ, অসহায়, পথচারী ও শ্রমজীবি মানুষের মধ্যে ইফতার বিতরণ করা হয়েছে। 

রবিবার (৩১ মার্চ) বিকেলে স্থানীয় সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা জননেতা শফিকুল ইসলাম শফির অনুপ্রেরণায় ছাত্রলীগ নেতা মোঃ শরিফুল ইসলাম শক্তির উদ্যোগে প্রায় ৩ শতাধিক রোজাদারের মধ্যে এ ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। শরিফুল সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক মানব সম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক, সহ সম্পাদক ও উল্লাপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পদে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

ইফতার বিতরণ অনুষ্ঠানে শক্তি বলেন, শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতির পতাকা বাহী সংগঠন বাংলাদেশে ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে মাস ব্যাপী ইফতার বিতরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিজ অর্থায়নে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও রোজাদারদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলো। এ সময় তিনি আরও বলেন, কয়েক দিন পরেই পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদ বয়ে আনুক সকলের জন্য শান্তি ও সম্প্রতি।

বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আমিনুজ্জামান অলক, সাবেক ছাত্রনেতা শফিকুল ইসলাম পলাশ, দবির উদ্দিন, হাবিবুল্লাহ বেলালী শিশির, সুজন সরকার সহ ছাত্রলীগের আরো অনেকে।

ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম

একজন মুমিনের ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য শারীরিক পবিত্রতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি একটি শর্ত। দৈনন্দিন জীবনে নানা কারণে ফরজ গোসলের প্রয়োজন হতে পারে, তবে অনেকেই এর সঠিক নিয়ম সম্পর্কে পুরোপুরি জানেন না। নিয়ম অনুযায়ী গোসল না করলে নামাজসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত আদায় হয় না এবং ব্যক্তি অপবিত্রই থেকে যান। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী ফরজ গোসল সম্পন্ন করার জন্য কয়েকটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা আবশ্যক।

ফরজ গোসল শুদ্ধ হওয়ার জন্য অপরিহার্য তিনটি কাজ রয়েছে যা কোনোভাবেই বাদ দেওয়া যাবে না। প্রথমে ভালোভাবে মুখ ভরে পানি নিয়ে গড়গড়া সহকারে কুলি করতে হবে, যাতে মুখের ভেতরে কোনো অংশ অপবিত্র না থাকে। এরপর নাকের নরম হাড় পর্যন্ত পানি পৌঁছানো ফরজ। সবশেষে মাথার চুল থেকে পায়ের তলা পর্যন্ত সম্পূর্ণ দেহের প্রতিটি অংশে পর্যাপ্ত পানি ভালোভাবে পৌঁছে দিতে হবে। এই তিনটি কাজের যেকোনো একটি বাদ পড়লে গোসল শুদ্ধ হবে না।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ পদ্ধতি অনুসরণ করেই সবচেয়ে উত্তম উপায়ে ফরজ গোসল সম্পন্ন করা যায়। হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রথমে দুই হাত ধুয়ে নেওয়ার পর প্রয়োজনবোধে প্রস্রাব করে বীর্য বা অন্য কোনো অপবিত্রতা পুরোপুরি পরিষ্কার করে নিতে হবে। এরপর শরীরের গোপন অঙ্গ ধুয়ে নিয়ে নামাজের অজুর মতো একটি পূর্ণাঙ্গ অজু সম্পন্ন করতে হয়। তবে গোসলের স্থানে যদি পানি জমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে পা ধোয়ার কাজটি সবার শেষে করার নিয়ম রয়েছে।

অজু শেষ করার পর মাথায় তিনবার পানি ঢালতে হবে এবং শরীরের ডান অংশে ও পরে বাঁ অংশে পানি ঢেলে পুরো শরীর ভালোভাবে ধৌত করতে হবে। গোসলের সময় নাভির ভেতর, কানের ছিদ্র, বগল এবং আঙুলের ফাঁকে হাত দিয়ে ঘষে পানি পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। পুরুষদের ক্ষেত্রে দাড়ি, গোঁফ ও চুলের গোড়ায় এবং নারীদের ক্ষেত্রে চুল খোলা থাকলে তা ভিজিয়ে নেওয়া ফরজ। এছাড়া শরীরে ব্যবহৃত আংটি, ঘড়ি বা নেইল পলিশ থাকলে তা সরিয়ে বা সরিয়ে পানি পৌঁছানো বাধ্যতামূলক। শরীরের একচুল পরিমাণ জায়গাও যদি শুকনো থেকে যায়, তবে গোসল অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।


বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত ৫০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত ৫০

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দুটি পক্ষের মধ্যে তীব্র রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষের ফলে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে চলা এই সংঘর্ষে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া একজন গণমাধ্যমকর্মীসহ উভয় পক্ষের অন্তত পঞ্চাশজন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা বিএনপি কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া এবং হাওরের বিভিন্ন জলমহাল ইজারা নেওয়াকে কেন্দ্র করে দলটির স্থানীয় নেতাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এছাড়া দলীয় ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে তা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তবে ঠিক কী কারণে হঠাৎ করে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সংঘর্ষের তীব্রতায় উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হয়। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এক সাংবাদিকও আঘাতপ্রাপ্ত হন। সংঘাতের একপর্যায়ে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।

খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান জানিয়েছেন যে বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


হরমুজে মার্কিন লেজার অস্ত্র, নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার হচ্ছে মাইক্রোসফটের এক্সবক্স

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হরমুজে মার্কিন লেজার অস্ত্র, নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার হচ্ছে মাইক্রোসফটের এক্সবক্স

মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত কৌশলগত এবং সংবেদনশীল হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে একটি অত্যাধুনিক উচ্চক্ষমতার লেজার অস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত আকাশপথে সম্ভাব্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক ড্রোন খুব সহজেই প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে এই বিশেষ প্রযুক্তিটি মাঠে নামানো হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগ এই সামরিক পদক্ষেপের সত্যতা নিশ্চিত করেছে এবং এর কার্যকারিতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যেসব ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়, তার তুলনায় লেজার প্রযুক্তির মাধ্যমে অত্যন্ত কম খরচে আকাশপথের এই হুমকিগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব বলে দাবি করা হচ্ছে। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক ধরে নিরবচ্ছিন্ন গবেষণার মাধ্যমে এই প্রযুক্তি উন্নত করেছে মার্কিন গবেষকরা এবং বর্তমানে এর সক্ষমতা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশ এগিয়ে রয়েছে।

প্রযুক্তির দিক থেকে লেজার অস্ত্র পরিচালনার পদ্ধতিটি বেশ অভিনব এবং ব্যয় সাশ্রয়ী। প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো প্রতিটি আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য আলাদাভাবে কোনো ভৌত ক্ষেপণাস্ত্র বা ইন্টারসেপ্টর ছুড়তে হয় না, ফলে সামগ্রিক খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। এই অস্ত্রটি জেনারেটর কিংবা শক্তিশালী ব্যাটারি থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ সংগ্রহ করে সেটিকে অতি তীব্র আলোকরশ্মিতে রূপান্তর করে থাকে। পরবর্তীতে অত্যন্ত ঘনীভূত সেই রশ্মি নিখুঁতভাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর ওপর নিক্ষেপ করা হয়, যার ফলে মুহূর্তের মধ্যে যেকোনো ড্রোন বা আকাশযানের সংবেদনশীল অংশ অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে যায়। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিরেক্টেড এনার্জি কনসালট্যান্টসের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, এই ব্যবস্থা ড্রোনের গতিপথ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে অনুসরণ করে এর সেন্সর অকার্যকর করতে বা সম্পূর্ণ যানটি গুঁড়িয়ে দিতে দারুণভাবে সক্ষম।

এই লেজার ব্যবস্থার অন্যতম একটি আকর্ষণীয় ও চমকপ্রদ দিক হলো, এটি পরিচালনার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী কোনো জটিল নতুন যন্ত্রপাতি তৈরি না করে বরং পুনর্গঠিত এক্সবক্স কন্ট্রোলার ব্যবহার করছে। সামরিক বাহিনীর যুক্তি হলো, লক্ষ্যবস্তু নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আগে থেকেই ভিডিও গেম শিল্পে সফলভাবে তৈরি রয়েছে, তাই নতুন করে কন্ট্রোল সিস্টেম উদ্ভাবনের পেছনে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করার কোনো প্রয়োজন নেই। মার্কিন যুদ্ধজাহাজে এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগের পাশাপাশি মেক্সিকোর মাদক কার্টেলবিরোধী অভিযানেও এর ব্যবহারের নজির রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মানবদেহের বিরুদ্ধে সরাসরি এই অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তুলতে পারে এবং এর ফলে সেনাদের অতিরিক্ত গোলাবারুদ মজুত করার প্রয়োজনীয়তা অনেক কমে যাবে।

তবে এত সব সুবিধার পরেও এই প্রযুক্তির কিছু দৃশ্যমান সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। বর্তমানের লেজার সিস্টেমগুলোর আকার ও ওজন বেশ ভারী হওয়ার কারণে এগুলো সৈন্যদের ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারের উপযোগী নয় এবং বড় যুদ্ধজাহাজেই কেবল স্থাপন করতে হয়। তা ছাড়া, লেজার রশ্মি কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য সাধারণত পরিষ্কার আকাশের প্রয়োজন পড়ে এবং একসঙ্গে যদি বিপুলসংখ্যক ড্রোন ঝাঁক বেঁধে আক্রমণ চালায়, তবে একটি একক লেজার ব্যবস্থা সব লক্ষ্যবস্তুকে একই সময়ে মোকাবিলা করতে হিমশিম খেতে পারে। ফলে সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির আরও ব্যাপক উন্নতি সাধিত হলেও প্রচলিত ও বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শতভাগ বিকল্প হিসেবে লেজার একা যথেষ্ট হবে কি না, তা নিয়ে এখনও যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।