শেয়ার বাজার

আতঙ্কে কয়েক হাজার মানুষ
দোয়ারাবাজারে সুরমার গ্রাসে মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে ইদনপুর-আজমপুর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে ২০২৬

দোয়ারাবাজারে সুরমার গ্রাসে মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে ইদনপুর-আজমপুর

মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী

​সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা নদীর দক্ষিণ পাড়ে শুরু হয়েছে প্রকৃতির ভয়াবহ তাণ্ডব। রাক্ষুসী সুরমার করাল গ্রাসে মানচিত্র থেকে ক্রমশ বিলীন হতে চলেছে ইদনপুর ও আজমপুর সহ কয়েকটি গ্রাম। প্রতিদিন নদীর পেটে যাচ্ছে ফসলি জমি, ভিটেমাটি আর স্মৃতিবিজড়িত ঘরবাড়ি।

একদিকে সুরমার ভাঙন, অন্যদিকে নোয়াগাঁও খালের তীব্র ভাঙন— এই দুইয়ের সাঁড়াশি আক্রমণে এখন দিশেহারা কয়েক হাজার মানুষ। আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায় নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর।

​সরেজমিনে দেখা যায়, সুরমা নদীর পাড়জুড়ে শুধু দীর্ঘশ্বাস। চোখের পলকেই নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের সারা জীবনের সম্বল। আবাদি জমি নদী গিলে ফেলায় প্রান্তিক কৃষকরা এখন ভূমিহীন হওয়ার পথে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা আসার আগেই ভাঙন তীব্র হয়, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান আজও মেলেনি।

​ইদনপুর গ্রামের মাস্টার নজির উদ্দিন ভাঙনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে বলেন, 'আমাদের চোখের সামনে দুটি গ্রাম ছোট হয়ে আসছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ইদনপুর ও আজমপুর গ্রামের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। '

​একই আর্তনাদ শোনা গেল আজমপুর গ্রামের সিরাজ মিয়ার কণ্ঠে। তিনি বলেন, 'নদী তো শুধু মাটি নেয় না, আমাদের স্বপ্নগুলোও নিয়ে যাচ্ছে। বাড়িঘর সরিয়ে নেওয়ার মতো জায়গাও এখন আর অবশিষ্ট নেই।'

​শুধু সুরমা নদী নয়, মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে নোয়াগাঁও খালের ভাঙন। এই খালের ভাঙনে ইদনপুরসহ দক্ষিণ পাড়ের বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে রয়েছেন। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে ড্রেজার দিয়ে এই খালে মাটি ভরাট করা এবং সুরমা নদীর পাড় রক্ষায় পরিকল্পিত ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি।

​ইদনপুরের বাসিন্দা এখলাছুর রহমান রাজু ক্ষোভ ও আর্তি নিয়ে জানান নোয়াগাঁও খালের ভাঙন আমাদের আরও বেশি অসহায় করে তুলেছে। নদী আর খালের মাঝখানে আমরা যেন এক চিলতে দ্বীপে বন্দি হয়ে আছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।' 

​এলাকাবাসী তাদের এই মানবিক বিপর্যয় থেকে বাঁচতে ছাতক-দোয়ারাবাজার আসনের সংসদ সদস্য ও জননেতা কলিমউদ্দিন আহমেদ মিলনের দ্রুত সুদৃষ্টি ও ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একইসাথে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) সাদ্দাম হোসেন জানান,

​'আমরা ভাঙনের তীব্রতা সম্পর্কে অবগত আছি। ইদনপুর ও আজমপুর এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি এবং নদী ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। বরাদ্দ ও নির্দেশনা পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।'

​তবে সরকারি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে দ্রুত কাজ শুরু না হলে, নদীপাড়ের এই প্রাচীন জনপদগুলো কেবল ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নেবে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। দোয়ারাবাজারের এই বিপন্ন মানুষের এখন একটাই চাওয়া— ভিটেমাটি আঁকড়ে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা।

হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান গ্র্যান্ড মুফতির, জরুরি বৈঠক করবে পাকিস্তান-তুরস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান গ্র্যান্ড মুফতির, জরুরি বৈঠক করবে পাকিস্তান-তুরস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক বাহিনীর প্রধানদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার এবং সম্ভাব্য আক্রমণ মোকাবিলায় এই তিন দেশের যৌথ কৌশল নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে।

জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সম্প্রতি সৌদি আরবের স্থায়ী মিশনে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই যৌথ উদ্যোগের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান অংশ নেন। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির কাঠামোর আওতায় এই জরুরি বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে একটি দেশের ওপর আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ বলে গণ্য করা হয়।

বৈঠকে সৌদি আরবের পবিত্র স্থান মক্কা এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। পাশাপাশি সৌদি সশস্ত্র বাহিনীর নেওয়া প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপগুলোর উচ্চ প্রশংসা করেন অংশ নেওয়া মন্ত্রীরা। সম্প্রতি সৌদির বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

এই সার্বিক উত্তেজনার মধ্যেই দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় কড়া বার্তা দিয়েছেন সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ সালেহ বিন ফাওজান। সীমান্তে মোতায়েন করা সেনাসদস্যদের সবসময় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের ভূখণ্ড রক্ষা এবং যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করা পবিত্র দায়িত্ব। অন্যদিকে, লোহিত সাগরের কৌশলগত বন্দর ইয়ানবুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবে অতিরিক্ত সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স।


মজুত করা ১ লাখ ৪২ হাজার লিটার ভোজ্যতেল জব্দ, ৬ লাখ টাকা জরিমানা

প্রকাশিত: ০৯ এপ্রিল, ২০২৬

মজুত করা ১ লাখ ৪২ হাজার লিটার ভোজ্যতেল জব্দ, ৬ লাখ টাকা জরিমানা

ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট রোধে দেশব্যাপী অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৪২ হাজার ১৭৩ লিটার ভোজ্যতেলের অস্বাভাবিক মজুত শনাক্ত করেছে র‍্যাব। অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত সমন্বিত অভিযানে মোট ৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। এসব অভিযানে ১ লাখ ৪২ হাজার ১৭৩ লিটার ভোজ্যতেলের অস্বাভাবিক মজুত শনাক্ত করা হয়। এসময় বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

র‍্যাব-৭ এর তত্ত্বাবধানে ফেনী জেলার রামপুরার তাকিয়া রোড এলাকায় যৌথ অভিযানে অবৈধভাবে মজুত করা ৩০ হাজার লিটার ভোজ্যতেল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দুইটি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

নরসিংদীর সদরেও অভিযান চালিয়ে বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ ও মদিনা ট্রেডিংয়ের বিরুদ্ধে যথাক্রমে ৫ হাজার ও ২০ হাজার লিটার তেল অবৈধভাবে মজুত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সাতক্ষীরা জেলা সদরে সাধু স্টোর ও হাজী ট্রেডার্সের মালিকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মজুত, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ, লাইসেন্স না থাকা এবং বৈধ রসিদ প্রদর্শনে ব্যর্থতার অভিযোগে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বাগেরহাটের চুলকাটি বাজারে মেসার্স রাজ স্টোরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০ হাজার ৪০০ লিটার তেল মজুতের প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মো. মঈনের গুদামে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ২০০ লিটার অবৈধভাবে মজুত তেল পাওয়া যায়। বিএসটিআই লাইসেন্স ও মান নিয়ন্ত্রণ সনদ না থাকায় তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া সদরে বাবুল পাল স্টোরে ৫ হাজার ৫৭৩ লিটার তেল মজুতের অভিযোগে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একইভাবে মৌলভীবাজারে মৌলভী ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারিতে তেল থাকা সত্ত্বেও বিক্রি না করে মজুত রাখায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী আরও জানান, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং ভোক্তাদের ভোগান্তি রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযান চলমান রয়েছে।


এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী হলেন প্রকৌশলী মোঃ বেলাল হোসেন

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬

এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী হলেন প্রকৌশলী মোঃ বেলাল হোসেন

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন)পদে দায়িত্ব পেয়েছেন সংস্থারই অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ বেলাল হোসেন তিনি এই পদের আগে প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রীজ প্রকল্পে প্রেষণে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। ৪ জানুয়ারী ২০২৬ ইং বুধবার স্মারকে ৪৬.০০.০০০০.০০০.০৬৭.১২.০০০৭.২৫.৪৯/১(১৪) স্হানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব সচিব আশফিকুন নাহার সাক্ষরে এই আদেশ জারি হয়।

বর্তমানে তিনি অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (মানব সম্পদ উন্নয়ন, মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ ইউনিট)-এ কর্মরত থেকে পিইডিপি-৪ ইউনিটের দায়িত্ব যথাযথভাবে ন্যায় ও নিষ্ঠার সাথে পালন করছেন এবং দীর্ঘদিন তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে প্রশাসন শাখায় সততা ও দক্ষতার সহিত দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

তিনি একজন মেধাবী, চৌকস, কর্মঠ, দক্ষ, সৎ প্রকৌশলী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। চাকরিতে যোগদানের পর পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে তিনি দেশে-বিদেশে বিভিন্ন কারিগরি, ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা ও অন্যান্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও সরকারি দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। এলজিইডিতে সদালাপী ও সজ্জন হিসেবে তাঁর বেশ সুনাম আছে।