শেয়ার বাজার

দিনদুপুরে অস্ত্র হাতে সোনার দোকানে ডাকাতি, রক্ষা পাননি ক্রেতাও

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দিনদুপুরে অস্ত্র হাতে সোনার দোকানে ডাকাতি, রক্ষা পাননি ক্রেতাও

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ১ নম্বর ঢাকেশ্বরী বাজার এলাকায় একটি স্বর্ণের দোকানে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্বাভাবিক কেনাবেচা চলাকালীন সময়ে হঠাৎ করেই একদল দুর্বৃত্ত দোকানে হানা দেয়। তাদের হাতে ধারালো দেশি অস্ত্র থাকায় মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে এই অপরাধ সংঘটিত হয় এবং ডাকাত দল দোকান থেকে প্রচুর মূল্যবান অলংকার লুট করে নিয়ে পালিয়ে যায়।

দোকানের মালিক দেবাশীষ ঢালী জানান, ঘটনার দিন ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র দল জোরপূর্বক তার দোকানে প্রবেশ করে। ডাকাতরা তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর করে এবং সিন্দুক ও ড্রয়ার ভেঙে প্রায় সাড়ে চার ভরি সোনা এবং কয়েকশ ভরি রুপা লুট করে। এ সময় দোকানে উপস্থিত এক নারী ক্রেতাও তাদের হামলার শিকার হন। দুর্বৃত্তরা ওই নারী ক্রেতার শরীর থেকে সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালংকার ও তার পার্স থেকে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়।

ব্যস্ততম বাজারে দিনের আলোয় এমন দুঃসাহসিক ও বড় ধরনের ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। দিনের বেলায় প্রকাশ্য এমন অপরাধের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব অপরাধীকে গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত সমস্ত সোনা ও রুপা উদ্ধারের জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপরতা শুরু করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযান পরিচালনা করে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা দোকানে প্রবেশ করে দোকানদার ও এক নারী ক্রেতাকে জিম্মি করে মালামাল লুট করছে। এই ফুটেজের সূত্র ধরেই পুলিশ একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন ও নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং বাকি পলাতক আসামিদের ধরতে পুলিশের জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়ার পর এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হবে এবং জড়িত বাকিদের আইনের আওতায় আনা হবে।

শাশুড়িকে সম্মান না করায় বাবার চড়, ক্ষুব্ধ ছেলের ছুরিকাঘাতে মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শাশুড়িকে সম্মান না করায় বাবার চড়, ক্ষুব্ধ ছেলের ছুরিকাঘাতে মৃত্যু

রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় পারিবারিক এক তুচ্ছ ঘটনার জেরে মর্মান্তিক এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শাশুড়ির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার প্রতিবাদ করায় বাবাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে হাসানুর রহমান নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। নিহত মহুবার রহমানের বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর এবং অভিযুক্ত হাসানুর তার ২২ বছর বয়সী সন্তান। সম্প্রতি রাতে উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের চর তাম্বুলপুর মাস্টারপাড়া এলাকায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। এই আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বেশ কিছুদিন ধরেই হাসানুরের সঙ্গে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সম্পর্কের অবনতি চলছিল। সম্প্রতি তার শাশুড়িসহ কিছু আত্মীয় বাড়িতে এলেও হাসানুর তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেননি এবং যথোচিত সম্মান প্রদর্শন বা আপ্যায়ন করেননি। বিষয়টি নিয়ে পরিবারে অস্বস্তি ও বিরোধ তৈরি হলে বাবা মহুবার রহমান ছেলেকে বুঝিয়ে বলেন এবং শাশুড়িকে সম্মান দেখিয়ে কথা বলতে ও খাবার দিতে বলেন। কিন্তু বাবার এই সাধারণ উপদেশ ও শাসন একেবারেই মেনে নিতে পারেননি ক্ষিপ্ত হাসানুর।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, বাবার কথা অমান্য করায় একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে মহুবার রহমান ছেলেকে একটি থাপ্পড় দেন। এতে চরমভাবে উত্তেজিত হয়ে হাসানুর ঘরে থাকা একটি ধারালো ছুরি তুলে নেন এবং সরাসরি বাবার পেটে আঘাত করেন। ছুরিকাঘাতের ফলে মহুবার রহমানের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পথেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

তাম্বুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বজলুর রশিদ মুকুল জানান, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এর আগেও অভিযুক্ত হাসানুর বিভিন্ন সময়ে তার বাবার গায়ে হাত তুলেছিলেন বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। শুধু তাই নয়, হাসানুরের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তির গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। এদিকে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক জানিয়েছেন, ঘটনার পর পরই পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্ত হাসানুরকে গ্রেফতারে জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


জাতিসংঘে জাইমা রহমানের নিয়োগ: লিগ্যাল অফিসার পদটির কাজ কী?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জাতিসংঘে জাইমা রহমানের নিয়োগ: লিগ্যাল অফিসার পদটির কাজ কী?

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে সম্প্রতি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। এই নিয়োগের ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁর এই অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জাতিসংঘের এই বিশেষ পদে মূলত আন্তর্জাতিক আইন প্রণয়ন, নীতি নির্ধারণী বিষয়ে আইনি সহায়তা প্রদান এবং বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় আইনি জটিলতা নিরসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয়। লিগ্যাল অফিসাররা বিশ্বজুড়ে শান্তি, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা ও আইনি পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যলয় অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এখানকার কর্মকর্তাদের অত্যন্ত উচ্চমানের পেশাগত দক্ষতা ও আইনি জ্ঞানের অধিকারী হতে হয়।

জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থায় এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য প্রার্থীদের অত্যন্ত কঠোর ও প্রতিযোগিতামূলক বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। বিশ্বমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা, আন্তর্জাতিক আইনের ওপর গভীর জ্ঞান এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দীর্ঘ ও সফল কর্মঅভিজ্ঞতার পরই কেবল এই ধরনের পদে কাজের সুযোগ মেলে। ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের এই নিয়োগে তার নিখুঁত পেশাগত যোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে তার দক্ষতারই স্বীকৃতি মিলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে এই পদের দায়িত্ব পালন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ হলেও এটি একই সঙ্গে একটি চ্যালেঞ্জিং পেশাগত ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। বিশ্ব রাজনীতির নানা সমীকরণ এবং আন্তর্জাতিক নানা সংকটের আইনি দিকগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করে এই পদের কর্মকর্তাদের মতামত দিতে হয়। ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের এই সফল কর্মজীবন ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য মেধাবী ও দক্ষ তরুণদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করার ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


সাবেক স্ত্রীর অন্যত্র বিয়ে, ক্ষোভে নিজ সন্তানকে হত্যার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সাবেক স্ত্রীর অন্যত্র বিয়ে, ক্ষোভে নিজ সন্তানকে হত্যার অভিযোগ

সাবেক স্ত্রী অন্যত্রে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জেরে নিজের কিশোর সন্তানকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক পিতার বিরুদ্ধে। নোয়াখালী জেলার চরজব্বার উপজেলায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে, যা স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিহত ১৪ বছর বয়সী নাঈম স্থানীয় একটি মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল এবং বেশ কিছুদিন ধরে সে নানাবাড়িতে থেকেই পড়াশোনা চালিয়ে আসছিল। দীর্ঘ তিন বছর আগে তার বাবা-মায়ের মধ্যে আইনগত বিচ্ছেদ ঘটেছিল এবং তারপর থেকেই সন্তানটি নানাবাড়িতে বসবাস করত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার কয়েকদিন আগে নিহতের মা ফাতেমা আক্তার সুমি পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সাবেক স্ত্রীর এই দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নিতে পারেননি অভিযুক্ত পিতা ইব্রাহিম খলিল এবং তিনি বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন। পরিবারের দাবি, সাবেক স্ত্রীর ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য থেকেই তিনি নিজের ঔরসজাত সন্তানকে ঠান্ডা মাথায় পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার এই ভয়ংকর পরিকল্পনা করেন। গত সোমবার রাতের কোনো এক সময়ে সন্তানকে কৌশলে ডেকে নিয়ে যান তিনি এবং পরে তাকে হত্যা করা হয়।

এর কিছুদিন পর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্য বাগ্যা গ্রামের একটি স্থানীয় ধানখেতের পাশ থেকে ওই মাদ্রাসাছাত্রের নিথর মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে চরজব্বার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত পিতা ইব্রাহিম খলিলকে আটক করে আইনের আওতায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ জানিয়েছে।

এ বিষয়ে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ পেয়ার গণমাধ্যমকে জানান যে, অভিযুক্ত বাবাকে আটকের পর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য বিস্তারিত কারণ উদঘাটন এবং এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ নিবিড় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। শিশু নাঈমের এই অস্বাভাবিক ও নৃশংস মৃত্যুতে তার পরিবার এবং এলাকজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, সবাই এই নৃশংস অপরাধের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।