শেয়ার বাজার

​দোয়ারাবাজারে থামছে না স্বজনদের বিলাপ
ধান কেড়ে নিল কৃষকের প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে ২০২৬

ধান কেড়ে নিল কৃষকের প্রাণ

​মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী::  মাঠের ধান রক্ষা করতে গিয়ে রক্তে রঞ্জিত হলো কৃষকের আঙিনা। ঘাম আর শ্রমে বোনা স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত যমদূত হয়ে দেখা দিল জহুর উদ্দিনের জীবনে। দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের সুঁড়িগাঁও গ্রামে এখন বারুদজ্বলা স্তব্ধতা; যেখানে ফসলের মায়ার চেয়ে মানুষের আক্রোশ বড় হয়ে উঠেছে।

গত ​পহেলা মে শুক্রবার সকাল। ভরা বৈশাখে যখন সোনালি ধানে মাঠ ভরে ওঠার কথা, ঠিক তখন তুচ্ছ এক বাকবিতণ্ডায় নিভে গেল ৫ সন্তানের জনক ৫৫ বছর বয়সী জহুর উদ্দিনের জীবনপ্রদীপ। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিজের পরম মমতায় ফলানো ধানি জমিতে প্রতিপক্ষের গরু ঢোকার প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই প্রতিবাদই কাল হলো। প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিজের আবাদি জমির বুকেই লুটিয়ে পড়েন এই নিরপরাধ কৃষক।

​উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দায় যখন জহুর উদ্দিনের নিথর দেহ পড়ে ছিল, তখন স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে হাসপাতালের বাতাসও যেন ভারী হয়ে ওঠে। এক মুঠো ধানের অধিকার কি তবে জীবনের চেয়েও দামি? এই প্রশ্ন এখন সুঁড়িগাঁওয়ের প্রতিটি ঘরে। বিকেলের নিভে আসা আলোয় নিহতের বাড়িতে যে শোকের ছায়া নেমেছে, তা যেন কেবল এক ব্যক্তির মৃত্যু নয়, বরং মানবিকতার এক চরম অপমৃত্যু।

উল্লেখ্য, পহেলা মে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে সুঁড়িগাঁও গ্রামের মৃত হযরত আলীর পুত্র জহুর আলীর জমিতে গরু দিয়ে ধান খাওয়ানো নিয়ে একই গ্রামের কফিল উদ্দিন মাস্টারের পুত্র উজ্জ্বল ও ফয়সাল আহমদের সাথে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জহুর আলীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের বারান্দায় ভাইয়ের নিথর দেহের পাশে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের বোন ও ইউপি সদস্য হোসনে আরা বেগম। গগনবিদারী আর্তনাদে তিনি বলেন, 'এক মুঠো ধানের জন্য আমার ভাইকে এভাবে কুপিয়ে মারল ওরা? ভাই তো শুধু নিজের ফসলটুকু বাঁচাতে চেয়েছিল। আমরা এই রক্তপাতের বিচার চাই, খুনিদের ফাঁসি চাই।' তার এই বুকফাটা হাহাকারে উপস্থিত সবার চোখ ভিজে ওঠে। এক মুঠো ধানের অধিকার কি তবে জীবনের চেয়েও দামি হয়ে উঠল? এই প্রশ্ন এখন সুঁড়িগাঁওয়ের প্রতিটি ঘরে।

নিহতের পুত্র আল আমিন কান্নায় ভেঙে পড়ে বাবার খুনীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চেয়েছেন। গরু দিয়ে ধান খাওয়াতে নিষেধ করাই তার পিতার কাল হয়ে দাঁড়ালো।

​দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

​আইনের খাতায় বিচার হবে, হয়তো সাজাও মিলবে। কিন্তু যে কৃষকের ছোঁয়ায় মাঠের ফসল কথা বলত, সেই চেনা মানুষটি আর কখনো ফিরবে না। হাওরের হাহাকার আর স্বজনদের অশ্রুজলে মিশে রইল কেবল একটিই দীর্ঘশ্বাস— ‘মাঠের ধান মাঠেই রইল, কেবল কৃষকই পরপারে পাড়ি জমালো।

মেঘনায় ট্রলারডুবি, কুমিল্লায় এক পরিবারের তিন জনকে পাশাপাশি দাফন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মেঘনায় ট্রলারডুবি, কুমিল্লায় এক পরিবারের তিন জনকে পাশাপাশি দাফন

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির মর্মান্তিক ঘটনার দুই দিন পর একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার হোমনা থেকে আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে ১৪ জন যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি মেঘনা নদীর প্রবল স্রোতে পড়ে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর থেকেই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে আসছিল। তীব্র স্রোত ও প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রাখা হয়।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সজীব, সামিনা ও শিশু সামিন। এর আগে দুর্ঘটনার দিনই রায়েশা বেগম নামের আরেক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। সম্প্রতি সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে নদীর তলদেশ থেকে ওই তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ তল্লাশির পর মরদেহগুলো পাওয়ার পর উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে সেগুলোকে নিজ গ্রাম কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে চরেরগাঁও এলাকার পারিবারিক কবরস্থানে তাদের পাশাপাশি দাফন করা হয়। দাফন সম্পন্ন হওয়ার সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত থেকে শোকার্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া তিনজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার পর স্থানীয় কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে এই নৌ দুর্ঘটনায় হেলাল উদ্দিন নামের আরও একজন ব্যক্তি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে খুঁজে বের করার জন্য নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে।


পুলিশ সেজে যাত্রীকে জরিমানা, অর্থ না পেয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পুলিশ সেজে যাত্রীকে জরিমানা, অর্থ না পেয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা

ভারতের বিহারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে ট্রেনের যাত্রীদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ট্রেনের বিশেষ কামরায় উঠে সাধারণ ও শ্রমজীবী যাত্রীদের টার্গেট করে এই অপরাধ চালাত রোহিত তিওয়ারি নামের এক যুবক। নিজেকে কখনো পুলিশ, কখনো রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী বা এসটিএফের কর্মকর্তা দাবি করে সে বিভিন্ন অজুহাতে যাত্রীদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করত। কেউ তার এই অবৈধ দাবির প্রতিবাদ করলে তাকে শারীরিক লাঞ্ছনা ও মারধরের মুখোমুখি হতে হতো।

এই চক্রের শিকার হন ২১ বছর বয়সী এক তরুণ নিতিন কুমার, যিনি সম্প্রতি একটি বিশেষ ট্রেনে করে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে ট্রেন চলাকালীন সময়ে ধূমপানের মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে জোরপূর্বক ট্রেন থেকে নামিয়ে নেয় ওই প্রতারক। পরবর্তীতে বক্সার স্টেশনের কাছাকাছি এলাকা থেকে নিতিনের ফোন ব্যবহার করে তার পরিবারের কাছে ১০ হাজার রুপি মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ হাজার রুপি পাঠানো হলেও পরদিন আরও ২০ হাজার রুপি চাঁদা দাবি করা হলে তাদের সন্দেহ জাগে।

পরিবারের লোকজনের এমন অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় তারা দ্রুত বিষয়টি বক্সার রেলওয়ে থানাকে অবহিত করেন এবং পুলিশের সহায়তায় তদন্ত শুরু হয়। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে রোহিত তিওয়ারিকে আটক করতে সক্ষম হয় এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ আরা ও জগজীবন হল্ট স্টেশনের মধ্যবর্তী রেললাইন এলাকা থেকে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে নিহতের বাবা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি নিখোঁজ নিতিনের বলে শনাক্ত করেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চাহিদামতো চাঁদার টাকা আদায় করতে না পেরে রোহিত ওই যুবককে চলন্ত ট্রেন থেকে বাইরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিলেন। গ্রেপ্তারকৃত রোহিতের বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি প্রায় পঁচিশ মাস কারাভোগ করেছিলেন। সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে আসার পর তিনি আবারও একই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। পুলিশ তার কাছ থেকে অন্য এক ব্যক্তির মানিব্যাগসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও উদ্ধার করেছে।


ইসলামাবাদ সমঝোতায় ফিরতে যুক্তরাষ্ট্রকে শি জিনপিংয়ের আহ্বান, ইরানের প্রশংসা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইসলামাবাদ সমঝোতায় ফিরতে যুক্তরাষ্ট্রকে শি জিনপিংয়ের আহ্বান, ইরানের প্রশংসা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাত এড়াতে ঐতিহাসিক ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) ওয়াশিংটনকে পুনরায় ফিরে আসার তাগিদ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানান তিনি। কূটনীত ও সংলাপের মাধ্যমে তেহরান ও ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের বৈরিতা নিরসনের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত উত্তেজনা প্রশমনে বেইজিংয়ের এমন মধ্যস্থতামূলক ভূরাজনৈতিক ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

চীনের শীর্ষ নেতার এমন দায়িত্বশীল ও বিচক্ষণ অবস্থানের প্রতি উষ্ণ অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় তিনি শি জিনপিংয়ের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। তেহরান সবসময়ই সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো আন্তর্জাতিক সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাস করে বলে পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করা এবং অর্থবহ আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য যে, এর আগে এই ইসলামাবাদ এমওইউর কাঠামোর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সশস্ত্র সংঘাত সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা সম্ভব হয়েছিল। পাশাপাশি উভয় পক্ষের মধ্যে পরবর্তী কূটনৈতিক বৈঠকের একটি সুনির্দিষ্ট পথরেখাও তৈরি হয়েছিল এই চুক্তির মাধ্যমে। তবে নানা রাজনৈতিক জটিলতা ও আস্থার সংকটের কারণে সেই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হয়নি এবং দুই দেশের সম্পর্কে ফের অবনতি ঘটেছিল। বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই পুরনো সমঝোতা পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হলে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক অবিশ্বাস দূর করে কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে বসার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান। মার্কিন প্রশাসনের তরফ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, চীনের মধ্যস্থতার ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় সেটাই এখন দেখার বিষয়। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের আন্তর্জাতিক উদ্যোগগুলো দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।