শেয়ার বাজার

দাম্পত্যে ভালোবাসা: নবীজির জীবন থেকে ১০ সুন্নত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দাম্পত্যে ভালোবাসা: নবীজির জীবন থেকে ১০ সুন্নত

দাম্পত্য জীবন সুখের ও দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য পারস্পরিক ভালোবাসা এবং তা প্রকাশের বিকল্প নেই। সমাজে অনেক সময় ভুল ধারণা প্রচলিত থাকে যে স্ত্রীর প্রতি গভীর অনুরাগের কথা মনে পুষে রাখাই পুরুষত্ব বা ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক। অথচ ইসলাম ধর্মের সোনালী ইতিহাসে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ সা.-এর জীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি জীবনসঙ্গীর প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রকাশের ক্ষেত্রে ছিলেন সম্পূর্ণ মুক্ত ও অকপট।

ইসলাম ধর্মে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ককে অত্যন্ত পবিত্র এবং মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। মহানবী সা. শুধু নিজ পরিবারে ভালোবাসার চর্চাই করেননি, বরং তার উম্মতদের জন্যও উত্তম নমুনা রেখে গেছেন। প্রিয়তমা স্ত্রীর সঙ্গে কোমল আচরণ করা, তাদের ছোটোখাটো চাওয়া-পাওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সুখে-দুঃখে পাশে থাকা ছিল তার প্রতিদিনের অভ্যাসের অংশ।

নবীজির সুন্নতের মধ্যে এমন বহু সুন্দর দৃষ্টান্ত রয়েছে যা বর্তমান সময়ের দাম্পত্য কলহ ও দূরত্ব দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। স্ত্রীর সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা, সুস্বাদু খাবারে অংশীদার হওয়া কিংবা একসঙ্গে সময় কাটানোর মতো ছোট ছোট বিষয়গুলোকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। এই আচার-ব্যবহারগুলো প্রমাণ করে যে পারিবারিক জীবনে বিনয় ও ভালোবাসার প্রকাশ দুর্বলতা নয়, বরং সুমহান চরিত্রের লক্ষণ।

আজকের আধুনিক যান্ত্রিক জীবনে অনেক দম্পতির মধ্যে মানসিক দূরত্ব তৈরি হচ্ছে, যার মূল কারণ যথাযথভাবে অনুভূতি প্রকাশ না করা। মহানবী সা.-এর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে সম্পর্কের মাঝে মাধুর্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব। পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বাস এবং ভালোবাসার সঠিক বহিঃপ্রকাশই একটি পরিবারকে স্বর্গীয় সুখে পরিপূর্ণ করে তুলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র রাজি হলেই শুরু হবে হরমুজ খোলার সাত দিনের পরিকল্পনা: আরাগচি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র রাজি হলেই শুরু হবে হরমুজ খোলার সাত দিনের পরিকল্পনা: আরাগচি

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে নিজেদের প্রস্তাবিত রূপরেখা নিয়ে মুখ খুলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং ওয়াশিংটন এতে সায় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার কাছে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।

পরিকল্পনার সময়সীমা ও কার্যকারিতা নিয়ে বলতে গিয়ে আরাগচি জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি আগামীকালই এই প্রস্তাব মেনে নেয়, তবে ঠিক সেদিন থেকেই সাত দিনের ক্ষণগণনা শুরু হবে। এই এক সপ্তাহের সময়সীমার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট কিছু প্রাথমিক শর্ত বা পদক্ষেপ পূরণ করতে হবে, যা সম্পন্ন করতে বড়জোর চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে বলে মনে করছে তেহরান।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, এই শর্তগুলো সম্পূর্ণ নতুন কোনো বিষয় নয়, বরং উভয় পক্ষের মধ্যে আগে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মধ্যেই এগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে এসব নিয়ম বাস্তবায়ন নিয়ে তেহরানের তরফ থেকে কোনো ধরনের জটিলতা বা আপত্তি থাকার প্রশ্নই ওঠে না। নির্ধারিত এই প্রাথমিক প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হওয়ার পর, অর্থাৎ ষষ্ঠ দিনে প্রণালিটি চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে।

পরিকল্পনাটির শেষ বা সপ্তম দিনে দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক আলোচনা বসার কথা রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সদিচ্ছা এবং সমঝোতায় পৌঁছানোর আন্তরিকতা থাকলে এই সংকট দ্রুত সমাধান করা সম্ভব বলে মনে করেন ইরানের শীর্ষ এই কূটনীতিক।


চাকা বিকল হওয়া বাসের পেছনে আরেক বাসের ধাক্কা, নিহত ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চাকা বিকল হওয়া বাসের পেছনে আরেক বাসের ধাক্কা, নিহত ৩

মাদারীপুরের শিবচরে ঢাকা–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী বাসে অপর একটি দ্রুতগতির বাসের ধাক্কায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয়েছেন এবং কমবেশি ১৫ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার সময় ক্ষতিগ্রস্ত বাসটির চাকা বিকল হয়ে যাওয়ায় সেটি এক্সপ্রেসওয়ের ওপরে থামিয়ে রাখা হয়েছিল। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই সংঘর্ষের কারণে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধারে এগিয়ে আসেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা পালকী পরিবহনের একটি বাস মাঝপথে শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকায় পৌঁছালে এর চাকা ফেটে যায়। গাড়িটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চলন্ত অবস্থায় এক্সপ্রেসওয়ের ওপর দাঁড়িয়ে পড়ে। ঠিক সেই মুহূর্তে পিছন দিক থেকে আসা হানিফ পরিবহনের আরেকটি দ্রুতগতির বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পালকী পরিবহনের বাসটির পেছনের অংশ মারাত্মকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ও হাইওয়ে থানা–পুলিশের সদস্যরা। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে দ্রুত বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে অন্তত একজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। পুলিশ নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি তাদের মরদেহ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নিচ্ছে।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার ফলে এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে দীর্ঘ সময় সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। পরবর্তীতে শিবচর হাইওয়ে থানা–পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ক্রেনের সাহায্যে দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাস দুটি সরিয়ে নেওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। মহাসড়কে এই ধরনের আকস্মিক দুর্ঘটনা রোধে ভারী যানবাহনগুলোর ফিটনেস ও চালকদের সতর্কতা বাড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুনরায় তাগিদ দিয়েছে।


ইউরোপের সঙ্গে সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে না রাশিয়া: পুতিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইউরোপের সঙ্গে সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে না রাশিয়া: পুতিন

ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে কোনো রকম সামরিক সংঘাতে লিপ্ত হওয়ার পরিকল্পনা মস্কোর নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য রুশ আগ্রাসনের বিষয়ে যে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, তাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। সেন্ট পিটার্সবার্গে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে রুশ রাষ্ট্রপ্রধান জোর দিয়ে বলেন যে, ইউরোপীয় নেতাদের এমন আশঙ্কার পেছনে কোনো বাস্তবসম্মত কারণ নেই।

এর আগে ন্যাটোর বেশ কিছু সদস্যদেশ দাবি করেছিল যে, রাশিয়া ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রমণ চালাতে পারে এবং এর জবাবে দেশগুলোকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হবে। এই দাবির তীব্র সমালোচনা করে পুতিন বলেন, ইউরোপীয়রা অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইউরোপের ভূখণ্ডে সামরিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করার কোনো ইচ্ছাই রাশিয়ার সরকারের নেই।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে মস্কোর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে জার্মানি অভিযোগ করে যে, গত আগস্ট মাসে দেশটির লাইপজিগ বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ষড়যন্ত্র করেছিল মস্কো। একই সঙ্গে পোল্যান্ডও শঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, কিয়েভের পশ্চিমা মিত্রদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে পারে রুশ বাহিনী।

অপরদিকে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে দেশটির সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় চালুর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবছে রাশিয়া। পুতিন এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, আলোচনার সমস্ত প্রস্তাবই বর্তমানে বিবেচনাধীন রয়েছে এবং সবকিছুই সম্ভব। তবে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের বিপরীতে কী ধরনের কৌশলগত প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত, সে বিষয়ে মস্কো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।