শেয়ার বাজার

বিশ্বমঞ্চেই গুডবাই বলবেন কিং কোহলি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্বমঞ্চেই গুডবাই বলবেন কিং কোহলি

প্রায় দেড় দশক আগে ২০১১ সালে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের মধ্য দিয়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপের বর্ণিল যাত্র শুরু করেছিলেন বিরাট কোহলি। সময়ের পরিক্রমায় সেই তরুণ ক্রিকেটার আজ ৩৭ বছরে পা দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ও মহাতারকায় পরিণত হয়েছেন। তবে সব সুন্দর অর্জনেরই একটি পরিসমাপ্তি থাকে, যার ধারাবাহিকতায় এবার নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ের সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত দিলেন এই ভারতীয় ব্যাটার। সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম জিওস্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, তার ক্যারিয়ারের শেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপ হতে চলেছে আগামী আসরটি।

দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া এবং জিম্বাবুয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ক্রিকেট বিশ্বের এই মেগা আসরটি মাঠে গড়ানোর কথা রয়েছে আগামী বছরের অক্টোবর মাসে। বিদেশের মাটিতে ভিন্নধর্মী কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ এবং দীর্ঘমেয়াদের ক্লান্তি শরীর ও মনের ওপর যে প্রভাব ফেলে, তা বিবেচনা করেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। কোহলি জানিয়েছেন যে বাইরের কঠিন পরিস্থিতিতে খেলা বেশ চাপের হলেও ভারতের হয়ে শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চে নিজের সেরাটা নিংড়ে দেওয়াই এখন তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ও লক্ষ্য।

আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সফল এই ব্যাটার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লাল ও সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ক্রিকেট থেকে ইতোমধ্যে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। এর আগে ২০২৪ সালের জুনে দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর এই সংস্করণকে বিদায় জানান তিনি এবং পরবর্তীতে ২০২৫ সালের মে মাসে টেস্ট ক্রিকেট থেকেও অবসরের ঘোষণা দেন। বর্তমানে তিনি ভারতের হয়ে কেবল ওয়ানডে ফরম্যাটেই নিয়মিত মাঠে নামছেন, যার ফলে ভক্তদের জন্য আসন্ন এই বিশ্বকাপই হতে চলেছে জাতীয় দলের জার্সিতে তাকে শেষবারের মতো বড় কোনো টুর্নামেন্টে দেখার সর্বশেষ সুযোগ।

বিশ্বকাপের মঞ্চে কোহলির বর্ণাঢ্য অর্জনের ঝুলি বেশ সমৃদ্ধ, যার সূচনা হয়েছিল ২০১১ সালে প্রথমবারেই শিরোপা জয়ের মাধ্যমে। এরপর আরও কয়েকটি আসর খেলে ২০২৩ সালের সবশেষ ঘরের মাঠের ওয়ানডে বিশ্বকাপে তিনি দুর্দান্ত পারফর্ম করে ৭৬৫ রান সংগ্রহ করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েন। বিশ্বকাপের মতো বিশাল মঞ্চে দীর্ঘ ১০টি ম্যাচজুড়ে একই রকম একাগ্রতা ও তীব্রতা ধরে রাখাকে তিনি বরাবরই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন। বিশ্বমঞ্চে ৩৭ ম্যাচে প্রায় ৬০ গড়ে ১,৭৯৫ রান করা এই তারকার সামনে কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ভাঙার হাতছানিও রয়েছে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে নিজের শেষ বিশ্বকাপটি রাঙিয়ে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার জন্যই এখন সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার।

‘২০২৭ বিশ্বকাপই শেষ’—জানালেন কোহলি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

‘২০২৭ বিশ্বকাপই শেষ’—জানালেন কোহলি

ভারতীয় ক্রিকেট দলের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের একটি ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আগামী ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপই হবে দেশের জার্সিতে তার শেষ বড় টুর্নামেন্ট। দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপের মূল স্তম্ভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা এই তারকা ক্রিকেটারের এমন সিদ্ধান্ত ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে নিজের শারীরিক সক্ষমতা এবং ফিটনেস নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলেও বয়স ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা মাথায় রেখেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে কোহলি এখন তরুণ প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য পথ প্রশস্ত করে দিতে চান এবং নিজের সেরাটা দিয়ে দেশের হয়ে শেষ বিশ্বকাপটি রাঙাতে চান। ক্রিকেট বোদ্ধাদের মতে, তার এই ঘোষণা ভারতীয় দলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও রূপরেখায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

ভারতের হয়ে দুটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পাওয়া এই ক্রিকেটার দেশের মাটিতে এবং বিদেশের মাঠে বহু স্মরণীয় ইনিংস উপহার দিয়েছেন। তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অন্তিম লগ্নে ভক্তরা তাকে আরও একবার বিশ্বমঞ্চে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করতে দেখতে উদগ্রীব হয়ে আছেন। কোহলির এই সিদ্ধান্ত তার অগণিত অনুসারী ও সতীর্থদের মধ্যেও গভীর আবেগের সৃষ্টি করেছে, কারণ ভারতীয় ক্রিকেটে তার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

আসন্ন মেগা টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে তিনি এখন থেকেই নিজের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন এবং দলের জয়ে সর্বোচ্চ অবদান রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন। ক্রিকেটপ্রেমী ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোহলির মতো অভিজ্ঞ একজন ক্রিকেটারের উপস্থিতি ২০২৭ সালের টুর্নামেন্টে দলের মানসিক শক্তি অনেক বাড়িয়ে দেবে। সব মিলিয়ে, তার এই ঘোষণা এক যুগের অবসান ঘটার ইঙ্গিত দিলেও তা ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকদের মনে দীর্ঘকাল অমলিন হয়ে থাকবে।


নিখোঁজের ছয় দিন পর নারীর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার, সাবেক স্বামী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিখোঁজের ছয় দিন পর নারীর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার, সাবেক স্বামী আটক

নেত্রকোনা সদর উপজেলায় রহস্যজনক নিখোঁজের প্রায় এক সপ্তাহ পর মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ওই নারীর নাম নাজু আক্তার এবং তাঁর বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। ঘটনার দীর্ঘ ছয় দিন পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঢুকিয়ালি নদের পাড় থেকে তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাজু আক্তার গত কয়েক দিন ধরে সম্পূর্ণ নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান মেলাতে পারেননি। পরবর্তীতে নিখোঁজের বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশকে অবহিত করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে এবং নিখোঁজের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চালায়।

তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে নাজু আক্তারের সাবেক স্বামীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঢুকিয়ালি নদের পাড় এলাকায় তল্লাশি চালায়। সেখানে মাটি খুঁড়ে নাজু আক্তারের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটনের জন্য আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এটি পূর্ব শত্রুতা নাকি পারিবারিক কলহের জেরে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে আসলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।


সৈকতে ডিম পেড়ে সামুদ্রিক কচ্ছপের বাসা বানানোর বিরল দৃশ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সৈকতে ডিম পেড়ে সামুদ্রিক কচ্ছপের বাসা বানানোর বিরল দৃশ্য

প্রকৃতির এক বিস্ময়কর ও বিরল ঘটনার সাক্ষী হয়েছে একটি সামুদ্রিক সৈকত। সেখানে গভীর রাতে বালু খুঁড়ে একটি কচ্ছপ ডিম পাড়ার পর নিখুঁতভাবে বাসা তৈরি করেছে, যা ওই অঞ্চলের জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি অভিজ্ঞতা। স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এই দুর্লভ দৃশ্য দেখে দারুণভাবে বিমোহিত হয়েছেন।

সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য গবেষকদের মতে, এই ধরনের সামুদ্রিক কচ্ছপ সাধারণত নিরাপদ ও উপযুক্ত পরিবেশ পেলে নির্দিষ্ট কিছু সৈকতেই ডিম পাড়ার জন্য আসে। তবে বর্তমান সৈকতটিতে এর আগে কচ্ছপের বাসা বাঁধার কোনো রেকর্ড ছিল না। এটি প্রমাণ করে যে ওই এলাকার উপকূলীয় পরিবেশ সামুদ্রিক প্রাণীদের প্রজননের জন্য ধীরে ধীরে উপযোগী হয়ে উঠছে।

সামুদ্রিক কচ্ছপের এই সফল প্রজনন প্রচেষ্টাকে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। কচ্ছপটি যাতে নিরাপদে ডিমগুলো ফুটিয়ে সাগরে ফিরে যেতে পারে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী দলগুলো এরই মধ্যে বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে। ডিমগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বালুর চারপাশে সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

পরিবেশবিদদের ধারণা, এই ঘটনা উপকূলীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক প্রাণীর বিচরণ ও প্রজনন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে সামুদ্রিক কচ্ছপ রক্ষায় আরও বড় পরিসরে গবেষণা ও সংরক্ষণমূলক উদ্যোগ গ্রহণের পথ উন্মুক্ত করবে এই বিরল ঘটনা।