শেয়ার বাজার

বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর পশ্চিমবঙ্গে খ্রিস্টানদের ওপর ৬০ হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর পশ্চিমবঙ্গে খ্রিস্টানদের ওপর ৬০ হামলা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে খ্রিস্টান সম্প্রদায় এবং তাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে একের পর এক হামলার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গবেষণা সংস্থা ইন্ডিয়া হেট ল্যাবের প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৩ মে থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজ্যজুড়ে অন্তত ৬০টি এ ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। রাজ্যের মোট ১৩টি জেলাজুড়ে এই ঘটনাগুলো ঘটেছে, যা নিয়ে স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গবেষকদের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং নির্দিষ্ট কিছু সংগঠনের তৎপরতার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নথিভুক্ত হওয়া মোট ৬০টি ঘটনার মধ্যে ৫২টি ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত প্রার্থনা সভা, বাড়ি, গির্জা এবং অন্যান্য খ্রিস্টান সমাবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। বাকি আটটি ঘটনার মধ্যে রয়েছে শারীরিক হামলা, সংঘবদ্ধ আক্রমণ এবং গির্জা বা প্রার্থনালয়ে ভাঙচুরের মতো গুরুতর অপরাধ। এছাড়া এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের পাঁচটি ঘটনা এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের মিথ্যা অভিযোগ তুলে তিনটি পৃথক বিক্ষোভের তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জেলাগুলোর মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে এই ধরনের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে, যেখানে উভয় জেলাই ১৩টি করে হামলার শিকার হয়েছে। এসব ঘটনার পেছনে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ, হিন্দু সুরক্ষা সমিতি এবং হিন্দু সংহতির মতো উগ্র ডানপন্থী হিন্দু সংগঠনের সদস্যদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা ছিল বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রায়শই প্রার্থনা সভায় চড়াও হয়ে আয়োজকদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্মান্তরের ভুয়া অভিযোগ আনতেন এবং উপস্থিত লোকজনের ধর্মীয় পরিচয় নিশ্চিত করতে তাদের জোর করে আধার কার্ড প্রদর্শনের দাবি জানাতেন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বেশ কিছু ঘটনায় আক্রমণকারীরা রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে সরাসরি হুমকি দিয়েছেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে পশ্চিম মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ায় একটি খ্রিস্টান সমাবেশে বাধা দেওয়ার সময় হামলাকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড আর বরদাশত করা হবে না। একইভাবে গত জুলাই মাসে বারাসতে নানামুখী হুমকির মুখে পড়েন খ্রিস্টান মিশনারিরা। সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা এবং উপাসনার স্বাধীনতা নিয়ে এই প্রতিবেদন এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

মেঘনায় ট্রলারডুবি, কুমিল্লায় এক পরিবারের তিন জনকে পাশাপাশি দাফন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মেঘনায় ট্রলারডুবি, কুমিল্লায় এক পরিবারের তিন জনকে পাশাপাশি দাফন

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির মর্মান্তিক ঘটনার দুই দিন পর একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার হোমনা থেকে আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে ১৪ জন যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি মেঘনা নদীর প্রবল স্রোতে পড়ে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর থেকেই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে আসছিল। তীব্র স্রোত ও প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রাখা হয়।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সজীব, সামিনা ও শিশু সামিন। এর আগে দুর্ঘটনার দিনই রায়েশা বেগম নামের আরেক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। সম্প্রতি সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে নদীর তলদেশ থেকে ওই তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ তল্লাশির পর মরদেহগুলো পাওয়ার পর উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে সেগুলোকে নিজ গ্রাম কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে চরেরগাঁও এলাকার পারিবারিক কবরস্থানে তাদের পাশাপাশি দাফন করা হয়। দাফন সম্পন্ন হওয়ার সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত থেকে শোকার্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া তিনজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার পর স্থানীয় কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে এই নৌ দুর্ঘটনায় হেলাল উদ্দিন নামের আরও একজন ব্যক্তি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে খুঁজে বের করার জন্য নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে।


পিকলবল খেলে ১৩ বছরের কিশোরীর বিশ্বভ্রমণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পিকলবল খেলে ১৩ বছরের কিশোরীর বিশ্বভ্রমণ

খেলার মাঠে নতুন উন্মাদনা সৃষ্টি করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছে পিকলবল। এই খেলায় দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে মাত্র তেরো বছর বয়সেই বিশ্বভ্রমণের সুযোগ করে নিয়েছে তরুণী এলসি ওয়াটার্স। ১৬-অনূর্ধ্ব জুনিয়র টুর্নামেন্টে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে সে এখন খবরের শিরোনামে। তার এই অবিশ্বাস্য সাফল্যে অনুপ্রাণিত হচ্ছে বিশ্বের অনেক উদীয়মান ক্রীড়াবিদ।

খেলার প্রতি এলসির নিবেদন ও কঠোর পরিশ্রম তাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। প্রতিদিন অত্যন্ত ভোরে ঘুম থেকে উঠে নিজের সকালের নাশতা নিজেই তৈরি করে সে। এরপর আর সময় নষ্ট না করে সরাসরি অনুশীলনে নেমে পড়ে। তার এই আত্মবিশ্বাস ও শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন খেলাধুলার প্রতি তার গভীর ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।

এলসির এই সাফল্যের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালে। সে সময় মাত্র বারো বছর বয়সে সে আনুষ্ঠানিকভাবে এই খেলায় পা রাখে। শুরুর দিকে পিকলবলের সামগ্রিক পরিবেশ বেশ অগোছালো ছিল এবং প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া খেলোয়াড়েরা মূলত শখের বসেই খেলতেন। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে খেলাটি পেশাদার রূপ নেয় এবং এলসিও নিজের দক্ষতাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।

শখের খেলোয়াড়দের মাঝ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করা এক দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প। কঠোর অনুশীলন এবং অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সে আজ বিশ্বমঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করেছে। কিশোরী এলসির এই জয়রথ ভবিষ্যতে তাকে আরও বহুদূর নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।