শেয়ার বাজার

বগুড়া পুলিশে বিল জালিয়াতি: আত্মসাৎ ৩ কোটি, তদন্তে ৩০ পুলিশ সদস্যের নাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়া পুলিশে বিল জালিয়াতি: আত্মসাৎ ৩ কোটি, তদন্তে ৩০ পুলিশ সদস্যের নাম

বগুড়া জেলা পুলিশের বিভিন্ন আর্থিক খাত এবং বিলে ব্যাপক জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। ভুয়া ভ্রমণ ভাতা বা টিএ বিলের মাধ্যমে সরকারি তহবিল থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশের অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে এই দুর্নীতির বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই পুরো প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত সরকারি দায়িত্ব পালন করেও অনেক পুলিশ সদস্য তাদের প্রাপ্য ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন, অথচ এই খাতের বরাদ্দকৃত অর্থ দ্রুত শেষ হয়ে যেত।

পুলিশের অভ্যন্তরীণ এই অনিয়মের সূত্রপাত ঘটে যখন জেলা সুপারের ব্যক্তিগত কম্পিউটার আইডি অন্য কারো মাধ্যমে ব্যবহারের বিষয়টি ধরা পড়ে। পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ সম্প্রতি দাপ্তরিক কাজ করার সময় তার আইডিতে অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করেন। বিষয়টি তিনি দ্রুত জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে অবহিত করেন এবং আইডির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পর শুরু হয় নিবিড় অনুসন্ধান। প্রাথমিক অনুসন্ধানেই পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের অফিস সহকারী রাজিবুল ইসলাম এবং হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের অডিটর ফিরোজ আলমের নাম এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে উঠে আসে।

ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে গত আগস্ট মাসের শেষ দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করার পর একে একে বর্তমান ও সাবেক প্রায় ৩০ জন পুলিশ সদস্যের নাম এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। ইতোমধ্যে এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রায় ২০ জন পুলিশ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে অনেক সদস্য দাবি করেছেন যে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভুয়া বিলের টাকা জমা হলেও সেই অর্থ তুলে রাজিবুল ও ফিরোজের হাতে তুলে দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।

জালিয়াতির পুরো পরিধি এবং এর সঙ্গে জড়িত প্রকৃত কুশীলবদের চিহ্নিত করতে জেলা পুলিশের দুই হাজারেরও বেশি সদস্যের টিএ বিলের রেজিস্টার ও ব্যাংক হিসাব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে। অভিযুক্ত অডিটর ফিরোজ আলমকে ইতিমধ্যে রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং প্রধান হিসাবরক্ষণ কার্যালয় থেকেও পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ সুপার নিশ্চিত করেছেন।

রাজশাহীতে মুদি দোকান পোড়ানোর পর দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজশাহীতে মুদি দোকান পোড়ানোর পর দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা

রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার বাকির মোড় এলাকায় চাঞ্চল্যকর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খুচরা টাকা ভাঙিয়ে দিতে অস্বীকার করার জেরে আবদুল বারী (৪০) নামের এক মুদি দোকানিকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে হামলাকারীরা পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করে তার দোকানটি সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেয়। এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। নিহত আবদুল বারী ওই এলাকারই বাসিন্দা বদরুল সরকারের ছেলে ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সততার সঙ্গে মুদি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় মূলত হত্যাকাণ্ডের দিন সন্ধ্যার পর। ওই সময় নগরীর চণ্ডিপুর এলাকা থেকে কিছু বখাটে যুবক বাকির মোড় এলাকায় মাদক সেবনের উদ্দেশ্যে আসে। তারা আবদুল বারীর দোকানে খুচরা টাকা ভাঙানোর জন্য গেলে তিনি তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এর জেরে দোকানির সঙ্গে যুবকদের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা হলেও বখাটেরা প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে এবং এর মারাত্মক পরিণতি হিসেবে গভীর রাতে এই হামলা চালানো হয়।

পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাত পৌনে দুইটার দিকে অর্ধশতিকারও বেশি মানুষের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও পেট্রল বোমা নিয়ে আবদুল বারীর দোকানের সামনে জড়ো হয়। হামলাকারীরা প্রথমে বারীর বাড়ির সামনে অবস্থিত মুদি দোকানের শাটারের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর পেট্রল বোমা মেরে দোকানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়, যা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা ও শব্দ শুনে বারী ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং চিৎকার শুরু করেন।

পরিবারের সদস্যরা টের পাওয়ার পর হামলাকারীরা সরাসরি আবদুল বারীকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে রাজপাড়া থানা পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পুলিশ এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এজাহার দাখিলের পর অভিযুক্তদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।


‘পাশের জমির মালিকের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে’ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, আটক ৩: পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

‘পাশের জমির মালিকের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে’ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, আটক ৩: পুলিশ

জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাশের এক জমির মালিকের দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই সহিংসতার সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় স্টুডিওটির ভেতরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের এলাকায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিরোধপূর্ণ ওই জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে জটিলতা চলে আসছিল। ঘটনার দিন হঠাৎ করেই একদল লোক স্টুডিও চত্বরে চড়াও হয় এবং জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা স্টুডিওর বিভিন্ন আসবাবপত্র ও মূল্যবান যন্ত্রাংশ ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খবর পেয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের তেজগাঁও অঞ্চলের সহকারী কমিশনার নাজমুল আলম সংবাদমাধ্যমকে জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

এই আকস্মিক হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সালমান মুক্তাদিরসহ সংশ্লিষ্টরা। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। বর্তমানে ওই এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি: কাঙ্ক্ষিত আসন পেতে প্রস্তুতি যেভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি: কাঙ্ক্ষিত আসন পেতে প্রস্তুতি যেভাবে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে শিক্ষার্থীদের কেবল সাধারণ পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ থাকলেই চলবে না, বরং একটি সুনির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত কৌশল গ্রহণ করতে হবে। ভর্তিচ্ছুদের শুরু থেকেই রুটিন তৈরি করে নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে এবং সময়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে সবার শেখার গতি ও ধরন এক হয় না, তাই অন্যের তৈরি করা রুটিন অন্ধভাবে অনুসরণ না করে নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী পরিকল্পনা সাজানোই শ্রেয়।

প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বিগত বছরের প্রশ্নপত্র গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা এবং নিয়মিত অনুশীলন করা। কোন কোন অধ্যায় বা টপিক থেকে বারবার প্রশ্ন আসছে, তা চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে। বিগত বছরের প্রশ্নগুলোর ভাষা ভিন্ন হতে পারলেও অনেক সময় মূল ধারণা বা থিম একই থাকে, যা প্রশ্নব্যাংক সমাধানের মাধ্যমে সহজেই অনুধাবন করা সম্ভব।

নিয়মিত মডেল টেস্টে অংশ নেওয়া ভর্তি প্রস্তুতির একটি অপরিহার্য ধাপ, যা পরীক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং নিজেদের দুর্বলতাগুলো খুঁজে বের করতে সাহায্য করে। মডেল টেস্টের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে প্রশ্ন সমাধানের অভ্যাস গড়ে ওঠে, যা মূল পরীক্ষার হলে টাইম ম্যানেজমেন্ট বা সময় ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে নেগেটিভ মার্কিং এড়াতে এবং পরীক্ষার ভীতি দূর করতে বেশি বেশি মডেল টেস্ট দেওয়ার বিকল্প নেই।

পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর তিন ধাপে উত্তর করার কৌশল অবলম্বন করলে ভালো ফলাফল করা সম্ভব। প্রথমে নিশ্চিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হবে, দ্বিতীয় ধাপে চিন্তাভাবনা করে উত্তর করা যাবে এমন প্রশ্নগুলো ধরতে হবে এবং সবচেয়ে শেষে জটিল বা সময়সাপেক্ষ প্রশ্নগুলো বিবেচনা করতে হবে। কোনো বিষয়ে দুর্বলতা থাকায় হতাশ না হয়ে নিজের শক্তির জায়গাগুলোকে আরও মজবুত করতে হবে এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।