শেয়ার বাজার

‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় সকালে ম্যানহাটনে জেপি মর্গানের সদর দপ্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে বাংলাদেশ এখন ব্যবসার জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। রাজনীতিতে আসার পূর্বের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি জানান যে আস্থার পরিবেশ এবং পূর্বানুমেয় নীতিই বিনিয়োগের প্রধান চালিকাশক্তি। আয়োজক প্রতিষ্ঠান জেপি মর্গান এবং উপস্থিত ব্যবসায়ীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, উভয়ের লক্ষ্য ভিন্ন হলেও সাফল্যের মূলমন্ত্র মূলত একই সূত্রে গাঁথা।

দেশের বিশাল সম্ভাবনা তুলে ধরে সরকারপ্রধান জানান যে ১৮ কোটির বেশি জনসংখ্যার বাংলাদেশে একটি কর্মক্ষম তরুণ সমাজ এবং ক্রমবর্ধমান বাজার রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী তৈরি পোশাক ও উৎপাদন খাতের বাইরেও জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, কৃষি এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিনিয়োগের অপার ক্ষেত্র উন্মুক্ত রয়েছে। আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বর্তমান প্রশাসন। এই মহাযজ্ঞ বাস্তবায়নে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজীকরণ, বিনিয়োগ সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, কর প্রশাসন উন্নত করা এবং মুনাফা সহজে নিজ দেশে নেওয়ার মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্ব গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে কোনো দেশ কেবল মুখের কথায় আকৃষ্ট হয় না, বরং বাস্তব নীতিমালা এবং তার কার্যকর প্রয়োগই মূল বিষয়। মূলধন স্থানান্তর থেকে শুরু করে মুনাফা ফেরতের সহজ প্রক্রিয়া এবং বিধিমালার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে তিনি মন্তব্য করেন। স্বল্পমেয়াদি কোনো লক্ষ্য নয়, বরং উভয় পক্ষের দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য একটি শক্তিশালী অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ। ওয়াল স্ট্রিটের বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে এসে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশের আহ্বান জানান তিনি। সরকারের এই উদ্যোগগুলো সমন্বয় করার জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী দেশটিতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পুঁজি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এবং যেকোনো ধরনের গঠনমূলক পরামর্শ শুনতে তার প্রশাসন সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। পরিশেষে, তিনি খুব শীঘ্রই যুক্তরাষ্ট্রের এই শীর্ষ ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের একটি প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম বন্ড চালুর ক্ষেত্রে জেপি মর্গানের সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন যে এটি দেশের পুঁজিবাজারকে বৈশ্বিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই বৈঠকের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে বৈশ্বিক উৎপাদন ও সেবামূলক খাতের একটি শক্তিশালী কেন্দ্রে রূপান্তরের পথ আরও সুগম হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে চাকরি, পদ ১৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে চাকরি, পদ ১৫

দেশের বেকার যুবকদের জন্য সরকারি চাকরিতে প্রবেশের আরেকটি নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন গ্রেডে লোকবল নিয়োগের উদ্দেশ্যে একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশের যোগ্য ও আগ্রহী নাগরিকদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনলাইনে দরখাস্ত আহ্বান করা হয়েছে। সরকারি এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করার মাধ্যমে প্রার্থীরা নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ার একটি চমৎকার সুযোগ পাবেন।

মন্ত্রণালয়ের এই নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী মোট ১৫টি শূন্য পদে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। পদগুলোর মধ্যে রয়েছে হিসাবরক্ষক, সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক এবং অফিস সহায়ক পদ। ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের এসব পদে বেতন স্কেল পদভেদে আলাদা নির্ধারিত রয়েছে, যা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রদান করা হবে। প্রতিটি পদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তানুযায়ী আগ্রহী প্রার্থীদের বয়স নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে ১৮ থেকে ৩২ বছরের সীমার মধ্যে হতে হবে। প্রার্থীদের অনলাইনে টেলিটকের নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদনপত্র পূরণ করে জমা দিতে হবে। পদের ধরন অনুযায়ী আবেদন ফি ভিন্ন ভিন্ন নির্ধারণ করা হয়েছে, যা অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার সময় পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সঠিক সময়ে আবেদন সম্পন্ন না করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন কার্যক্রম ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং তা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চলমান থাকবে। আগামী ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের মধ্যে ইচ্ছুক প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চাকরিপ্রার্থীরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অথবা নির্ধারিত লিংকের মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তির বিস্তারিত তথ্য জেনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারবেন।


ভারত নির্বাচন বিশ্লেষণ করতে পারে, মতামত দেওয়ার অধিকার রাখে না

প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

ভারত নির্বাচন বিশ্লেষণ করতে পারে, মতামত দেওয়ার অধিকার রাখে না

আসন্ন নির্বাচন নিয়ে ভারত বিশ্লেষণ করতে পারে, তবে মতামত দেওয়ার সুযোগ (অধিকার) দেশটি রাখে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এছাড়া পতিত স্বৈরাচার ভোটের পরিবেশ নষ্টের চেষ্টা করলে সরকার প্রতিহত করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।  

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা এ কথা জানান। রিজওয়ানা হাসান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়; পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন। 

কোনো কোনো জেলায় ডিসিদের গণভোটের পক্ষে সেভাবে প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে না- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, আমরা যা করছি তা হলো, আমরা উপদেষ্টারা দেশের ৬৪ জেলায় গিয়ে বিভিন্ন জেলার যারা সুশীল সমাজের আছেন, শিক্ষক প্রতিনিধি আছেন, ছাত্র প্রতিনিধি আছেন, যারা ধর্মীয় নেতা আছেন- সবাইকে গণভোটটা কেন হচ্ছে, গণভোটের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো কী- এটা বুঝিয়ে দিচ্ছি। এখন যেহেতু নির্বাচনের প্রচার শুরু হয়ে গেছে, এখন আর আমরা কোনো উপদেষ্টা সেখানে যাচ্ছি না। আমাদের কিছু ম্যাটেরিয়াল আছে গণভোটের স্বপক্ষে, সেটাই আমরা বিলি করে বেড়াচ্ছি।  

তিনি বলেন, কিন্তু জেলা প্রশাসকেরা কোথায় প্রচার করছেন, করছেন না... জেলা প্রশাসকেরা প্রচার করবেন হচ্ছে যে ১২ তারিখে সাধারণ ভোটের পাশাপাশি একটা গণভোট হবে। সাধারণ ভোটের পাশাপাশি জনগণ যেন গণভোটে যেতে পারে সে খবরটা জানানো। এর বেশি তো আর তাদের কিছু করার কথা না।  

সার্বিকভাবে এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ কেমন দেখছেন? দুই দলের মধ্যে ঢিল ছোড়াছুড়ি হচ্ছে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকেও ভোট নিয়ে মন্তব্য আসছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, শোনেন, প্রথম কথা হচ্ছে নির্বাচনের পরিবেশ তো উত্তেজনাপূর্ণ হবে। এক দল আরেক দলকে হারাবার চেষ্টা করবে, এক দল জিতবার চেষ্টা করবে। যে দল জিতবার চেষ্টা করবে সে তার পক্ষকে ঘায়েল করার জন্য কথা বলবে, প্রতিপক্ষ আরেকজনকে ঘায়েল করার কথা বলবে, এটা খুব স্বাভাবিক কথা।

তিনি বলেন, কোনো কোনো জায়গায় হয়তো ভদ্রতা সভ্যতার সীমাটা রাখা হচ্ছে না, সেজন্য সব দলকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। যদি কোনোটা আইনশৃঙ্খলা পর্যায়ে পৌঁছে যায় তখন সেটা সরকারের দায়িত্ব। তার আগ পর্যন্ত কে কার জনসভায় কী বললো না বললো সেটা তো সরকারের দায়িত্ব না।  

নির্বাচন সম্পূর্ণ একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় মন্তব্য করে রিজওয়ানা হাসান বলেন, সেখানে অন্য দেশ বিশ্লেষণ করতে পারে, কিন্তু মতামত তো দেওয়ার সুযোগ রাখে না। তার বিশ্লেষণ থাকতে পারে কিন্তু কে জিতলে কী ধারণা করবে জিতবার আগেই এত কথা বলে দিলে তো এই মন্তব্য বস্তুনিষ্ঠ সেরকম মনে করার কোনো সুযোগ নেই।  

ভোটের পরিবেশ নষ্ট হলে আওয়ামী লীগকেই দায়ী করা হবে- সরকারের এমন একটা বিবৃতি আছে। এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার যে আওয়ামী লীগ চেষ্টা করেনি তা তো ঠিক কথা না। ভোটের যেদিন শিডিউল ঘোষণা হলো সেদিনই তো বিভিন্ন জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ করা হলো এবং সেটার ভুক্তভোগী আমরাও কয়েকজন আছি। ফলে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য যদি পতিত স্বৈরাচারের কোনো শক্তি কোনো রকম চেষ্টা করে সেটা প্রতিরোধ করার জন্য সরকার প্রস্তুত আছে, প্রয়োজনে প্রস্তুতি আমরা বাড়াবো।

মানুষের ভেতরে ভোটের পরিবেশ নিয়ে ভয় কাজ করছে- এ বিষয়ে তিনি বলেন, আপনি আমাকে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেবেন যে কোন মানুষ আপনাকে বলেছে তার ভোট দিতে ভয় লাগছে। আমরা যে এত কয়টা জেলায় গেলাম সব জায়গায় আমরা দেখে এসেছি প্রতিটি জায়গায় নির্বাচনের একটা আমেজ শুরু হয়েছে। যখন আমরা গেছি তখনও কিন্তু নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়নি। তো প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনাও বাড়বে, আগ্রহও বাড়বে, আনন্দও বাড়বে। এটা সবসময় বাংলাদেশে হয়ে থাকে। কোনো জায়গাতে কোনো মানুষ আমাকে বলেনি যে আপা ভোট দিতে কেমন করে যাবো আমার ভয় লাগছে। আপনাকে যদি কেউ এটা বলে থাকে আমাদের জানাবেন তার ভয় দূর করার দায়িত্ব অবশ্যই আমাদের।

সরকারের এ উপদেষ্টা আরও বলেন, এই যে ভয়ের একটা আবহ তৈরি করা নানান প্রচার-প্রচারণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, নানান কিছু ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়ে দিয়ে একটা ভয়ের আবহ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ জন্যই বলা হচ্ছে যে পতিত স্বৈরাচার যদি নির্বাচনের পরিবেশকে বিঘ্ন করার জন্য কোনো কাজ করে আমরা সেটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।


দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগদান শেষে পাঁচ দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর সফলভাবে শেষ করে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে তাঁকে বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে স্থানীয় সময় ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাই হয়ে ঢাকার পথ ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই ছিল তাঁর প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ, যা কূটনৈতিক অঙ্গনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সফরে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সফরের মূল আকর্ষণ ছিল গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বাংলায় ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান। ভাষণে তিনি বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান তুলে ধরেন। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের নাগরিকদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে যুদ্ধ বা অস্ত্রের পরিবর্তে কূটনীতি, পারস্পরিক সংলাপ এবং সহযোগিতার পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান বিশ্বনেতাদের প্রতি। এছাড়া জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে সরকারের 'থ্রি-আর' কৌশল বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

নিউইয়র্ক অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত বহু রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। এর মধ্যে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এসব বৈঠকে পারস্পরিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বৃদ্ধি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফাউন্ডেশনের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকে দেশের স্বাস্থ্যখাত এবং টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পে সহায়তার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আয়োজিত বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ববইটেকেও জোরালো ভূমিকা পালন করেন সরকারপ্রধান। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য অর্থায়ন এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাসের আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া স্বাস্থ্যখাতের সংস্কারের অংশ হিসেবে দেশে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে এই সফরে বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে উড়োজাহাজ ক্রয়ের বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা দেশের বিমান পরিবহন খাতকে আরও সমৃদ্ধ করবে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রধান ও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে শেষ দিনে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সার্বিকভাবে এই কূটনৈতিক সফর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি বৈশ্বিক অংশীদারত্ব সুদৃঢ় করতে অনন্য ভূমিকা রেখেছে।