শেয়ার বাজার

বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে ২২০ পদে চাকরি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে ২২০ পদে চাকরি

দেশের সরকারি বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ক্যারিয়ার গড়ার দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির তত্ত্বাবধানে একটি বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশের আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোতে শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগ্রহ ও যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীরা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অনলাইনের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন।

প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৬ থেকে ১০ গ্রেডের মোট ১৭টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে সর্বমোট ২২০ জন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। পদের ধরন অনুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতার বিভিন্নতা রয়েছে। এর মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভিন্ন শাখা যেমন ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল, সিভিল, টেক্সটাইল, লেদার ও আর্কিটেকচার বিষয়ে স্নাতক বা ডিপ্লোমা ধারী প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। পাশাপাশি আইন, ফিন্যান্স, হিসাববিজ্ঞান এবং অন্যান্য সাধারণ বিষয়ে ডিগ্রিধারীদের জন্যও রয়েছে আকর্ষণীয় পদের সুযোগ।

পদভেদে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত বেতন স্কেলে তারতম্য রয়েছে। ষষ্ঠ গ্রেডের পদের জন্য বেতন স্কেল পঁয়ত্রিশ হাজার পাঁচশত থেকে সাতষট্টি হাজার দশ টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। এছাড়া নবম গ্রেডের পদের ক্ষেত্রে বাইশ হাজার থেকে ত્રેপান হাজার ষাট টাকা এবং দশম গ্রেডের পদের জন্য ষোল হাজার থেকে আটত্রিশ হাজার ছয়শত চল্লিশ টাকা পর্যন্ত বেতন পাওয়া যাবে। প্রার্থীদের বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তারিখের সীমানা অনুসরণ করা হয়েছে, যেখানে অধিকাংশ পদের ক্ষেত্রে একুশ থেকে বত্রিশ বছর বয়স পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।

আবেদনের প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিশিয়াল নিয়োগ সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রার্থীরা তাদের পূর্বের সিভি আইডি বা নতুন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন ফরম পূরণের সময় সঠিক তথ্য প্রদান অত্যন্ত জরুরি এবং সাবমিট করার পর প্রাপ্ত সিভি আইডি ও পাসওয়ার্ড ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে। আগামী ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের রাত বারোটার মধ্যে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করতে হবে।

জাসদ কার্যালয়ে গোপন বৈঠক, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী সন্দেহে আটক ২৬০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জাসদ কার্যালয়ে গোপন বৈঠক, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী সন্দেহে আটক ২৬০

রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গোপন বৈঠক চলাকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সন্দেহে আড়াইশ জনের বেশি ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। সম্প্রতি শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউর ওই কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান শুনতে পেয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও হকাররা সন্দেহভাজনদের ঘেরাও করেন। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালিয়ে তাদের ৫টি প্রিজনভ্যানে করে পল্টন ও শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়। এই ঘটনার পর এলাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। ওই ভবনের পাশেই নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের কার্যালয় থাকায় একটি সংবেদনশীল স্থানে এমন গোপন সভা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে এবং এই বৈঠকের নেপথ্যে কোনো নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত সময়ে সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ডভাবে ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় কর্নেল তাহের মিলনায়তনে জড়ো হতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে ভেতর থেকে স্লোগান ভেসে এলে ব্যবসায়ীদের সন্দেহ হয়। তারা দরজা খোলার চেষ্টা করলে ভেতর থেকে বাধা দেওয়া হয় এবং পরে দরজা খুললে চার শতাধিক মানুষের উপস্থিতি দেখে তারা হতবাক হয়ে যান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কিছু লোক সেখান থেকে পালিয়ে গেলেও অনেকেই ভেতরে আটকা পড়েন। খবর পেয়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এবং বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ঘটনাস্থলে এসে ভবনটি ঘিরে ফেলেন এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। জনস্রোতের কারণে পুলিশ বাধ্য হয়ে ওই পাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে বিকল্প পথে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করে। ঘটনাস্থল থেকে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্যকেও আটক করা হয়, যিনি সেখানে পেশাগত দায়িত্ব পালনের দাবি করলেও এর কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি।

এদিকে আটক ব্যক্তিদের পল্টন ও শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে তাদের স্বজন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ভিড় করেন। পল্টন থানায় পর্যাপ্ত স্থান না থাকায় আটকদের বিভিন্ন কক্ষে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাদের পরিচয় ও পূর্বের রেকর্ড যাচাইয়ের জন্য দেশের বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে। যুবদল ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেছেন যে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লোক এনে এই গোপন বৈঠকের মাধ্যমে বড় ধরনের নাশকতার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছিল। পলাতক ফ্যাসিবাদের দোসররা যাতে ঢাকায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করতে না পারে, সেজন্য নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের অনেকের স্বজনরা থানায় এসে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েন এবং আটকদের মুক্তির দাবি জানাতে থাকেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, আটকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং থানায় পাঠানো বার্তার জবাব আসার পর তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে এই ঘটনার সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে জাসদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে এটি কোনো গোপন বৈঠক ছিল না, বরং তাদের একটি পূর্বনির্ধারিত কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা ছিল। জাসদের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন জানান, প্রতিনিধি সভায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় চারশ নেতাকর্মী এসেছিলেন এবং অনুষ্ঠানের নিরাপত্তার জন্য আগেই পুলিশ প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। তাদের অভিযোগ, সভা চলাকালে বিএনপির নেতাকর্মীরা এসে প্রথমে হামলা ও মারধর চালায় এবং পরবর্তীতে পুলিশ এসে তাদের সব নেতাকর্মীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশের পক্ষ থেকে সভার অনুমতির বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া না গেলেও, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে যে পরিস্থিতি ও প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য, বিগত রাজনৈতিক সরকারের অন্যতম সহযোগী এই দলের শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাজার রায় ঘোষণা করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ধরনের বৈঠক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।


আন্তর্জাতিক এমিতে মনোনয়ন পেল ‘হাসিনা: ৩৬ ডেজ ইন জুলাই’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আন্তর্জাতিক এমিতে মনোনয়ন পেল ‘হাসিনা: ৩৬ ডেজ ইন জুলাই’

বাংলাদেশের গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং এর সমসাময়িক ঘটনাবলি নিয়ে নির্মিত আলোচিত প্রামাণ্যচিত্র ‘হাসিনা: ৩৬ ডেজ ইন জুলাই’ মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক এমি অ্যাওয়ার্ডসের জন্য মনোনীত হয়েছে। বিশ্বের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ইনভেস্টিগেটিভ ইউনিট বা আই-ইউনিট এই অনুসন্ধানী তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছে। ‘কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স’ বা সমসাময়িক বিষয়শ্রেণীতে এই চলচ্চিত্রটি এখন বিশ্বমঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, যা দেশের গণমাধ্যম ও চলচ্চিত্র জগতের জন্য একটি অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই প্রামাণ্যচিত্রের প্রধান অনুসন্ধানী সাংবাদিক বা ইনভেস্টিগেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জুলকারনাইন সায়ের খান। আন্তর্জাতিক এই মনোনয়নের খবরটি প্রকাশ পাওয়ার পর তিনি নিজের ভেরিফায়ার্ড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অনুভূতি প্রকাশ করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এই বৈশ্বিক স্বীকৃতি কোনো ব্যক্তিগত সাফল্য নয় বরং এটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশেষ করে আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে লড়াই করা শিক্ষার্থী, সাধারণ শ্রমিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি এই সম্মাননা উৎসর্গ করেন তিনি।

আন্দোলনের সময় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, সেই সকল শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জুলকারনাইন সায়ের খান বলেন, বহু মানুষ চরম ব্যক্তিগত ঝুঁকি মাথায় রেখে তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা ও সাক্ষ্য তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। সাধারণ মানুষের সেই অদম্য সাহস এবং প্রামাণ্যচিত্রটির নির্মাতাদের প্রতি আস্থার কারণেই আজকের এই সত্য ঘটনা বিশ্বদরবারে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। এছাড়া, আল জাজিরার আই-ইউনিটের সহকর্মীসহ পর্দার আড়ালে থেকে যারা এই কাজটি সফল করতে নিরলস পরিশ্রম করেছেন, তাদের সবার প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পটভূমিতে নির্মিত কোনো কনটেন্টের এমন মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। এর আগে ২০০৪ সালে বাংলাদেশি কিশোরদের হাত ধরে নির্মিত এবং একটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচারিত ‘আমরাও পারি’ প্রামাণ্যচিত্রটি বিশেষ ইন্টারন্যাশনাল এমি সম্মাননা অর্জন করেছিল। আগামী ২৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক এমি অ্যাওয়ার্ডসের জমকালো মূল আসরে কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের চূড়ান্ত বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। এই অর্জন আগামী দিনে দেশের তরুণ ও প্রতিভাবান সংবাদকর্মী এবং নির্মাতাদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করার পথ আরও সুগম করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


বোমা আশ্রয়কেন্দ্র থেকে নিউইয়র্ক—সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন ইরানের নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বোমা আশ্রয়কেন্দ্র থেকে নিউইয়র্ক—সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন ইরানের নেতারা

যুদ্ধের দীর্ঘ সাত মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত হওয়ার ঘটনার মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাতের সূচনা হয়েছিল। বর্তমান যুদ্ধাবস্থার মধ্যে এই উচ্চপর্যায়ের সফরকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে তেহরান। গত কয়েকদিন ধরে মার্কিন ও পশ্চিমা প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে তেহরান তাদের কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।

সম্প্রতি নিউইয়র্কে এক বিরল কূটনৈতিক পদক্ষেপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে মিলিত হন। পাশাপাশি তিনি ইউরোপের দশটিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি এবং জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, চলমান সংঘাতে ইরানের সামরিক অভিযানের মুখে পড়া দেশগুলোর মধ্যে জর্ডান অন্যতম হওয়া সত্ত্বেও এই বৈঠকটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এদিকে জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে তেহরান কখনোই বিদেশি শক্তির কাছে নতিস্বীকার করবে না। তাঁর এই কঠোর অবস্থান দেশের ভেতরকার কট্টরপন্থী রাজনৈতিক মহলে ইতিবাচক সাড়া ফেললেও, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের কারণে রক্ষণশীল আইনপ্রণেতাদের একাংশের সমালোচনার মুখেও পড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মার্কিন প্রশাসনের কাছে নতুন একটি সমঝোতার প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানের ওপর থেকে সমস্ত অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে তারা কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনায় বসার পথ উন্মুক্ত করবে। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন যে এই শর্ত বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যদিও শর্তগুলোর সুনির্দিষ্ট বিবরণ এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে যে তেল বিক্রির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং সাম্প্রতিক সময়ে আরোপিত অন্যান্য অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাতিল করাই তেহরানের প্রধান দাবি।

ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো সিনা তৌসি উল্লেখ করেছেন যে নতুন এই প্রস্তাবের মূল বিষয়বস্তু অতীতের চুক্তির সঙ্গে মিল থাকলেও এবার শর্ত পূরণের ক্রম বা কৌশল পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন বিন্যাস অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে কিছু বাস্তব ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে এবং তার পরই কেবল ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের কৌশলগত চাপ হ্রাস করবে। এর আগে গত জুনে হওয়া একটি সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের পুনর্গঠনে বড় অঙ্কের তহবিল প্রদান এবং হরমুজ ব্যবস্থাপনায় ইরানের ভূমিকা মেনে নিতে রাজি হয়েছিল। তবে দুই পক্ষের পারস্পরিক অনাস্থা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে সেই সমঝোতা শেষ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনা চলমান রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের গভীর অবিশ্বাস এবং জটিল শর্তের বেড়াজালে শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে এখনো যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে। এদিকে নিউইয়র্কে ইরানের এই জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতার ঠিক বিপরীতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জাতিসংঘ ভাষণের সময় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের তীব্র প্রতিবাদ এবং ওয়াকআউটের ঘটনা ঘটে। সব মিলিয়ে, চলমান সংঘাতের মধ্যেও তেহরান আলোচনার দরজা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়নি বরং কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।