শেয়ার বাজার

বাগেরহাটে পলিথিনে মোড়ানো শিশুর গলাকাটা মরদেহ, গ্রেপ্তার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাগেরহাটে পলিথিনে মোড়ানো শিশুর গলাকাটা মরদেহ, গ্রেপ্তার ৩

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় সাত বছরের এক শিশুকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার কোদালিয়া ইউনিয়নের কচুড়িয়া মধ্যপাড়া এলাকায় একটি মাছের ঘেরের পাড় থেকে ওই শিশুর পলিথিনে মোড়ানো গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিশুর নাম মুসলিমা, সে স্থানীয় বাসিন্দা ইসলাম শেখের মেয়ে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে বাড়ির আশপাশে সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল শিশু মুসলিমা। হঠাৎ করেই সে নিখোঁজ হয়ে গেলে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তাকে খুঁজতে শুরু করেন। দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সন্ধ্যার পর স্থানীয় একটি মাছের ঘেরের পাড়ে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় শিশুটির মরদেহ দেখতে পান স্বজনেরা। পরে কাছে গিয়ে তার গলাকাটা মরদেহ শনাক্ত করা হয় যা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

প্রিয় সন্তানের এমন করুণ মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা হত্যাকারী সন্দেহে স্থানীয় কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছায়। পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠান।

এই ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা ইসলাম শেখ বাদী হয়ে মোল্লাহাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযানে নামে এবং এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর এবং তার দুই ছেলে রমজান ও আব্দুর রহমান। পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য এবং কারণ উদঘাটনের জন্য নিবিড় তদন্ত চলছে এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর শপথ নেওয়ার পর পুলিশের হাতে আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর শপথ নেওয়ার পর পুলিশের হাতে আটক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে অভিনব কায়দায় শপথ নেওয়া এক ব্যক্তিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আটক করেছে পুলিশ। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর হয়ে ওঠে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে। আটককৃত ব্যক্তির নাম মো. হারুন এবং তাঁর বয়স পঞ্চাশ বছর বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক হারুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী। এর আগে কেরানীগঞ্জের একটি আবাসিক এলাকায় দলীয় কয়েকজন নেতা-কর্মী একত্রিত হয়ে শেখ হাসিনাকে পুনরায় দেশে ফিরিয়ে আনার শপথ গ্রহণ করেন। সেই ঘটনার একটি ভিডিও মুঠোফোনে ধারণ করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হারুন এর আগেও রাজধানীতে দলীয় বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। তিনি গত মে মাসে মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোড এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে নিষিদ্ধ দলটির পক্ষে প্রচারণামূলক বক্তব্য ও পোস্ট দিয়ে আসছিলেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার জুয়েল রানা গণমাধ্যমকে জানান যে মো. হারুনের দলীয় সুনির্দিষ্ট কোনো পদপদবি না থাকলেও তিনি দলটির একজন উগ্র ও সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। শপথ নেওয়ার ঘটনার ভিডিও বিশ্লেষণ করে তাঁকে শনাক্ত করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হবে।


​দোয়ারাবাজারে থামছে না স্বজনদের বিলাপ
ধান কেড়ে নিল কৃষকের প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৪ মে, ২০২৬

ধান কেড়ে নিল কৃষকের প্রাণ

​মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী::  মাঠের ধান রক্ষা করতে গিয়ে রক্তে রঞ্জিত হলো কৃষকের আঙিনা। ঘাম আর শ্রমে বোনা স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত যমদূত হয়ে দেখা দিল জহুর উদ্দিনের জীবনে। দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের সুঁড়িগাঁও গ্রামে এখন বারুদজ্বলা স্তব্ধতা; যেখানে ফসলের মায়ার চেয়ে মানুষের আক্রোশ বড় হয়ে উঠেছে।

গত ​পহেলা মে শুক্রবার সকাল। ভরা বৈশাখে যখন সোনালি ধানে মাঠ ভরে ওঠার কথা, ঠিক তখন তুচ্ছ এক বাকবিতণ্ডায় নিভে গেল ৫ সন্তানের জনক ৫৫ বছর বয়সী জহুর উদ্দিনের জীবনপ্রদীপ। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিজের পরম মমতায় ফলানো ধানি জমিতে প্রতিপক্ষের গরু ঢোকার প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই প্রতিবাদই কাল হলো। প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিজের আবাদি জমির বুকেই লুটিয়ে পড়েন এই নিরপরাধ কৃষক।

​উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দায় যখন জহুর উদ্দিনের নিথর দেহ পড়ে ছিল, তখন স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে হাসপাতালের বাতাসও যেন ভারী হয়ে ওঠে। এক মুঠো ধানের অধিকার কি তবে জীবনের চেয়েও দামি? এই প্রশ্ন এখন সুঁড়িগাঁওয়ের প্রতিটি ঘরে। বিকেলের নিভে আসা আলোয় নিহতের বাড়িতে যে শোকের ছায়া নেমেছে, তা যেন কেবল এক ব্যক্তির মৃত্যু নয়, বরং মানবিকতার এক চরম অপমৃত্যু।

উল্লেখ্য, পহেলা মে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে সুঁড়িগাঁও গ্রামের মৃত হযরত আলীর পুত্র জহুর আলীর জমিতে গরু দিয়ে ধান খাওয়ানো নিয়ে একই গ্রামের কফিল উদ্দিন মাস্টারের পুত্র উজ্জ্বল ও ফয়সাল আহমদের সাথে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জহুর আলীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের বারান্দায় ভাইয়ের নিথর দেহের পাশে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের বোন ও ইউপি সদস্য হোসনে আরা বেগম। গগনবিদারী আর্তনাদে তিনি বলেন, 'এক মুঠো ধানের জন্য আমার ভাইকে এভাবে কুপিয়ে মারল ওরা? ভাই তো শুধু নিজের ফসলটুকু বাঁচাতে চেয়েছিল। আমরা এই রক্তপাতের বিচার চাই, খুনিদের ফাঁসি চাই।' তার এই বুকফাটা হাহাকারে উপস্থিত সবার চোখ ভিজে ওঠে। এক মুঠো ধানের অধিকার কি তবে জীবনের চেয়েও দামি হয়ে উঠল? এই প্রশ্ন এখন সুঁড়িগাঁওয়ের প্রতিটি ঘরে।

নিহতের পুত্র আল আমিন কান্নায় ভেঙে পড়ে বাবার খুনীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চেয়েছেন। গরু দিয়ে ধান খাওয়াতে নিষেধ করাই তার পিতার কাল হয়ে দাঁড়ালো।

​দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

​আইনের খাতায় বিচার হবে, হয়তো সাজাও মিলবে। কিন্তু যে কৃষকের ছোঁয়ায় মাঠের ফসল কথা বলত, সেই চেনা মানুষটি আর কখনো ফিরবে না। হাওরের হাহাকার আর স্বজনদের অশ্রুজলে মিশে রইল কেবল একটিই দীর্ঘশ্বাস— ‘মাঠের ধান মাঠেই রইল, কেবল কৃষকই পরপারে পাড়ি জমালো।


জাতিসংঘে কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার যে প্রতিশ্রুতি দিলেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জাতিসংঘে কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার যে প্রতিশ্রুতি দিলেন তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক রূপরেখা এবং কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্যে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার উঠে আসে। বিশ্বনেতাদের সামনে এটি ছিল বর্তমান সরকারের নীতি নির্ধারণী অবস্থান স্পষ্ট করার একটি বড় সুযোগ।

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, দেশের আপামর জনসাধারণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের জোরালো ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতির কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিশ্বমঞ্চে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ওপর ভিত্তি করে বৈদেশিক সম্পর্ক বজায় রাখার ঘোষণা দেন সরকারপ্রধান। আঞ্চলিক শান্তি রক্ষা ও সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ সবসময় বিশ্ববাসীর পাশে থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। এছাড়া বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাকে আরও কার্যকর ও মানবিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। বিশ্বনেতারা তাঁর এই বক্তব্যে বাংলাদেশের নতুন ভাবমূর্তির প্রতিফলন দেখতে পেয়েছেন বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

জাতিসংঘের এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ দেশের অভ্যন্তরীণ সংস্কার কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরেছে। এই সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করার ক্ষেত্রে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। বিশ্বমঞ্চে এই সফল উপস্থিতি বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।