শেয়ার বাজার

আন্তর্জাতিক এমিতে মনোনয়ন পেল ‘হাসিনা: ৩৬ ডেজ ইন জুলাই’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক এমিতে মনোনয়ন পেল ‘হাসিনা: ৩৬ ডেজ ইন জুলাই’

বাংলাদেশের গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং এর সমসাময়িক ঘটনাবলি নিয়ে নির্মিত আলোচিত প্রামাণ্যচিত্র ‘হাসিনা: ৩৬ ডেজ ইন জুলাই’ মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক এমি অ্যাওয়ার্ডসের জন্য মনোনীত হয়েছে। বিশ্বের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ইনভেস্টিগেটিভ ইউনিট বা আই-ইউনিট এই অনুসন্ধানী তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছে। ‘কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স’ বা সমসাময়িক বিষয়শ্রেণীতে এই চলচ্চিত্রটি এখন বিশ্বমঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, যা দেশের গণমাধ্যম ও চলচ্চিত্র জগতের জন্য একটি অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই প্রামাণ্যচিত্রের প্রধান অনুসন্ধানী সাংবাদিক বা ইনভেস্টিগেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জুলকারনাইন সায়ের খান। আন্তর্জাতিক এই মনোনয়নের খবরটি প্রকাশ পাওয়ার পর তিনি নিজের ভেরিফায়ার্ড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অনুভূতি প্রকাশ করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এই বৈশ্বিক স্বীকৃতি কোনো ব্যক্তিগত সাফল্য নয় বরং এটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশেষ করে আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে লড়াই করা শিক্ষার্থী, সাধারণ শ্রমিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি এই সম্মাননা উৎসর্গ করেন তিনি।

আন্দোলনের সময় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, সেই সকল শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জুলকারনাইন সায়ের খান বলেন, বহু মানুষ চরম ব্যক্তিগত ঝুঁকি মাথায় রেখে তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা ও সাক্ষ্য তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। সাধারণ মানুষের সেই অদম্য সাহস এবং প্রামাণ্যচিত্রটির নির্মাতাদের প্রতি আস্থার কারণেই আজকের এই সত্য ঘটনা বিশ্বদরবারে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। এছাড়া, আল জাজিরার আই-ইউনিটের সহকর্মীসহ পর্দার আড়ালে থেকে যারা এই কাজটি সফল করতে নিরলস পরিশ্রম করেছেন, তাদের সবার প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পটভূমিতে নির্মিত কোনো কনটেন্টের এমন মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। এর আগে ২০০৪ সালে বাংলাদেশি কিশোরদের হাত ধরে নির্মিত এবং একটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচারিত ‘আমরাও পারি’ প্রামাণ্যচিত্রটি বিশেষ ইন্টারন্যাশনাল এমি সম্মাননা অর্জন করেছিল। আগামী ২৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক এমি অ্যাওয়ার্ডসের জমকালো মূল আসরে কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের চূড়ান্ত বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। এই অর্জন আগামী দিনে দেশের তরুণ ও প্রতিভাবান সংবাদকর্মী এবং নির্মাতাদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করার পথ আরও সুগম করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আমরাও একদিন চাঁদে যাবো: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ জুন, ২০২৪

আমরাও একদিন চাঁদে যাবো: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ একদিন চাঁদে যাবে, এমন প্রত্যাশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন প্রজন্মকে সেভাবে জ্ঞান-বিজ্ঞানে দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, ‘একসময় আমাদের চাঁদেও যেতে হবে, চাঁদও জয় করতে হবে। সেই বিজ্ঞানসম্পন্ন জ্ঞানটা যেন আমাদের শিশুরা এখন থেকে পায়, সেজন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৩’ এবং ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৪’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মহাকাশ গবেষণা এবং এ বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ সৃষ্টির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছি, অ্যারোস্পেস এবং অ্যাভিয়েশন ইউনিভার্সিটিও করেছি। অ্যারোনটিক্যাল সেন্টারও করে দিয়েছি। গবেষণা এবং সেই সঙ্গে আমাদের শিশুদের এখন থেকে সেভাবে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।’

শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারের আন্তরিকতা ও উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবসময় আমরা একটা সুষম, জনকল্যাণমুখী, সর্বজনীন, মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা করতে চাই। আর শুধু ওই কেতাবই পড়ে না, ছোট ছোট শিশুদের ভেতরে যে মেধা-মনন সেগুলোও তো আমাদের বের করে আনতে হবে। তাদের সুযোগ দিতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাদের ভেতরে যে একটা কিছু করার ক্ষমতা আছে, সেটা যাতে বিকশিত হয় সেই সুযোগটা সৃষ্টি করা দরকার। আর সেদিকে লক্ষ রেখেই কিন্তু শিক্ষা কারিকুলাম-আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানের মধ্যে নিয়ে এসে স্কুলে কম্পিউটার করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিটি স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব করা। প্রথমে এটা মাধ্যমিক থেকে শুরু করেছিলাম, এখন আমাদের লক্ষ্য প্রাইমারি থেকেই শুরু করে দেবো।’

দুই বছরের জন্য প্রি-প্রাইমারি চালুর কথা জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘প্রি-প্রাইমারি আমরা চালু করেছি। প্রি-প্রাইমারি এক বছরের জন্য, এখন আমরা সেটা দুই বছরের জন্য করতে চাচ্ছি। শুধু পড়াশোনা না, আসবে-যাবে, একসঙ্গে বসবে, বন্ধুদের নিয়ে খেলাধুলা করবে, ওই খেলাধুলার মধ্য থেকেই তাদের ভেতরে যে সুপ্ত মেধাটা আছে, সেই মেধাটা কীভাবে বিকশিত করা যায়, সেই ধরনের ব্যবস্থা আমাদের নিতে হবে। তাহলেই কিন্তু এই ছেলে-মেয়ে, এরাই তো ভবিষ্যৎ আমাদের। সেভাবে আমরা তাদের তৈরি করে দেবো।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকের যুগ হচ্ছে প্রযুক্তির, কাজেই কম্পিউটার শেখা, আমরা যেমন ল্যাব করে দিচ্ছি, ইনকিউবেশন সেন্টারও করে দিচ্ছি। সেভাবে আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন জনগোষ্ঠী আমরা গড়ে তুলতে চাই। সেদিকে লক্ষ রেখেই আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। তাহলে আমাদের স্মার্ট সিটিজেন হবে। স্মার্ট সরকার, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সমাজ। অর্থাৎ প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ জনশক্তি। এই ছোটবেলা থেকে, শিশুকাল থেকে ধীরে ধীরে তারা গড়ে উঠবে, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে। দেশের উন্নয়নে তাদের চিন্তা-ভাবনা, তারা আরও নতুন নতুন উদ্ভাবনী শক্তি দিয়েই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সেটাই আমি চাই।’

আজকের শিশুরা আগামী দিনের কর্ণধার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের শিশু আগামী দিনের নাগরিক। যারা একদিন এ দেশের কর্ণধার হবে। এই শিশুদের মধ্য থেকেই একদিন কেউ প্রধানমন্ত্রী হবে, মন্ত্রী হবে, বড় বড় সরকারি চাকরি করবে, বৈজ্ঞানিক হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজকের শিশুরাই আগামী দিনে স্মার্ট বাংলাদেশের পরিচালক হিসেবে পরিচালনার দায়িত্ব নেবে, সেটাই আমাদের আশা। ২০৪১ সালের মধ্যে হবে স্মার্ট বাংলাদেশ এবং আর ২১০০ সালে ডেল্টা প্ল্যানও করে দিয়েছি। যেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম তারা সুন্দর জীবন পায়, সেটাই আমার লক্ষ্য।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমাদের ছেলে-মেয়েরা শিক্ষাদীক্ষায়, সংস্কৃতি চর্চায়, খেলাধুলা, সবদিকে যেন উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। সেটাই আমরা করতে চাই। তার জন্য যা যা প্রয়োজন সব কিছু আমরা করবো।’

এ বছর ১৮ ক্যাটাগরিতে মোট ১২৬ শিক্ষার্থী, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৩’ প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৫৪ শিক্ষার্থী, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুমানা আলী ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব ফরিদ আহমেদ।


ইসলামাবাদ সমঝোতায় ফিরতে যুক্তরাষ্ট্রকে শি জিনপিংয়ের আহ্বান, ইরানের প্রশংসা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইসলামাবাদ সমঝোতায় ফিরতে যুক্তরাষ্ট্রকে শি জিনপিংয়ের আহ্বান, ইরানের প্রশংসা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাত এড়াতে ঐতিহাসিক ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) ওয়াশিংটনকে পুনরায় ফিরে আসার তাগিদ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানান তিনি। কূটনীত ও সংলাপের মাধ্যমে তেহরান ও ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের বৈরিতা নিরসনের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত উত্তেজনা প্রশমনে বেইজিংয়ের এমন মধ্যস্থতামূলক ভূরাজনৈতিক ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

চীনের শীর্ষ নেতার এমন দায়িত্বশীল ও বিচক্ষণ অবস্থানের প্রতি উষ্ণ অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় তিনি শি জিনপিংয়ের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। তেহরান সবসময়ই সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো আন্তর্জাতিক সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাস করে বলে পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করা এবং অর্থবহ আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য যে, এর আগে এই ইসলামাবাদ এমওইউর কাঠামোর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সশস্ত্র সংঘাত সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা সম্ভব হয়েছিল। পাশাপাশি উভয় পক্ষের মধ্যে পরবর্তী কূটনৈতিক বৈঠকের একটি সুনির্দিষ্ট পথরেখাও তৈরি হয়েছিল এই চুক্তির মাধ্যমে। তবে নানা রাজনৈতিক জটিলতা ও আস্থার সংকটের কারণে সেই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হয়নি এবং দুই দেশের সম্পর্কে ফের অবনতি ঘটেছিল। বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই পুরনো সমঝোতা পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হলে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক অবিশ্বাস দূর করে কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে বসার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান। মার্কিন প্রশাসনের তরফ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, চীনের মধ্যস্থতার ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় সেটাই এখন দেখার বিষয়। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের আন্তর্জাতিক উদ্যোগগুলো দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।


জাতিসংঘে জাইমা রহমানের নিয়োগ: লিগ্যাল অফিসার পদটির কাজ কী?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জাতিসংঘে জাইমা রহমানের নিয়োগ: লিগ্যাল অফিসার পদটির কাজ কী?

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে সম্প্রতি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। এই নিয়োগের ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁর এই অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জাতিসংঘের এই বিশেষ পদে মূলত আন্তর্জাতিক আইন প্রণয়ন, নীতি নির্ধারণী বিষয়ে আইনি সহায়তা প্রদান এবং বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় আইনি জটিলতা নিরসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয়। লিগ্যাল অফিসাররা বিশ্বজুড়ে শান্তি, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা ও আইনি পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যলয় অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এখানকার কর্মকর্তাদের অত্যন্ত উচ্চমানের পেশাগত দক্ষতা ও আইনি জ্ঞানের অধিকারী হতে হয়।

জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থায় এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য প্রার্থীদের অত্যন্ত কঠোর ও প্রতিযোগিতামূলক বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। বিশ্বমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা, আন্তর্জাতিক আইনের ওপর গভীর জ্ঞান এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দীর্ঘ ও সফল কর্মঅভিজ্ঞতার পরই কেবল এই ধরনের পদে কাজের সুযোগ মেলে। ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের এই নিয়োগে তার নিখুঁত পেশাগত যোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে তার দক্ষতারই স্বীকৃতি মিলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে এই পদের দায়িত্ব পালন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ হলেও এটি একই সঙ্গে একটি চ্যালেঞ্জিং পেশাগত ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। বিশ্ব রাজনীতির নানা সমীকরণ এবং আন্তর্জাতিক নানা সংকটের আইনি দিকগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করে এই পদের কর্মকর্তাদের মতামত দিতে হয়। ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের এই সফল কর্মজীবন ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য মেধাবী ও দক্ষ তরুণদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করার ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।