শেয়ার বাজার

১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেট: সর্বনিম্নস্তরে ৬৫ ও সর্বোচ্চস্তরে ২১০ টাকার নতুন খুচরা মূল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেট: সর্বনিম্নস্তরে ৬৫ ও সর্বোচ্চস্তরে ২১০ টাকার নতুন খুচরা মূল্য

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভ্যাট অনুবিভাগ তামাকজাত সিগারেটের নতুন খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে একটি আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করেছে। সম্প্রতি এনবিআরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই আদেশে বাজারে বিক্রi হওয়া ১০ শলাকার সিগারেটের বিভিন্ন স্তরের দাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন এই কাঠামোর আওতায় সর্বনিম্ন স্তরের প্রতি প্যাকেট সিগারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ স্তরের জন্য এই মূল্য রাখা হয়েছে ২১০ টাকা। এছাড়া মধ্যবর্তী স্তরগুলোর জন্যও আলাদা দামের কথা বলা হয়েছে। আইনগত বিধান ও যথাযথ নিয়মনীতি মেনে এনবিআরের সদস্য মো. আজিজুর রহমানের স্বাক্ষরে এই আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।

নতুন নির্ধারিত মূল্য কাঠামো অনুযায়ী, সিগারেটের চারটি স্তরের মধ্যে দ্বিতীয় স্তরে প্রতি ১০ শলাকার মূল্য ৭২ টাকা এবং তৃতীয় স্তরে তা ১৬০ টাকা করা হয়েছে। তবে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, নতুন এই মূল্য বিন্যাসেও প্রতিটি স্তরে সম্পূরক শুল্কের হার অভিন্নভাবে ৬৭ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। গত কিছুদিন আগে প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের নির্দেশনার আলোকে স্থানীয় বাজারে সরবরাহের ক্ষেত্রে এইচএস কোডের এই তামাকপণ্যগুলোর নতুন দাম তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে চলতি বছরের জুন মাসে জারীকৃত পূর্ববর্তী সাধারণ আদেশটি সম্পূর্ণভাবে বাতিল বলে গণ্য করা হবে।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে তামাকপণ্যের ব্যবহারে কিছু সুনির্দিষ্ট কড়াকড়ি আরোপ করেছে রাজস্ব কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে ফ্লেভারিং ক্যাপসুলযুক্ত সিগারেট তরুণ ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে ধূমপানের আকর্ষণ বাড়িয়ে দেওয়ায়, স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এ ধরনের পণ্য মধ্যম স্তরের নিচে অর্থাৎ প্রথম বা দ্বিতীয় নিম্ন স্তরে বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট কোনো ব্র্যান্ডের সিগারেট বাজারে আগে থেকে যে দামে প্রচলিত ছিল, কোনো অবস্থাতেই তার চেয়ে কম মূল্যে তা বিক্রি করা যাবে না। প্রতিটি প্যাকেটের গায়ে শলাকার সঠিক সংখ্যা, নির্ধারিত খুচরা মূল্য এবং পণ্যের প্রকৃতি স্পষ্ট ও স্থায়ীভাবে ছাপানোর কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কারখানায় সঠিক শুল্ক আদায় ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে কঠোর মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি সিগারেট উৎপাদনকারী কারখানায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভ্যাট কর্মকর্তা মোতায়েন করার জন্য সংশ্লিষ্ট মূসক কমিশনারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগের পুরোনো প্যাকেটের ওপর নতুন দামের সিল মেরে বাজারজাত করার সুযোগ রাখা হলেও ব্যান্ডরোলের জটিলতা এড়াতে দ্রুত নতুন মুদ্রিত মোড়ক ব্যবহারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কারখানার সমাপনী মজুদ এবং রাজস্ব হ্রাস-বৃদ্ধির তুলনামূলক হিসাব নির্দিষ্ট ছকে প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে নিয়মিতভাবে এনবিআরে পাঠাতে হবে।

শাশুড়িকে সম্মান না করায় বাবার চড়, ক্ষুব্ধ ছেলের ছুরিকাঘাতে মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শাশুড়িকে সম্মান না করায় বাবার চড়, ক্ষুব্ধ ছেলের ছুরিকাঘাতে মৃত্যু

রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় পারিবারিক এক তুচ্ছ ঘটনার জেরে মর্মান্তিক এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শাশুড়ির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার প্রতিবাদ করায় বাবাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে হাসানুর রহমান নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। নিহত মহুবার রহমানের বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর এবং অভিযুক্ত হাসানুর তার ২২ বছর বয়সী সন্তান। সম্প্রতি রাতে উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের চর তাম্বুলপুর মাস্টারপাড়া এলাকায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। এই আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বেশ কিছুদিন ধরেই হাসানুরের সঙ্গে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সম্পর্কের অবনতি চলছিল। সম্প্রতি তার শাশুড়িসহ কিছু আত্মীয় বাড়িতে এলেও হাসানুর তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেননি এবং যথোচিত সম্মান প্রদর্শন বা আপ্যায়ন করেননি। বিষয়টি নিয়ে পরিবারে অস্বস্তি ও বিরোধ তৈরি হলে বাবা মহুবার রহমান ছেলেকে বুঝিয়ে বলেন এবং শাশুড়িকে সম্মান দেখিয়ে কথা বলতে ও খাবার দিতে বলেন। কিন্তু বাবার এই সাধারণ উপদেশ ও শাসন একেবারেই মেনে নিতে পারেননি ক্ষিপ্ত হাসানুর।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, বাবার কথা অমান্য করায় একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে মহুবার রহমান ছেলেকে একটি থাপ্পড় দেন। এতে চরমভাবে উত্তেজিত হয়ে হাসানুর ঘরে থাকা একটি ধারালো ছুরি তুলে নেন এবং সরাসরি বাবার পেটে আঘাত করেন। ছুরিকাঘাতের ফলে মহুবার রহমানের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পথেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

তাম্বুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বজলুর রশিদ মুকুল জানান, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এর আগেও অভিযুক্ত হাসানুর বিভিন্ন সময়ে তার বাবার গায়ে হাত তুলেছিলেন বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। শুধু তাই নয়, হাসানুরের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তির গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। এদিকে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক জানিয়েছেন, ঘটনার পর পরই পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্ত হাসানুরকে গ্রেফতারে জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


মার্কিন চাপে ইরানের সঙ্গে বিমান চলাচল বন্ধ করল ইরাক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মার্কিন চাপে ইরানের সঙ্গে বিমান চলাচল বন্ধ করল ইরাক

ওয়াশিংটনের কঠোর নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কায় ইরানের সঙ্গে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইরাক। দেশটির প্রধান তিনটি বিমানবন্দরে ইরানি এয়ারলাইনসগুলোর গ্রাউন্ড সার্ভিস বা বিমানজমি সংক্রান্ত সব ধরনের সেবা কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাগদাদ প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদী ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বে নতুন করে বড় ধরনের কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে।

ইরাকের সংসদের প্রভাবশালী ইরানপন্থি রাজনীতিবিদ ও গোষ্ঠীগুলো সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল যেন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকি আমলে নেওয়া না হয়। তা সত্ত্বেও বাগদাদ কর্তৃপক্ষ ওয়াশিংটনের নির্দেশনা বাস্তবায়নের পথ বেছে নেয় এবং স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের সেই আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় দেশের সঙ্গেই বাগদাদের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক থাকায় এই দুই পরাশক্তির বিরোধের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা দেশটির জন্য অত্যন্ত দুরূহ হয়ে উঠেছে।

ইরাক ঐতিহাসিকভাবে বাণিজ্য ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আমদানির জন্য ইরানের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যার মধ্যে প্রধান হলো জ্বালানি গ্যাস। দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি বিরাট অংশ এই ইরানি গ্যাসের ওপর সরাসরি নির্ভর করে থাকে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এই নির্দেশ বাস্তবায়নের জেরে তেহরান কোনো পাল্টা অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তা ইরাকের ভঙ্গুর অর্থনীতিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে বহুমুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ইরাক, যার প্রধান আয়ের উৎস হলো অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম। কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে চলমান অবরোধ ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নানা বাধার কারণে দেশটির প্রধান এই তেল রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সব মিলিয়ে বিশ্ব পরাশক্তিগুলোর এই বৈরী সম্পর্কের জেরে অর্থনৈতিক মারপ্যাঁচে পড়ে চরম অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে ইরাকি পরিস্থিতি।


দাম্পত্যে ভালোবাসা: নবীজির জীবন থেকে ১০ সুন্নত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দাম্পত্যে ভালোবাসা: নবীজির জীবন থেকে ১০ সুন্নত

দাম্পত্য জীবন সুখের ও দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য পারস্পরিক ভালোবাসা এবং তা প্রকাশের বিকল্প নেই। সমাজে অনেক সময় ভুল ধারণা প্রচলিত থাকে যে স্ত্রীর প্রতি গভীর অনুরাগের কথা মনে পুষে রাখাই পুরুষত্ব বা ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক। অথচ ইসলাম ধর্মের সোনালী ইতিহাসে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ সা.-এর জীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি জীবনসঙ্গীর প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রকাশের ক্ষেত্রে ছিলেন সম্পূর্ণ মুক্ত ও অকপট।

ইসলাম ধর্মে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ককে অত্যন্ত পবিত্র এবং মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। মহানবী সা. শুধু নিজ পরিবারে ভালোবাসার চর্চাই করেননি, বরং তার উম্মতদের জন্যও উত্তম নমুনা রেখে গেছেন। প্রিয়তমা স্ত্রীর সঙ্গে কোমল আচরণ করা, তাদের ছোটোখাটো চাওয়া-পাওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সুখে-দুঃখে পাশে থাকা ছিল তার প্রতিদিনের অভ্যাসের অংশ।

নবীজির সুন্নতের মধ্যে এমন বহু সুন্দর দৃষ্টান্ত রয়েছে যা বর্তমান সময়ের দাম্পত্য কলহ ও দূরত্ব দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। স্ত্রীর সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা, সুস্বাদু খাবারে অংশীদার হওয়া কিংবা একসঙ্গে সময় কাটানোর মতো ছোট ছোট বিষয়গুলোকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। এই আচার-ব্যবহারগুলো প্রমাণ করে যে পারিবারিক জীবনে বিনয় ও ভালোবাসার প্রকাশ দুর্বলতা নয়, বরং সুমহান চরিত্রের লক্ষণ।

আজকের আধুনিক যান্ত্রিক জীবনে অনেক দম্পতির মধ্যে মানসিক দূরত্ব তৈরি হচ্ছে, যার মূল কারণ যথাযথভাবে অনুভূতি প্রকাশ না করা। মহানবী সা.-এর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে সম্পর্কের মাঝে মাধুর্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব। পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বাস এবং ভালোবাসার সঠিক বহিঃপ্রকাশই একটি পরিবারকে স্বর্গীয় সুখে পরিপূর্ণ করে তুলতে পারে।