শেয়ার বাজার

মশা: ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ যে ৫ টি মশাবাহিত রোগ বাংলাদেশে ছড়ায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩

মশা: ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ যে ৫ টি মশাবাহিত রোগ বাংলাদেশে ছড়ায়

পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার প্রজাতির মশা রয়েছে, এর মধ্যে মাত্র ১০০ টির মত প্রজাতি রোগ ছড়ায়। এখনো পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে মশা থেকে ২০টির মত রোগ ছড়ায়। পুরো পৃথিবীতে কীটপতঙ্গের আক্রমণে প্রতিবছর যত মানুষ মারা যান, তাদের মধ্যে মশাবাহিত রোগে মারা যান সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ। মশাবাহিত রোগ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে প্রতিবছর ২০শে অগাস্ট পালিত হয় বিশ্ব মশা দিবস।

বাংলাদেশের মশা

কীটতত্ত্ববিদ এবং গবেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১২৩ প্রজাতির মশার খোঁজ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঢাকাতেই ১৪টি প্রজাতির মশা পাওয়া যায়।কীটতত্ত্ববিদ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বিবিসিকে বলেছেন, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মশাবাহিত পাঁচটি রোগের কথা জানা যায়।

এর মধ্যে রয়েছে ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া এবং জাপানিজ এনসেফালাইটিস।

ম্যালেরিয়া

স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণু ছড়ায়। বাংলাদেশে মোট ৩৬ প্রজাতির অ্যানোফিলিস মশা দেখা যায়, এদের মধ্যে সাতটি প্রজাতি বাংলাদেশে ম্যালেরিয়া রোগ ছড়ায়।

অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেছেন, এই সাত প্রজাতির মধ্যে চারটি প্রজাতি ম্যালেরিয়ার প্রধান বাহক বাংলাদেশে।

এই মূহুর্তে বাংলাদেশের ১৩টি জেলার ৭২টি থানায় ম্যালেরিয়া রোগের উপস্থিতি রয়েছে। মূলত পার্বত্য ও সীমান্ত এলাকাতেই ম্যালেরিয়া বেশি দেখা যায়। এটি গ্রীষ্মকালে হয়।

২০০৮ সালে বাংলাদেশে প্রায় ৮৫ হাজার মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন, মারা যান ১৫৪ জন। পরে এ সংখ্যা কমে আসে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. আফসানা আলমগীর খান‌ বিবিসিকে বলেছেন, এখন ম্যালেরিয়া প্রকোপের ৯০ শতাংশের বেশি হয় দেশে তিন পার্বত্য জেলায়। তিনি জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে ম্যালেরিয়া নির্মূলের পরিকল্পনা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কাজ করছে।

ফাইলেরিয়া

কিউলেক্স মশার দুটি প্রজাতি এবং ম্যানসোনিয়া মশার একটি প্রজাতির মাধ্যমে বাংলাদেশে ফাইলেরিয়া রোগ ছডায়।

ফাইলেরিয়া রোগে মানুষের হাত-পা ও অন্যান্য অঙ্গ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠে। একে স্থানীয়ভাবে গোদ রোগও বলা হয়।

বাংলাদেশের ৩৪টি জেলায় ফাইলেরিয়া আক্রান্ত রোগী দেখা যায়।

ডেঙ্গু

এডিস মশার দুইটি প্রজাতি- এডিস ইজিপ্টি এবং অ্যালবোপিকটাস, মূলত ডেঙ্গু ভাইরাসের জীবাণু ছড়ায়।

এডিস মশা পাত্রে জমা পরিষ্কার পানিতে জন্মায়। সাধারণত বর্ষাকালে এর ঘনত্ব বেশি হয়, ফলে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাবও এ সময়ে বেড়ে যায়।

কিন্তু বাংলাদেশে চলতি বছর করোনাভাইরাস মহামারির পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ অনেকগুন বেড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জানুয়ারি থেকে ১৭ই অগাস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৬,৬৫০ জন মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

ডেঙ্গু জ্বরে সাধারণত তীব্র জ্বর ও সেই সঙ্গে সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা হয়ে থাকে।

তীব্র পেটে ব্যথাও হতে পারে। শরীরে বিশেষ করে মাংসপেশীতে তীব্র ব্যথা হয়। জ্বরের ৪/৫ দিন পার হলে শরীরজুড়ে র‌্যাশ বা ঘামাচির মত লালচে দানা দেখা দেয়।

সাথে বমি ভাব, এমনকি বমিও হতে পারে।

ডেঙ্গু গুরুতর হলে রক্তে প্লাটিলেট কমে যায়, চোখের কোনা, দাঁতের মাড়ি বা নাক থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে।

ডা. আফসানা আলমগীর খান‌ বলেছেন, বাংলাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর প্রধাণ কারণ হচ্ছে আক্রান্ত হবার পর পরিস্থিতি খারাপ না হওয়া পর্যন্ত লোকে ডাক্তারের কাছে যায় না।

তিনি বলেন, লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা মাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সথে রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ খেয়াল রাখতে হবে।

চিকুনগুনিয়া

চিকুনগুনিয়া রোগও এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। ২০০৮ সালে বাংলাদেশে প্রথম চিকুনগুনিয়া ধরা পড়ে।

চিকুনগুনিয়া জ্বরের লক্ষণ সাধারণ ভাইরাল ফিভারের মত।

তবে মাথাব্যথা, বমি ভাব, দুর্বলতা, সর্দি-কাশি, এবং র‌্যাশের সঙ্গে শরীরে হাড়ের জয়েন্ট বা সংযোগস্থলে তীব্র ব্যথা হয়।

চিকুনগুনিয়া হলে অধিকাংশ সময় তিন থেকে চার দিনের মধ্যে জ্বর সেরে যায়। কিন্তু হাড়ের সংযোগস্থলগুলোতে হওয়া ব্যথা কারো কারো ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ভোগায়।

জাপানিজ এনসেফালাইটিস

অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলছেন, জাপানিজ এনসেফালাইটিস রোগটি কিউলেক্স মশার মাধ্যমে ছড়ায়।

১৯৭৭ সালে মধুপুর বন এলাকায় প্রথম জাপানিজ এনসেফালাইটিস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন।

এরপর বিভিন্ন সময়ে রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রাম এবং খুলনা অঞ্চলে এই রোগটি পাওয়া যায়।

অধ্যাপক বাশার বলছেন, বাংলাদেশে মশাবাহিত এই পাঁচ ধরণের রোগই মূলত দেখা যায়।

তবে কয়েক বছর আগে বাংলাদেশে জিকা ভাইরাস আক্রান্ত দুইজন রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন।

এরপর গত কয়েক বছরে আর জিকা ভাইরাস আক্রান্ত কাউকে শনাক্তের কথা শোনা যায়নি।

ফলে বাংলাদেশে এর অস্তিত্ব আছে বলে তিনি মনে করেন না।

কীভাবে মশাবাহিত রোগ থেকে সুস্থ থাকবেন

মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হবার আগেই সতর্ক হবার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ আক্রান্ত হবার পর সঠিক সময়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হলে মৃত্যুসহ নানা ধরণের জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ডা. আফসানা আলমগীর খান এবং অধ্যাপক কবিরুল বাশারের পরামর্শ অনুযায়ী মশাবাহিত রোগ থেকে সুস্থ থাকার কয়েকটি উপায় বলছেন, যা এরকম

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার এই দুইটি রোগের জন্যই দায়ী এডিস মশা সাধারণত সকালের দিকে এবং সন্ধ্যার আগে এডিস কামড়ায়। ফলে এই দুই সময়ে ঘরের দরজা জানালা বন্ধ রাখতে হবে

ঘুমানোর সময় মশারি খাটিয়ে ঘুমাতে হবে

বাড়ির ছাদে বা বারান্দার ফুলের টবে, নির্মাণাধীন ভবনে, বাতিল টায়ার কিংবা প্লাস্টিক কন্টেইনার- কোথাও যাতে তিন থেকে পাঁচদিনের বেশি পানি জমা না থাকে, সে ব্যবস্থা করতে হবে

মশার কামড় থেকে বাঁচতে নানা ধরণের রিপেলেন্ট অর্থাৎ মশা তাড়ানোর পণ্য যেমন বিভিন্ন ধরণের কয়েল, স্প্রে, ক্রিম জাতীয় পণ্য ব্যবহার করা, তবে এর মাত্রা ও প্রয়োগ সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।

এগুলো সবই মশাবাহিত কোন রোগে আক্রান্ত হবার আগের সতর্কতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরাণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা নিতে হবে।

মশা তাড়ানোর প্রাকৃতিক পদ্ধতি

বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করেন মশা তাড়াতে কয়েল বা স্প্রে ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক উপায় চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে।

তবে ঢাকায় মশার সংখ্যা যেভাবে বেড়েছে তাতে এসব কায়দা কতটা খাটবে সে আশংকাও রয়েছে।

অনেক বছর ধরে মশা তাড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে এমন কয়েকটি প্রাকৃতিক পদ্ধতি নিচে বর্ণনা করা হলো:

নিমে মশা তাড়ানোর বিশেষ গুণ রয়েছে। প্রাচীনকালে মশা তাড়াতে নিমের তেল ব্যবহার করা হত। ত্বকে নিম তেল লাগিয়ে নিলে মশা ধারে-কাছেও ভিড়বে না বলে প্রচলিত।

বলা হয়ে থাকে মশা কর্পূরের গন্ধ সহ্য করতে পারে না। ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে কর্পূর দিয়ে রাখলে মশা পালিয়ে যায়।

লেবু আর লবঙ্গ একসঙ্গে রেখে দিলে ঘরে মশা থাকে না বলে প্রচলিত আছে। এগুলো জানালায় রাখলে মশা ঘরে ঢুকতে পারবে না

ব্যবহৃত চা পাতা ফেলে না দিয়ে রোদে শুকিয়ে সেটা জ্বালালে চা পাতার ধোঁয়ায় ঘরের সব মশা-মাছি পালিয়ে যাবে। কিন্তু এতে শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি হবে না।

মশা নিয়ে কয়েকটি মজার তথ্য

  • একটি মশা সেকেন্ডে প্রায় ৩০০-৬০০ বার ডানা ঝাপটায়, মশা ওড়ার সময় এই ডানা ঝাপটানোর শব্দই শুনি আমরা
  • কেবলমাত্র স্ত্রী মশাই মানুষকে কামড়ায়, পুরুষ মশা নয়।
  • মশা ঘণ্টায় প্রায় দেড় মাইল বেগে উড়তে পারে
  • ডিম ফুটে বের হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই মশা মানুষকে কামড়ে রক্ত শুষে নেয়
  • মশা স্তন্যপায়ী প্রাণীকে কামড়ানোর পাশাপাশি পাখি ও সরীসৃপের শরীরেও হুল ফোটায়
  • মশা তার নিজের ওজনের তিনগুণ রক্ত শুষে নিতে পারে

চলতি বছর নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত পাঁচজনই মারা গেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪

চলতি বছর নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত পাঁচজনই মারা গেছেন

চলতি বছর ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত দেশে নিপাহ ভাইরাসে পাঁচজন আক্রান্ত হয়েছেন এবং পাঁচজনই মারা গেছেন। অর্থাৎ ২০২৪ সালে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু শতভাগ। অন্যদিকে ২০২৩ সালে নিপাহ ভাইরাসে ১৩ জন আক্রান্ত হয়ে মারা যান ১০ জন। এতে ওই বছর এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুহার ছিল ৭৭ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর মহাখালীতে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) আয়োজিত নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার এবং ঝুঁকি বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।

সভায় আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার এবং ঝুঁকিবিষয়ক একটি তথ্যনির্ভর উপস্থাপনা তুলে ধরেন।

সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, এ বছর আক্রান্ত পাঁচজনের মাঝে দুজন শিশুসহ চারজন পুরুষ ও একজন নারী। এদের মধ্যে দুইজন মানিকগঞ্জের বাসিন্দা। বাকি তিনজনের বাড়ি খুলনা, শরীয়তপুর ও নওগাঁয়।

বক্তারা বলেন, খেজুরের কাঁচা রস থেকে নিপাহ ভাইরাস মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়। শীতকালে খেজুরের রস খাওয়ার সুযোগ থাকে। আর এই নিপাহ ভাইরাস এ কারণে এ সময়েই ছড়ায় বেশি। নিপাহ একটি মারাত্মক রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস। নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রায় ৭১ শতাংশ রোগীই মারা যান। তাই প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকতে মানুষকে সাবধান হতে হবে।


পটুয়াখালীর মহিপুর মৎস্যবন্দরে প্রায় দুই কেজি ওজনের একটি ইলিশ বিক্রি হলো সাড়ে ছয় হাজার টাকায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পটুয়াখালীর মহিপুর মৎস্যবন্দরে প্রায় দুই কেজি ওজনের একটি ইলিশ বিক্রি হলো সাড়ে ছয় হাজার টাকায়

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর মৎস্যবন্দরে প্রায় দুই কেজি ওজনের একটি বিশাল আকারের ইলিশ মাছ চড়া দামে বিক্রি হয়েছে। সম্প্রতি পায়রা বন্দরের শেষ বয়ায় একটি মাছ ধরার ট্রলারে মাছটি ধরা পড়ে। আসাদুল ইসলাম নামের এক মাঝি বিক্রির জন্য মাছটি মহিপুর বাজারে নিয়ে আসেন।

জেলেরা জানিয়েছেন, এফবি জুনাইদ নামের ট্রলারটিতে মাছটি ধরা পড়ার পর মহিপুরের মায়ের দোয়া মৎস্য আড়তে আনা হয়। প্রায় ১ কেজি ৯০০ গ্রাম ওজনের এই ইলিশটি সাড়ে তিন হাজার টাকা কেজি দরে ক্রয় করেন সৌরভ নামের এক ক্রেতা। সব মিলিয়ে মাছটির দাম পড়েছে ৬ হাজার ৬৫০ টাকা।

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী কাওসার হোসেন জানান, দুই কেজির কাছাকাছি ওজনের ইলিশ বাজারে সচরাচর দেখা যায় না। এমন বড় আকৃতির মাছ বাজারে আসায় ক্রেতাদের মধ্যে বেশ কৌতূহল ও আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন নবী উল্লেখ করেন, সমুদ্রে পর্যাপ্ত খাবার ও অনুকূল পরিবেশ থাকলে ইলিশের বৃদ্ধি দ্রুত ঘটে। এছাড়া বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়ার ঘটনা সামুদ্রিক ইলিশের প্রজনন ও বৃদ্ধির ধারাবাহিকতার ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে।

গবেষকরা মনে করেন, বড় আকারের ইলিশের উপস্থিতি মৎস্যসম্পদের ভালো অবস্থার ইঙ্গিত দিলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়নে নিয়মিত বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন। পাশাপাশি ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও মৎস্য ব্যবস্থাপনার নিয়মগুলো কঠোরভাবে মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।


গুজরাটের ইলিশ বাংলাদেশে আমদানির পর স্বাদের মান নিয়ে ক্রেতাদের অসন্তোষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গুজরাটের ইলিশ বাংলাদেশে আমদানির পর স্বাদের মান নিয়ে ক্রেতাদের অসন্তোষ

সম্প্রতি ভারতের গুজরাটের নর্মদা অঞ্চল থেকে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা এই মাছগুলো আসল পদ্মার ইলিশ হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করছিলেন। স্থানীয় বাজার থেকে এমন কিছু মাছ কিনে রান্নার সময় সেগুলোর গুণগত মান ও ভিন্নরূপ নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে সংশয়ের সৃষ্টি হয়। বাজারে সস্তা ও বড় আকারের এই মাছ পেয়ে অনেক ভোজনরসিক ক্রেতা বিভ্রান্তির শিকার হন।

চলতি মৌসুমে বাজার থেকে ইলিশ কিনে বিপাকে পড়া নারায়ণ চন্দ্র নামের এক ক্রেতা জানান, গরম তেলে ছাড়ার পর মাছের টুকরোগুলো ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যায়। বাংলাদেশের বিখ্যাত পদ্মার ইলিশের মতো এর কোনো স্বাদ বা সুবাস পাওয়া যায়নি বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ঢাকার এক মাছ ব্যবসায়ী জানান, বিক্রেতাদের ছড়ানো গুজবের কারণেই সাধারণ মানুষ প্রলোভনে পড়ে এই মাছগুলো কিনেছিলেন। আকারে বড় ও দামে কিছুটা সস্তা হলেও গুজরাটের এই ইলিশ দেশীয় ইলিশের স্বাদের ধারেকাছেও নেই।

চাঁদপুরের বাসিন্দা আলমগীর পাটোয়ারি জানান, গুজরাটের ইলিশ দেখতে অনেকটা সাগরের মাছের মতো এবং এতে দেশি ইলিশের পরিচিত মিষ্টতা অনুপস্থিত। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার এবং ১০৩টি অনাপত্তিপত্র বাতিল করা হয়। তবে বাংলাদেশ মেরিন ফিশারি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবিদ হোসেন দাবি করেন যে, আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অবৈধ চোরাই পথে এখনো বাজারে গুজরাটের ইলিশ প্রবেশ করছে।

বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের মতে, সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে প্রথম দেখায় আসল ও নকল ইলিশের পার্থক্য বোঝা বেশ কঠিন। দীর্ঘদিন এই খাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা দেখলেই এই মাছ শনাক্ত করতে পারেন। কাঙ্ক্ষিত স্বাদ না পাওয়ায় নারায়ণ চন্দ্রের মতো অনেক ক্রেতা বাধ্য হয়ে সেই মাছ দিয়ে ভিন্ন পদের রান্না করতে বাধ্য হয়েছেন। দেশীয় ইলিশের ঐতিহ্যবাহী সুবাস ও স্বাদ না থাকায় বাজারে গুজরাটের ইলিশের উপস্থিতি নিয়ে ভোজনরসিকদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অসন্তোষ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।