শেয়ার বাজার

ইসরায়েলে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর হুমকি ইরানের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৪

ইসরায়েলে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর হুমকি ইরানের

বার্তাবেলা ডেস্ক: সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের একটি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে পাঁচ সদস্যকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। সিরিয়ায় নিযুক্ত ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের ইন্টেলিজেন্স প্রধান নিহত হয়েছেন। তাছাড়া হামলায় তার দুই সহকারী ও অন্য দুই গার্ডও নিহত হয়েছেন।

এই ঘটনায় প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তেহরান। ইসরায়েলের ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সিরিয়ার বেশ কয়েকজন সেনা সদস্যও নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ওই হামলার দায় স্বীকার করেনি ইসরায়েল।

এদিকে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস এবং ইসলামি জিহাদ। শনিবার এক বিবৃতি প্রকাশ করে হামাস জানিয়েছে, দামেস্কের মাজ্জে এলাকার একটি আবাসিক ভবনে হামলা চালিয়ে ইসরায়েল সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে।

এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলায় আরেকবার প্রমাণিত হয়েছে যে, নাৎসিবাদী ইসরায়েল সরকার মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য ভয়ঙ্কর হুমকি হয়ে উঠেছে।

ইসলামি জিহাদ আন্দোলন পৃথক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েল সরকার গাজা উপত্যকায় নিজেদের ব্যর্থতা ধামাচাপা দিতে এবং বিশ্ব জনমতকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সিরিয়ায় আগ্রাসন চালিয়েছে।

ইসলামি জিহাদের ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ ধরনের হামলা চালিয়ে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির ইসরায়েল বিরোধী মনোভাব বন্ধ করা যাবে না। ফিলিস্তিনিদের প্রতি সিরিয়া যে সমর্থন দিচ্ছে তাতেও পরিবর্তন আনা যাবে না।

হামাস ও ইসলামি জিহাদ উভয়ের বিবৃতিতে দামেস্কে ইরানি বিপ্লব গার্ডের নিহত পাঁচ সদস্য এবং ইরানি জাতির প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।

শনিবার বিকেলে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি জানায়, দামেস্কে ইরানের পাঁচ সামরিক উপদেষ্টা ইসরায়েলের গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন।

দামেস্কের মেজ্জা এলাকার একটি তিন তলা বাড়িতে ওই হামলা চালানো হয়। মেজ্জা এলাকায় বেশ কয়েকটি দেশের কূটনৈতিক মিশন রয়েছে। ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই সিরিয়ার ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। আইআরজিসির বিবৃতিতে দামেস্কে নিহত সেনা উপদেষ্টাদের নাম জানানো হয়েছে। তারা হলেন, হুজ্জাতুল্লাহ ওমিদভার, আলী আগাযাদে, হোসেইন মোহাম্মাদি, সাঈদ কারিমি এবং মোহাম্মাদ আমিন সামাদি।

গত ২৫ ডিসেম্বর সিরিয়ায় ইসরায়েলের গুপ্তহত্যার শিকার হন ইরানের কুদস ফোর্সের শীর্ষ পর্যায়ের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইয়্যেদ রাজি মুসাভি। এর কিছুদিনের মধ্যেই এই হামলা চালানো হলো।


সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানপন্থি ১৮ যোদ্ধা নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানপন্থি ১৮ যোদ্ধা নিহত

বার্তাবেলা ডেস্ক: সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় কমপক্ষে ১৮ জন ইরানপন্থি যোদ্ধা নিহত হয়েছে। যুদ্ধ পর্যবেক্ষণ বিষয়ক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে স্থানীয় সময় শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এক বিবৃতিতে ইরাক ও সিরিয়ায় ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। খবর-এএফপির। 

মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এবং তেহরান-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা চালানোর পরপরই পর্যবেক্ষক সংস্থাটি জানিয়েছে, সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে বিমান হামলায় কমপক্ষে ১৮ ইরানপন্থী যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে পাঁচজন নিহত হয়েছেন দেইর এজ্জোর এলাকায়।

এদিকে ইরাক ও সিরিয়ায় ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি তেহরান। ধারণা করা হচ্ছে, এসব হামলার কারণে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেসব খতিয়ে দেখছে তারা।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল যে, তারা ইরানের বিপ্লবী গার্ডের কুদস বাহিনীসহ ৮৫টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এসব স্থান ইরানের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কুদস ফোর্স ইরান সমর্থিত কোনো আধাসামরিক গোষ্ঠী নয়, এটি সরাসরি ইরানি সেনাবাহিনীর একটি অফিসিয়াল শাখা।


তাই এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষভাবে বলছে যে, তারা ইরাক ও সিরিয়ায় বা ওই সীমান্তে ইরানি সেনাবাহিনীকে টার্গেট করেছে যা বেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই ঘটনায় ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এছাড়া হামলায় অংশ নেওয়া যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসে হামলা চালিয়েছে এবং এটাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলা যায়। কারণ অনেকদিন ধরেই এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানের সামরিক সম্পদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে তেহরান।

আরও পড়ুন: ইরাক ও সিরিয়ায় ইরানের ৮৫ স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

গত রোববার (২৮ জানুয়ারি) জর্ডানে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় তিন সেনা নিহত হন। জর্ডানে ওই হামলার জন্য ইরান–সমর্থিত একটি সশস্ত্র গ্রুপকে দায়ী করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলায় তিনজন নিহত ছাড়াও আহত হন আরও ২৫ জন সেনা সদস্য। ওই হামলার কঠোর প্রতিশোধ হিসেবেই ইরাক ও সিরিয়ায় ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালালো যুক্তরাষ্ট্র।


সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার জরিমানা আদালতের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি, ২০২৪

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার জরিমানা আদালতের

লেখক ই জেন ক্যারলের করা মানহানি মামলায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জরিমানা করেছেন আদালত। শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) নিউইয়র্কের একটি জুরি ক্যারলকে ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে ট্রাম্পকে নির্দেশ দেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তে ক্যারল খুশি হলেও ট্রাম্প চটেছেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই খবর জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার এই মামলায় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার কথা থাকলেও বিচারকের সঙ্গে ট্রাম্পের বাকবিতণ্ডা এবং ট্রাম্পকে তার সাক্ষ্যদানের সময় কী বিষয়ে কথা বলতে দেওয়া হবে তা ঠিক করতেই অনেক সময় ব্যয় করেন বিচারক ও আইনজীবীরা। পরে এই মামলার শুনানি একদিন পিছিয়ে শুক্রবার নির্ধারণ করা হয়। ওইদিনের শুনানিতে ট্রাম্পকে জরিমানা করেন

শুক্রবার বিকেলে এ রায়ে পৌঁছাতে সাতজন পুরুষ ও দুইজন নারীর একটি জুরি তিন ঘণ্টারও কম সময় নেন।


২০১৯ সালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের মামলায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ৫০ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়। তখন ট্রাম্প নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ক্যারলকে মিথ্যাবাদী বলেন। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে মানহানি হয়েছে দাবি করে সাবেক এই প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন ক্যারল।  মানহানির ওই মামলায় আবারও জরিমানা গুণতে হচ্ছে ট্রাম্পকে।

শুক্রবারের রায়ের পরে এক বিবৃতিতে ক্যারল বলেছেন, ‘এটি প্রতিটি নারীর জন্য একটি বিজয় যারা ছিটকে পড়ার পরও ওঠে দাঁড়ায় এবং  প্রতিটি নিপীড়কের জন্য একটি বিশাল পরাজয় যারা একজন নারীকে ছোট করার চেষ্টা করেছে।’

আরও পড়ুন: গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা বন্ধের নির্দেশ আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের

এদিকে, সর্বশেষ এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প। মামলাটিকে একটি ‘উইচ হান্ট’ এবং রায়টিকে ‘নিতান্তই হাস্যকর!’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।


একাধিক মামলা এবং চারটি ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন ট্রাম্প। এতদসত্ত্বেও চলতি সপ্তাহের শুরুতে নিউ হ্যাম্পশায়ারে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন তিনি। সম্প্রতি, আইওয়া ককাসেও জিতেছেন।



ইরানের সঙ্গে কতক্ষণ টিকতে পারবে ইসরায়েল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬ এপ্রিল, ২০২৪

ইরানের সঙ্গে কতক্ষণ টিকতে পারবে ইসরায়েল

গাজা যুদ্ধ ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে গত সোমবার সিরিয়ায় একটি ইরানি দূতাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল। ইসরায়েলি এই হামলার সমুচিত জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে পাল্টা হামলার প্রস্তুতি শুরু করেছে ইরান। ফলে ইরানের সামনে ইসরায়েল কতক্ষণ টিকবে তা নিয়ে চলছে নানা সমীকরণ।

গত কয়েক বছর ধরে ইরান ও ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা বেশ বেড়েছে। সম্প্রতি ইরান সামরিক প্রযুক্তির দিকে মনোনিবেশ করেছে। গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের তথ্যমতে, ১৪৫টি দেশের মধ্যে ইরান ১৪তম আর ইসরায়েল ১৭তম অবস্থানে রয়েছে। ওয়েবসাইটের তথ্যমতে দুই দেশের মধ্যকার সামরিক সক্ষমতার তথ্য তুলে ধরা হলো।

ওয়েবসাইটের তথ্যানুসারে, ইরানের ৬ লাখ ১০ হাজার নিয়মিত সেনা রয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের রয়েছে এক লাভ ৭০ হাজার সেনা। তবে রিজার্ভ সেনার দিক দিয়ে আগায়ে রয়েছে ইসরায়েলের। তাদের সেনা হচ্ছে চার লাখ ৬৫ হাজার। অন্যদিকে ইরানের রিজার্ভ সেনা হলো তিন লাখ ৫০ হাজার।

আধাসামরিক বাহিনীর দিক দিয়ে আগায়ে রয়েছে ইরান। দেশটিতে ২ লাখ ২০ হাজার আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের রয়েছে মাত্র ৩৫ হাজার সেনা।

সামরিক উড়োজাহাজের দিক দিয়ে আগায়ে রয়েছে ইসরায়েল। দেশটির ৬১২টি সামরিক উড়োজাহাজ রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের সামরিক উড়োজাহাজের সংখ্যা ৫৫১টি। যুদ্ধবিমানের দিক দিয়েও আগায়ে ইসরায়েল। দেশটির ২৪১টি যুদ্ধবিমান রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের ১১৬টি যুদ্ধবিমান রয়েছে।

হামলায় ব্যবহৃত যুদ্ধবিমান ইসরায়েলের ৩৯টি আর ইরানের রয়েছে ২৩টি। অন্যদিকে পরিবহন উড়োজাহাজে এগিয়ে রয়েছে ইরান। দেশটির ৮৬টি আর অন্যদিকে ইসরায়েলের রয়েছে ১২টি।

হেলিকপ্টারের দিক দিয়েও এগিয়ে রয়েছে ইসরায়েল। দেশটির ১৪৬টি হেলিকপ্টার রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের বহরে রয়েছে ১২৯টি হেলিকপ্টার। এ ছাড়া ইরানের ট্যাংক রয়েছে এক হাজার ৯৯৬টি। অন্যদিকে ইসরায়েলের রয়েছে এক হাজার ৩৭০টি।

সাঁজোয়া যানেও এগিয়ে রয়েছে ইরান। দেশটির ৬৫ হাজার ৭৬৫টি সাঁজোয়া যান রয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের রয়েছে ৪৩ হাজার ৪০৩টি। এ ছাড়া সাবমেরিন রয়েছে ইরানের ১৯টি। অন্যদিকে ইসরায়েলের রয়েছে মাত্র ৫টি।