ইতিহাসের আব্বাসী খেলাফত যুগে উমাইয়া আমলের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে কৃষি ও সেচ ব্যবস্থাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়। অনাবাদি জমি আবাদের আওতায় আনতে এবং প্রধান শহরগুলোতে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সে সময় ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফোরাত নদীর পানি নিয়ন্ত্রণ ও শাখা খালের মাধ্যমে তা বহুদূর ছড়িয়ে দিতে একাধিক বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। এর ফলে পশ্চিম সাহারার উত্তরাঞ্চল থেকে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সেচ প্রদান ও চাষাবাদ করা সম্ভব হয়েছিল।
রাজধানী বাগদাদ ও এর আশপাশের অঞ্চলে পানি সরবরাহের জন্য একাধিক বাঁধ ও খালের এক বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়। দজলা নদী থেকে নাহরাওয়ান খাল ব্যবস্থার সংযোগ ঘটিয়ে কৃত্রিম পানিপ্রবাহের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এছাড়া দামেস্ক ও সামাররার মতো অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ খাল এবং জলচক্র বা নরিয়ার সাহায্যে পানি সংগ্রহ করে তা বাগান ও পুকুরে পৌঁছানো হতো। রাস্তাঘাট ও বাসাবাড়িতে পানি বণ্টনের পরিমাণ নির্ধারণে অনুপাত ও পাটিগণিতের প্রয়োগ করা হতো এবং তা কঠোরভাবে তদারক করা হতো।
কৃষিখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে খলিফারা উদ্ভিদের ধরন ও মাটির উপযোগিতা নিয়ে গবেষণা শুরু করেন এবং কৃষকদের করের হার কমিয়ে দেন। ব্যাবিলন, শাম ও মিসরের প্রাচীন কৃষি পদ্ধতি এবং গ্রিক উদ্ভিদবিদ্যার গ্রন্থ আরবিতে অনুবাদের মাধ্যমে কৃষিতে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও কৌশল প্রয়োগ করা হয়। ভারত থেকে আখ এনে তা বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া ছাড়াও কফিকে মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তোলা হয়েছিল। আন্দালুসিয়া ও সিসিলির মতো অঞ্চলে তুলা, আখ ও বিভিন্ন ফলমূলের চাষ ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছিল।
মুসলিম শাসনামলে আন্দালুসে বা স্পেনে কৃষি ও সেচব্যবস্থার সবচেয়ে সুসংগঠিত রূপ দেখা যায় এবং রোমান আমলের রুক্ষ ভূমি উর্বর কৃষিভূমিতে রূপান্তরিত হয়। সাকিয়া ও নোরিয়ার মতো পানি উত্তোলন যন্ত্র এবং সমবায়ভিত্তিক কৃষিব্যবস্থার মাধ্যমে পানি ও মাটির উর্বরতা সর্বোচ্চ দক্ষতায় ব্যবহৃত হতো। পানি ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, এ বিষয়ে তদারকি ও পরিচালনার জন্য প্রশাসন আলাদা একটি দপ্তর প্রতিষ্ঠা করেছিল। এই উন্নত সেচ ও কৃষি ব্যবস্থার ফলে সে সময় বিশাল খাদ্য উৎপাদন ও বাণিজ্যের পথ সুগম হয়েছিল।








