শেয়ার বাজার

আব্বাসী যুগে কৃষি ও সেচ ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আব্বাসী যুগে কৃষি ও সেচ ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন

ইতিহাসের আব্বাসী খেলাফত যুগে উমাইয়া আমলের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে কৃষি ও সেচ ব্যবস্থাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়। অনাবাদি জমি আবাদের আওতায় আনতে এবং প্রধান শহরগুলোতে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সে সময় ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফোরাত নদীর পানি নিয়ন্ত্রণ ও শাখা খালের মাধ্যমে তা বহুদূর ছড়িয়ে দিতে একাধিক বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। এর ফলে পশ্চিম সাহারার উত্তরাঞ্চল থেকে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সেচ প্রদান ও চাষাবাদ করা সম্ভব হয়েছিল।

রাজধানী বাগদাদ ও এর আশপাশের অঞ্চলে পানি সরবরাহের জন্য একাধিক বাঁধ ও খালের এক বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়। দজলা নদী থেকে নাহরাওয়ান খাল ব্যবস্থার সংযোগ ঘটিয়ে কৃত্রিম পানিপ্রবাহের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এছাড়া দামেস্ক ও সামাররার মতো অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ খাল এবং জলচক্র বা নরিয়ার সাহায্যে পানি সংগ্রহ করে তা বাগান ও পুকুরে পৌঁছানো হতো। রাস্তাঘাট ও বাসাবাড়িতে পানি বণ্টনের পরিমাণ নির্ধারণে অনুপাত ও পাটিগণিতের প্রয়োগ করা হতো এবং তা কঠোরভাবে তদারক করা হতো।

কৃষিখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে খলিফারা উদ্ভিদের ধরন ও মাটির উপযোগিতা নিয়ে গবেষণা শুরু করেন এবং কৃষকদের করের হার কমিয়ে দেন। ব্যাবিলন, শাম ও মিসরের প্রাচীন কৃষি পদ্ধতি এবং গ্রিক উদ্ভিদবিদ্যার গ্রন্থ আরবিতে অনুবাদের মাধ্যমে কৃষিতে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও কৌশল প্রয়োগ করা হয়। ভারত থেকে আখ এনে তা বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া ছাড়াও কফিকে মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তোলা হয়েছিল। আন্দালুসিয়া ও সিসিলির মতো অঞ্চলে তুলা, আখ ও বিভিন্ন ফলমূলের চাষ ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছিল।

মুসলিম শাসনামলে আন্দালুসে বা স্পেনে কৃষি ও সেচব্যবস্থার সবচেয়ে সুসংগঠিত রূপ দেখা যায় এবং রোমান আমলের রুক্ষ ভূমি উর্বর কৃষিভূমিতে রূপান্তরিত হয়। সাকিয়া ও নোরিয়ার মতো পানি উত্তোলন যন্ত্র এবং সমবায়ভিত্তিক কৃষিব্যবস্থার মাধ্যমে পানি ও মাটির উর্বরতা সর্বোচ্চ দক্ষতায় ব্যবহৃত হতো। পানি ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, এ বিষয়ে তদারকি ও পরিচালনার জন্য প্রশাসন আলাদা একটি দপ্তর প্রতিষ্ঠা করেছিল। এই উন্নত সেচ ও কৃষি ব্যবস্থার ফলে সে সময় বিশাল খাদ্য উৎপাদন ও বাণিজ্যের পথ সুগম হয়েছিল।


ঝিনাইদহে সোলার পাম্প ব্যবহারে কমছে সেচ খরচ ও বাড়ছে উৎপাদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঝিনাইদহে সোলার পাম্প ব্যবহারে কমছে সেচ খরচ ও বাড়ছে উৎপাদন

জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের চড়া দামের কারণে কৃষিকাজে সেচ ব্যয় কৃষকদের জন্য একটি বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে ঝিনাইদহের বিভিন্ন উপজেলায় সোলার পাম্প স্থাপনের মাধ্যমে সেচ কার্যক্রমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। সৌরশক্তির ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন সেচ খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, অন্যদিকে কৃষিপণ্যের উৎপাদনেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এতে জেলার প্রান্তিক কৃষকদের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটেছে এবং চাষাবাদে তাদের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) কারিগরি সহায়তায় রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশনের (আরআরএফ) ‘স্মার্ট’ প্রকল্পের মাধ্যমে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় ঝিনাইদহ সদর, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলায় ইতোমধ্যে মোট ৩৬টি সোলার পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় তিনটি, কোটচাঁদপুরে একটি এবং মহেশপুর উপজেলায় ৩২টি সোলার পাম্প রয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য এলাকাতেও এই ধরনের পরিবেশবান্ধব সেচ পাম্প স্থাপনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সোলার পাম্পের সুবিধাভোগী কৃষকদের মতে, ডিজেলচালিত প্রচলিত সেচব্যবস্থার তুলনায় সৌরবিদ্যুতের পাম্পে খরচ অনেক কম হয়। নিজেদের জমির সেচ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি তারা অন্য কৃষকদের জমিতেও পানি সরবরাহ করে অতিরিক্ত আয় করছেন। বিশেষ করে মহেশপুরের সীমান্তবর্তী এলাকার ফুলচাষিদের জন্য এই সেচব্যবস্থা এক নতুন সম্ভাবনার সূচনা করেছে। স্থানীয় কৃষকরা ঋণ ও অনুদানের সহায়তা নিয়ে নিজেদের জমিতে এসব সোলার পাম্প স্থাপন করেছেন।

আরআরএফের সিনিয়র সহকারী পরিচালক কৃষিবিদ ড. অসিত বরণ মণ্ডল জানান, প্রকল্পের মাধ্যমে সামনে আরও একশটির বেশি সোলার পাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। আগে প্রতি বিঘা জমিতে সেচ বাবদ চার থেকে পাঁচশ টাকা খরচ হলেও সোলার পাম্পে তা কমে প্রায় দুইশ টাকায় নেমে এসেছে। এর ফলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ হ্রাসের পাশাপাশি পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাবও হ্রাস পাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।