সম্প্রতি পোলট্রি ফিড তৈরিতে ব্যবহৃত প্রধান কাঁচামালের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকার খামারিরা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছেন। দিনাজপুর সদর উপজেলার পাঁচবাড়ির পোলট্রি খামারি মোমিনুল ইসলাম জানান, খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় তিনি মুরগির খাদ্যের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। এতে ব্রয়লার মুরগির কাঙ্ক্ষিত ওজন না পাওয়ায় বাজারে ভালো দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন খামারিরা। ক্রমবর্ধমান লোকসানের মুখে পড়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে খামারে উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছেন অথবা ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এক মাসের ব্যবধানে ভুট্টার দাম কেজিপ্রতি ৩১ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে ৩৮ টাকা ৮০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ডিওআরবির দাম ২৬ টাকা থেকে বেড়ে ৩৩ টাকা এবং চালের কুঁড়ার দাম ৩৩ টাকা থেকে বেড়ে ৩৯ টাকা হয়েছে। পাশাপাশি সরিষার খৈল ও সয়াবিন মিলের দামও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ডলারের বিনিময় হারের ওঠা-নামা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ভুট্টার দাম বেড়ে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের ফিডের বাজারে।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, মানসম্মত ফিড তৈরির মোট খরচের প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই কাঁচামাল কেনায় ব্যয় হয়। বগুড়া সদরের খামারি হাফিজুর রহমান জানান, বিভিন্ন প্রাণিজ খাবারের দাম কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়ে যাওয়ায় প্রতি বস্তা ফিডের দাম ১৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। গাজীপুরের বিক্রেতা সলিম উল্যাহ উল্লেখ করেন যে, বেশি দামে ফিড কিনে বিক্রির কারণে বাজারে ক্রেতার সংখ্যাও কমে গেছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ প্রান্তিক পোলট্রি খামারি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাসেল প্রধান স্থানীয় কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং আমদানিকৃত কাঁচামালের শুল্ক কমানোর দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মো. শফিকুর রহমান শিশির স্থানীয় চাহিদা পূরণ এবং আমদানির কর সাময়িকভাবে সমন্বয় করার পরামর্শ দিয়েছেন। ফিডের দাম এভাবে বাড়লে সামগ্রিকভাবে পোলট্রি, মাছ ও গবাদিপশু উৎপাদনের খরচ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।








