আর্থিক সংকটে পড়া শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে আমানতের টাকা তুলতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকেরা। ব্যাংকটি থেকে মূল টাকা এককালীন তুলতে চাইলে আমানতকারীদের মুনাফা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই বিষয়ে কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ বা মামলা করা যাবে না মর্মে একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর নেওয়া হচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তীব্র আর্থিক অনিয়মের জেরে অতীতে সংকটে পড়া এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করার মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রতিষ্ঠানটি দাঁড় করানো হয়। গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে সরকারের উদ্যোগে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, যারা নিজেদের জমানো মূল টাকা একসঙ্গে তুলে নিতে চান, তাদের দুই পৃষ্ঠার একটি ‘আবেদনপূর্বক অঙ্গীকারনামা’ পূরণ করতে হচ্ছে। এই অঙ্গীকারনামার শর্ত অনুযায়ী, মূল টাকা পাওয়ার পর হিসাবের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়ে যাবে এবং গ্রাহক বা তাদের উত্তরাধিকারীরা ভবিষ্যতে কোনো ধরনের দাবি বা আপিল করতে পারবেন না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক ব্যাংকটি থেকে আমানত তুলে নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন এবং একটি বড় অংশ ইতিমধ্যে টাকা তুলে নিয়েছেন। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমানতের ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট বা মুনাফা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেও, এককালীন টাকা তোলার শর্ত হিসেবে মুনাফা ও আইনি অধিকার ছাড়ার এই নিয়ম বহাল রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে যাঁরা টাকা তুলতে চাচ্ছেন, তাঁদের মুনাফা কেটে রাখা হচ্ছে এবং সংকট কাটলে অন্যরা মুনাফাসহ টাকা ফেরত পাবেন।
এদিকে এমন শর্তযুক্ত অঙ্গীকারনামা আদায় করার ঘটনায় গ্রাহকরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং এটিকে অবৈধ ও আর্থিক ক্ষতির কারণ বলে অভিহিত করেছেন। অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন যে, প্রধান কার্যালয় থেকে নিয়ম শিথিল করার কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ের শাখাগুলো তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করছে না। এছাড়া টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা ও জটিলতার কারণে অনেক আমানতকারী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সার্বिक এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি বিভাগীয় প্রধান ও শাখা ব্যবস্থাপকদের কাছে মেয়াদি আমানতের মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ এবং হিসাব যাচাই করে অর্থ পরিশোধের বিষয়ে নতুন নির্দেশনা পাঠিয়েছে।








